জলবায়ু নীতি ও পরিকল্পনা সংস্কারের প্রস্তাব নাগরিক সমাজের

আপডেট : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ০৭:৩৫ এএম

দলীয় রাজনৈতিক উচ্চাকাক্সক্ষা বাস্তবায়নে তৈরি এবং অগণতান্ত্রিক উল্লেখ করে ‘মুজিব জলবায়ু সমৃদ্ধি পরিকল্পনা’ বাতিলের দাবি জানিয়েছে ‘জলবায়ু ন্যায্যতা জোট-বাংলাদেশ’। এ ছাড়া জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনার স্থানীয়করণ এবং স্থানভিত্তিক জলবায়ু ঝুঁকিগ্রস্ততা নিরূপণের মাধ্যমে স্থানীয় অভিযোজন পরিকল্পনা প্রণয়ন, অংশগ্রহণমূলক ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় এনডিসি-৩ তৈরি করা, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাতে ‘নিট-জিরো অর্থনীতি’ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে রোডম্যাপ প্রণয়নসহ বেশ কয়েকটি জাতীয় জলবায়ু নীতি-পরিকল্পনায় যৌক্তিক সংস্কারের দাবি তুলেছেন জোটের নেতারা। 

গতকাল শনিবার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলার নীতি-পরিকল্পনা প্রণয়নে স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা এবং এদের বাস্তবায়নে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় নাগরিক সমাজের সংস্কার ভাবনা’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানানো হয়।

সেন্টার ফর পার্টিসিপেটরি রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (সিপিআরডি) নেতৃত্বাধীন ৩৯টি নাগরিক সংগঠন এবং উন্নয়ন সহযোগী সংগঠনের জোট ‘জলবায়ু ন্যায্যতা জোট-বাংলাদেশ’ ওই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।

সংবাদ সম্মেলনের প্রধান বক্তা সিপিআরডির প্রধান নির্বাহী ও ‘জলবায়ু ন্যায্যতা জোট-বাংলাদেশ’-এর সমন্বয়কারী মো. শামছুদ্দোহা তাদের দাবিগুলোর পক্ষে যুক্তি ও তথ্য উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, ‘জলবায়ু অর্থায়নের জাতীয় তহবিল ‘বাংলাদেশ ক্লাইমেট চেঞ্জ ট্রাস্ট ফান্ড-বিসিসিটিএফ’ ও এর আইনি কাঠামো ‘ক্লাইমেট চেঞ্জ ট্রাস্ট অ্যাক্ট’-এ দলীয় সরকার, আমলাতন্ত্র ও পেশাজীবীদের আধিপত্যের কারণে অবাধ দুর্নীতির সুযোগ তৈরি করেছে। বিসিসিটিএফ পরিচালনায় ১৭ সদস্যবিশিষ্ট ট্রাস্টি বোর্ডের ১৪ জনই মন্ত্রী, একজন সচিব এবং দুজন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি। দুজন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি সরকারদলীয় মন্ত্রীর আমন্ত্রণে বোর্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত হন, যারা প্রকারান্তরে দলীয় সরকারেরই অংশ।’ ফান্ডের অর্থ বরাদ্দে দুর্নীতি ও অনিয়ম বন্ধে বিসিসিটিএফ ও এর আইনি কাঠামোর আমূল সংস্কারের দাবি করেন তিনি।

‘মুজিব জলবায়ু সমৃদ্ধি পরিকল্পনা’ বাতিলের দাবি জানিয়ে শামছুদ্দোহা বলেন, “বিগত সরকার সম্পূর্ণ অগণতান্ত্রিকভাবে এবং তাদের রাজনৈতিক উচ্চাকাক্সক্ষা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ‘মুজিব জলবায়ু সমৃদ্ধি পরিকল্পনা’ প্রণয়ন করেছিল। সাবেক সরকারের এসডিজি বিষয়ক মূখ্য সমন্বয়কারীর একক তত্ত্বাবধানে সম্পূর্ণভাবে বিদেশি পরামর্শকদের দ্বারা এবং কোনো ধরনের অংশীজন আলোচনা ছাড়াই এ পরিকল্পনাটি তৈরি করা হয়। এটি দেশের অন্যান্য পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্যহীন এবং সর্বতোভাবেই বিদেশি ঋণনির্ভর হয়ে উঠেছে, ফলে এটি দেশের সমৃদ্ধি অর্জনে সহায়ক না হয়ে দেশকে আরও দেনাগ্রস্ত করবে।”

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন স্টামফোর্ড বিশ^বিদ্যালয় বাংলাদেশের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক, ড. আহমদ কামরুজ্জমান মজুমদার, সুশীলনের উপনির্বাহী পরিচালক মো. নাসির উদ্দিন ফারুক, নাগরিক উদ্যোগের গবেষক ফারহান হোসেন জয়, প্র্যাকটিক্যাল অ্যাকশনের ক্লাইমেট অ্যান্ড রেজিলিয়েন্সবিষয়ক থিমেটিক লিড তামান্না রহমান, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের উপব্যবস্থাপক আহসানুল ওয়াহেদ প্রমুখ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত