বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারকে জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমে কাজগুলো সম্পূর্ণ করতে হবে। এই মুহূর্তে জাতীয় ঐক্যের বিকল্প নেই। যে শক্তি দেশকে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে ধ্বংস করে দিয়েছে। সেই শক্তিকে যদি পরাজিত করতে হয়, জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমে যে ঐকমত্য সৃষ্টি হয়েছে, সেটাকে অক্ষুন্ন রাখতে হবে।
গতকাল রবিবার সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এবি পার্টি আয়োজিত ‘অন্তর্বর্তী সরকারের এক মাস : কেমন গেল, কেমন যেতে পারত!’ শীর্ষক আলোচনা সভায় আমীর খসরু এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশটা আমার, এটা এখন প্রত্যেকে বলতে পারি। এখন সময় বদলে গেছে। যারা নিজের জীবন দিয়েছে, পঙ্গু হয়েছে, গুম হয়েছে, চাকরি হারিয়েছে, বাড়িঘর ছেড়েছে, তাদের ত্যাগকে স্বীকার করতে হবে। সর্বশেষে ছাত্র আন্দোলনের সফল পরিসমাপ্তি হয়েছে। জনগণ কী ভাবছে? তাদের প্রত্যাশা ও আকাক্সক্ষা কী? আমরা যারা রাজনীতি করি, আমাদের তা জানতে হবে। এটা যারা বুঝবে না, আগামী দিনের রাজনীতির প্রেক্ষাপটে তারা খুব বেশি এগোতে পারবে না। শেখ হাসিনা এবং তার পরিবার দেশের মালিকানা কেড়ে নিয়েছিল। জনগণ সেই মালিকানা ফিরে পেয়েছে।’
বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘সকালে মান্না ভাই বলেছেন, কেমন আছেন? আমি বলছি, ১ মাস ৩ দিন আগে থেকে ভালো আছি। কারণ তার আগে আমি জেলে ছিলাম। আমরা গত ১৭ বছর থেকে ভুগছি। মুক্ত দেশ পেয়েছি, মুক্ত আবহাওয়া পেয়েছি। কোনো শঙ্কা নেই। এটাকে ধরে রাখতে হবে। শেখ হাসিনা পালানোর পর মানুষের মনোজগতে পরিবর্তন হয়েছে।’
নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘এক মাসে অনেকেই শত শত প্রস্তাব নিয়ে আসছে। কিন্তু সরকারকে ঠিক করতে হবে এই সময়ে দেশ ও দেশের জনগণের মৌলিক প্রয়োজন কী? কোনো বিতর্কিত বিষয় নিয়ে আলোচনা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাজ না।’
শিক্ষাবিদ ড. দিলারা চৌধুরী বলেন, ‘অনেকে বলছেন এটা একটা বিপ্লবী সরকার। আসলে এটা একটা গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সরকার। যেহেতু এই সরকার বর্তমান সংবিধানকে মেনে চলছে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় পুলিশকে সক্রিয় করার কোনো বিকল্প নেই। আমরা একটা গণতান্ত্রিক, মানবিক দেশ চাই।’
এবি পার্টির আহ্বায়ক এএফএম সোলায়মান চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব মজিবুর রহমান মঞ্জুর সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন, ১২ দলীয় জোটের মোস্তফা জামাল হায়দার, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকি প্রমুখ।
