এক সময় ব্যালন ডি’অরের সমার্থকই ছিল মেসি আর রোনালদো নাম। ২০০৮ থেকে ২০১৭- টানা ১০ বছর দুই প্রতিদ্বন্দ্বীর মধ্যেই থেকেছে ফুটবলে ব্যক্তিগত পর্যায়ে সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ বর্ষসেরার এ পুরস্কার। ২০১৮ সালে এসে সে ধারায় ছেদ পড়ে লুকা মদরিচ পুরস্কারটি জিতে নেওয়ায়। তবে পুরস্কার না জিতলেও ২০০৩ সালের পর থেকে প্রতি বছরই মনোনীত ৩০ জনের তালিকায় ছিলেন মেসি কিংবা রোনালদো। ২০২৩-এ রোনালদো বাদ পড়েন। আর বুধবার রাতে ব্যালন ডি’অর পুরস্কারের আয়োজকদের দেওয়া ৩০ জনের প্রাথমিক তালিকায় নাম নেই ১৩ বার (মেসি আটবার, রোনালদো পাঁচবার) বর্ষসেরার স্বীকৃতি পাওয়া দুই কিংবদন্তির।
এর মধ্য দিয়ে একটি অধ্যায়েরও যেন অবসান হলো। কারণ, মেসি-রোনালদো দুজনই বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের সায়াহ্নে চলে এসেছেন। ইউরোপীয় ফুটবলের পাট চুকিয়ে দুজন পাড়ি জমিয়েছেন ভিন্ন মহাদেশে। আগামী বছরগুলোতে তাদের ব্যালন ডি’অরে বর্ষসেরা হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ বলেই মনে করেন ফুটবল বিশ্লেষকরা।
মেসি ও রোনালদোকে ছাড়াই নতুন ফুটবল বিশ্বের যাত্রা শুরু হলো এবারের সংক্ষিপ্ত তালিকার মধ্য দিয়ে। গেলবার মনোনয়নের তালিকায় ছিলেন এমন ১০ জন আছেন এবারের তালিকাতেও। অর্থাৎ নতুন করে ২০ জনের নাম ঢুকেছে ব্যালন ডি’অরের তালিকায়। এবার ব্যালন ডি’অরের ক্ষেত্রে মৌসুমের পারফরমেন্স বিবেচনা করা হয়েছে। ১ আগস্ট ২০২৩ থেকে ৩১ জুলাই ২০২৪ পর্যন্ত সময়। এ সময়ের মধ্যে মেসি দুটি শিরোপা জিতেছেন। চোটেও ভুগেছেন। জাতীয় দল আর্জেন্টিনার হয়ে কোপা আমেরিকা এবং ক্লাব ইন্টার মায়ামির হয়ে লিগস কাপ। আর রোনালদো দেশের হয়ে কিছুই জিততে পারেননি। ক্লাব আল নাসরের হয়ে ৪৫ ম্যাচে ৪৪ গোল করলেও ট্রফি জিতেছেন মাত্র একটি।
এবারের তালিকায় নেই, কিন্তু গেলবারের তালিকায় ছিলেন এমন ক্ষেত্রে মেসি বাদেও আছে বেশ কিছু বড় নাম রবার্ট লেভানডফস্কি, মোহামেদ সালাহ, কেভিড ডি ব্রুইন, লুকা মদরিচ, বার্নার্দো সিলভা, কেভিন ডি ব্রুইন, করিম বেনজেমা, আন্তোনিও গ্রিজমান উল্লেখযোগ্য। ডি ব্রুইন অবশ্য মৌসুমের বেশিরভাগ সময় ছিলেন ইনজুরিতে। গতবারের মতো এবারও আছেন এমন ১০ জন হলেন হালান্ড, এমবাপ্পে, রদ্রি, ভিনিসিউস, বেলিংহাম, কেইন, লাউতারো, এমি মার্তিনেজ, সাকা ও ওডেগার্ট।
২০২৪ ইউরো জেতা স্পেনের ছয়জন খেলোয়াড় আছেন মনোনয়নের তালিকায়। রানার্সআপ ইংল্যান্ড দলের আছেন ছয়জন।
এ ছাড়া একই দিনে নারী ফুটবলারদের ৩০ জনের তালিকায়ও প্রকাশ পেয়েছে। এ ছাড়া ইয়াশিন ট্রফি (সেরা গোলকিপার, পুরুষ) এবং কোপা ট্রফির (সেরা তরুণ) তালিকা, বর্ষসেরা ক্লাব (পুরুষ ও নারী), বর্ষসেরা কোচের তালিকাও প্রকাশ করা হয় (পুরুষ ও নারী)।
