মামলায় নাম না দিতে বিএনপির সঙ্গে আ.লীগ নেতাদের বৈঠক!

আপডেট : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ০৭:০৫ এএম

মামলা থেকে নাম বাদ দেওয়া ও নতুন নাম অন্তর্ভুক্ত করা নিয়ে সিরাজগঞ্জে বিএনপি ও আওয়ামী লীগ নেতাদের মধ্যে গোপন বৈঠক হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গত ২৭ আগস্ট হওয়া ওই বৈঠকের দৃশ্যের একটি ভিডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে জেলা জুড়ে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা।

সলঙ্গা থানার রামারচর এলাকার রয়েল রূপালী হোটেলে ওই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন সলঙ্গা থানা বিএনপির সভাপতি ও জেলা বিএনপির সহসভাপতি মতিয়ার রহমান সরকারসহ দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের আরও কয়েকজন নেতা।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে গত ৫ আগস্ট বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর হামলাসহ বাসাবাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির একাধিক নেতাকর্মী জানান, সহিংসতার ওইসব ঘটনায় করা মামলা থেকে আওয়ামী লীগ নেতাদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা ঠেকাতে ও নতুন নাম অন্তর্ভুক্ত করতে ২৭ আগস্ট গভীর রাতে সলঙ্গার রয়েল রূপালী হোটেলে একটি বৈঠক হয়। এতে অংশ নেন সলঙ্গা থানা বিএনপির সভাপতি ও জেলা বিএনপির সহসভাপতি মতিয়ার রহমান সরকার, সলঙ্গা থানা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আব্দুর রশীদ, সলঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শফি কামাল শফি, কেন্দ্রীয় যুবলীগের সাবেক সদস্য, থানা যুবলীগের সভাপতি ও সলঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান মোখলেছুর রহমান এবং আওয়ামী লীগ নেতা শামসুল আলম ও আনোয়ার হোসেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির স্থানীয় এক নেতা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মামলা থেকে নাম বাদ দেওয়া ও নতুন নাম অন্তর্ভুক্ত করতেই গোপন বৈঠকটি হয়েছে। এতে বিএনপির ভাবমূর্তি ক্ষুণœ হচ্ছে। বৈঠকে অংশ নেওয়া বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে দ্রুত সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাই।’ এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সলঙ্গা থানা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আব্দুর রশীদ ওই বৈঠকের বিষয়টি স্বীকার করে সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি একটু অসুস্থ।’ তবে বৈঠকে দুই দলের নেতাদের মধ্যে কী বিষয়ে কথা হয়েছে সেটা তিনি বলেননি।

এ বিষয়ে সলঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা শফি কামাল শফি বলেন, ‘বিএনপি নেতা মতিয়ার রহমানের সঙ্গে আমাদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক আছে। সেই সম্পর্কের খাতিরে রামারচর এলাকার রয়েল রূপালী হোটেলে বসেছিলাম। তবে আমাদের মামলাসংক্রান্ত কোনো আলাপ হয়নি।’

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সলঙ্গা থানা বিএনপির সভাপতি ও জেলা বিএনপির সহসভাপতি মো. মতিয়ার রহমান

সরকার বৈঠকের বিষয়টি স্বীকার করেন। তবে আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে কোনো ‘আঁতাত’ হয়নি বলে দাবি করেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত