পিটিআইকে ড. ইউনূস

সার্ক এখন কাগজে-কলমে, পুনরুজ্জীবিত করা প্রয়োজন

আপডেট : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ০৭:৪৮ পিএম

দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক) এখন কেবল কাগজে-কলমেই বিদ্যমান। সংস্থাটির চেতনার পুনরুজ্জীবন ঘটাতে হবে বলে মনে করেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, আমরা সার্কের নাম ভুলে গেছি, সার্কের চেতনাকে পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা করছি।

ঢাকায় নিজের সরকারি বাসভবনে ভারতের সংবাদমাধ্যম পিটিআইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন তিনি। শুক্রবার (৬ সেপ্টেম্বর) সাক্ষাৎকারটি প্রকাশিত হয়েছে।

আগামী ২৪ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৯তম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। ড. ইউনূস পিটিআইকে বলেন, জাতিসংঘের অধিবেশনের ফাঁকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সাক্ষাতের চেষ্টা করবেন। সার্কভুক্ত দেশগুলোর রাষ্ট্রপ্রধানদের ফটোসেশনের জন্য একত্রিত করার চেষ্টা করবেন বলেও জানান তিনি।

ড. ইউনূস বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সার্ক শীর্ষ সম্মেলন হচ্ছে না। নেপাল আঞ্চলিক গ্রুপিংকে সক্রিয় করার চেষ্টা করছে, যা ২০১৬ সাল থেকে খুব কার্যকর হয়নি। আমরা ঐক্যবদ্ধ হলে অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।

২০১৬ সালে সার্ক শীর্ষ সম্মেলন হওয়ার কথা ছিল ইসলামাবাদে। কিন্তু ওই বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর জম্মু ও কাশ্মীরের উরিতে ভারতীয় সেনা ছাউনিতে সন্ত্রাসী হামলার পর ‘বিদ্যমান পরিস্থিতির’ কারণে ভারত সার্ক শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিতে অপারগতা প্রকাশ করে। বাংলাদেশ, ভুটান ও আফগানিস্তানও ইসলামাবাদ সম্মেলনে যোগ দিতে অস্বীকৃতি জানানোর পর সম্মেলন বাতিল হয়ে যায়।

নোবেলজয়ী এ অর্থনীতিবিদ বলেন, যদিও সার্কের মতো একইভাবে গঠিত ইউরোপীয় ইউনিয়ন পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে অনেক কিছু অর্জন করতে পেরেছে, সার্ক এখনো তা অর্জন করতে পারেনি।

তিনি বলেন, আমাদের নিশ্চিত করতে হবে যাতে সার্ক কাজ করে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের দিকে তাকান এবং এটি কত চমৎকারভাবে কাজ করে। পাকিস্তানের সমস্যা হলে অন্য উপায়ে কাজ করা যেতে পারে। কিন্তু সার্কের কার্যক্রম যেন থেমে না যায়।

বাংলাদেশে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ প্রসঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, মিয়ানমারকে সেখানকার জনগণকে ফিরিয়ে নিতে রাজি করাতে তিনি ভারতের সহায়তা চাইবেন। সংকট মোকাবিলায় ঢাকার ভারত ও চীন উভয়ের সহায়তা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।

ড. ইউনূস বলেন, প্রায় ১০ লাখ মানুষ বাংলাদেশে এসেছে এবং এখন এই জনসংখ্যা বাড়ছে। এটি বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করছে। কিছু দেশ তাদের নিচ্ছে তবে সংখ্যায় কম। যেহেতু মিয়ানমারের সঙ্গে ভারতের সুসম্পর্ক রয়েছে, তাই মিয়ানমারকে তাদের ফিরিয়ে নিতে রাজি করাতে আমাদের ভারতের সহায়তা প্রয়োজন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত