ছাত্র-জনতার হামলায় থানা পুলিশের কাছ থেকে ৫ হাজার ৮১৮টি অস্ত্র লুট হয়েছে। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত ৩ হাজার ৯৩৩টি অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে। এখনো ১ হাজার ৮৮৫টি অস্ত্র উদ্ধার হয়নি। এ ছাড়া প্রায় ৩ লাখ লুট হওয়া গোলাবারুদ এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
গতকাল শনিবার স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা কার্যালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানা গেছে।
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সারা দেশে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা বিভিন্ন থানা ও পুলিশ ফাঁড়িতে অগ্নিসংযোগ এবং হামলা করে। ওই সময় অস্ত্র-গোলাবারুদ লুট করে দুর্বৃত্তরা। গত ৩ সেপ্টেম্বর ছিল অস্ত্র-গোলাবারুদ জমা দেওয়ার শেষ দিন। এরপর ৪ সেপ্টেম্বর থেকে থানা ও ফাঁড়ি থেকে লুট হওয়া এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান চালাচ্ছে যৌথবাহিনী।
পুলিশ সদর দপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সেনাবাহিনী, পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী, কোস্ট গার্ড এবং র্যাবের সমন্বয়ে যৌথ অভিযানে গত ৪ সেপ্টেম্বর থেকে গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত ৫৩টি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। অস্ত্র উদ্ধারের সময় দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ২৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উদ্ধার করা অস্ত্রের মধ্যে রিভলবার দুটি, পিস্তল ১৮টি, রাইফেল দুটি, শটগান ১১টি, পাইপগান দুটি, শুটারগান ছয়টি, এলজি তিনটি, বন্দুক তিনটি, একে-৪৭ রাইফেল একটি, গ্যাসগান একটি, চাইনিজ রাইফেল একটি, এয়ারগান একটি ও এসবিবিএল তিনটি।
যেসব অস্ত্র এখনো উদ্ধার করা যায়নি : লুট হওয়া অস্ত্রের মধ্যে চাইনিজ রাইফেল উদ্ধার ৮৩৯টি, উদ্ধার হয়নি ২৯৬টি। বাংলাদেশি রাইফেল উদ্ধার ৯টি, উদ্ধার হয়নি একটি। এসএমজি উদ্ধার ১৯১টি, উদ্ধার হয়নি ৬০টি। এলএমজি উদ্ধার ২১টি, উদ্ধার হয়নি ১১টি। ৯ মিমি পিস্তল উদ্ধার ৭৩১টি, উদ্ধার হয়নি ৮২৫টি। ৯ মিমি এসএমজি/এসএমটি উদ্ধার ৩২টি, উদ্ধার হয়নি একটি। শটগান উদ্ধার ১ হাজার ৬২৪টি, উদ্ধার হয়নি ৫৬৭টি। গ্যাসগান ৪৭৬টি উদ্ধার, উদ্ধার হয়নি ১১৭টি। টিয়ার গ্যাস লঞ্চার (সিক্স শট) উদ্ধার ৯টি, উদ্ধার হয়নি পাঁচটি এবং সিগন্যাল পিস্তল উদ্ধার একটি, উদ্ধার হয়নি দুটি।
যত গোলাবারুদ এখনো উদ্ধার করা যায়নি : বিভিন্ন বোরের গুলি উদ্ধার হয়েছে ৩ লাখ ১২ হাজার ৮৫৭টি, উদ্ধার করা যায়নি ২ লাখ ৯৪ হাজার ৪০৫টি। টিয়ার গ্যাসের শেল উদ্ধার ২৩ হাজার ১৯৪টি, উদ্ধার করা যায়নি ৮ হাজার ৮১১টি। টিয়ার গ্যাস গ্রেনেড উদ্ধার ৭০৪টি, উদ্ধার করা যায়নি ৭৫১টি। সাউন্ড গ্রেনেড উদ্ধার ২ হাজার ১২৮টি, উদ্ধার সম্ভব হয়নি ২ হাজার ৫৬৪টি। কালার স্মোক গ্রেনেড উদ্ধার ২১৩টি, উদ্ধার করা যায়নি ৭৮টি। মাল্টিপল ব্যাং স্টান গ্রেনেড উদ্ধার ১৮টি, উদ্ধার করা যায়নি ৩৭টি। ফ্ল্যাশ ব্যাং গ্রেনেড উদ্ধার ৫৩৩টি, উদ্ধার করা যায়নি ৩৬০টি। গ্যান্ড হেল্ড টিয়ার গ্যাস স্প্রে (ক্যানিস্টার) উদ্ধার ৯৪টি, উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি ৮৩টি।
