হারিছ চৌধুরীর লাশ তুলে ডিএনএ টেস্টের নির্দেশ

আপডেট : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ০৭:৩৮ এএম

বিএনপি নেতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব আবুল হারিছ চৌধুরীর মরদেহ কবর থেকে তুলে ডিএনএ টেস্ট করাতে নির্দেশনা এসেছে উচ্চ আদালত থেকে। হারিছ চৌধুরীর মেয়ে সামিরা তানজিম চৌধুরীর করা এক রিট আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার বিচারপতি একেএম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি মুহাম্মদ মাহবুব উল ইসলামের হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ এ আদেশ দেয়। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) এ নির্দেশনা কার্যকরী করে আদালতে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

২০০৭ সালে দেশে জরুরি অবস্থা জারির পর হারিছ চৌধুরী সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার দর্পনগরে যান। ওই বছরের ২৯ জানুয়ারি জকিগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে ভারতে চলে যান এবং ভারতের আসামের করিমগঞ্জ জেলার বদরপুরে তার নানাবাড়িতে ওঠেন বলে তখন খবর আসে। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় তিনি অভিযুক্ত হলে ২০১৫ সালে তার বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিস জারি হয়। এরপর ২১ আগস্ট মামলায় ২০১৮ সালে তার যাবজ্জীবন সাজার রায় হয়।

একই বছরের ২৯ অক্টোবর জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় তার সাত বছরের কারাদ- হয়।

২০২২ সালের ১৫ জানুয়ারি একটি জাতীয় দৈনিকের প্রতিবেদনে হারিছ চৌধুরীর মেয়ে সামিরার বরাতে বলা হয়, করোনা আক্রান্ত হয়ে ২০২১ সালের ৩ সেপ্টেম্বর হারিছ চৌধুরী মারা যান। একই দৈনিকে ২০২২ সালের ৬ মার্চ আরেকটি প্রতিবেদনে বলা হয়, হারিছ চৌধুরী ভারত বা লন্ডনে যাননি। তিনি মৃত্যুর আগে দীর্ঘ ১৪ বছর দেশেই ছিলেন এবং ১১ বছর ছিলেন ঢাকার পান্থপথের একটি বাসায়। মাহমুদুর রহমান নামে তাকে সাভারের জালালাবাদ এলাকার একটি মাদ্রাসায় দাফন করা হয়।

রিট আবেদনের যুক্তিতে বলা হয়, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে গোয়েন্দা বিভাগ তার (সামিরা) বাবার মৃত্যুকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। হারিছ চৌধুরীর মৃত্যু নিয়ে ধোঁয়াশা কাটছে না। এ নিয়ে যেন কোনো প্রশ্ন না ওঠে সেজন্য এ রিট আবেদন করা হয়েছে। আদালতে আবেদনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মাহদীন চৌধুরী। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল রেদওয়ান আহমেদ রানজীব।

ব্যারিস্টার মাহদীন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ওই নামে (হারিছ চৌধুরী) কোনো ডেথ সার্টিফিকেট দেওয়া হয়নি। যেটি দেওয়া হয়েছিল তা উনি যে ছদ্মনামে ছিলেন সেই নামে। হারিছ চৌধুরীর সন্তান বলছে, তিনি (হারিছ চৌধুরী) তার বাবা। কিন্তু এ নিয়ে এখনো জটিলতা কাটেনি। তার প্রকৃত পরিচয়টি নিশ্চিত হতে এ রিট আবেদন করা হয়েছে। আদালত ডিএনএ টেস্টের নির্দেশ দিয়েছে।’

আইনজীবী বলেন, রুলে হারিছ চৌধুরীর মরদেহ তুলে ডিএনএ টেস্টের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, ডিএনএ টেস্টের প্রতিবেদন পজিটিভ আসার পর আবুল হারিছ চৌধুরীর নামে ডেথ সার্টিফিকেট কেন ইস্যু করা হবে না, তার নামে থাকা ইন্টারপোলের রেড নোটিস কেন প্রত্যাহার করা হবে না এবং হারিছ চৌধুরীর শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী তার নিজ জেলায় বীর মুক্তিযোদ্ধার যথাযথ সম্মান দিয়ে কেন কবরস্থ করা হবে না, তা জানতে চেয়েছে হাইকোর্ট।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত