রাজধানীর গুলশানে এক্সিম ব্যাংকের শাখায় ডাকাতির চেষ্টাকালে আটক ১০ জনের মধ্যে ৯ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গতকাল রবিবার চার দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। গ্রেপ্তার আরেকজন অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গত শুক্রবার মধ্যরাতে গুলশান-২ এলাকার ফাইন্যান্স স্কয়ার নামে একটি বহুতল ভবনের দ্বিতীয়তলায় এক্সিম ব্যাংকের ওই শাখায় ডাকাতির চেষ্টা হয়। যদিও সেই চেষ্টা নস্যাৎ করে দেয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
পুলিশ জানায়, শুক্রবার রাত সোয়া ১টার দিকে ৬০-৭০ জনের একটি দল ফাইন্যান্স স্কয়ার ভবনের পাশের গলিতে অবস্থান নিয়েছিল। বহুতল ভবনটিতে ঢোকার আগে কেটে ফেলা হয় সিসিটিভি ক্যামেরার সংযোগ। এরপর তারা একাধিক দলে বিভক্ত হয়ে বিভিন্নভাবে ভবনের ভেতরে ঢোকে। তাদের সবার মুখে মাস্ক ছিল। প্রথমে ওই ভবনে ঢুকে দায়িত্বরত নিরাপত্তাকর্মীসহ শতাধিকজনকে মারধর ও অস্ত্রের মুখে হাত-পা বেঁধে ফেলে ডাকাত দলের সদস্যরা। পরে দ্বিতীয়তলায় এক্সিম ব্যাংকে ঢোকে ডাকাত দলের একটি গ্রুপ। সেখানে ভাঙচুর চালানো হয় এবং বুথ ভেঙে টাকা সরানোর চেষ্টা চলে। তবে এরই মধ্যে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় পুলিশ ও সেনাবাহিনীর কয়েকটি গাড়ি। স্থানীয়দের সহযোগিতায় ১০ জনকে আটক করতে সক্ষম হয় পুলিশ। তবে বাকিরা পালিয়ে যায়। সেদিন রাতেই ঘটনাস্থলে যান এক্সিম ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। পুলিশের উপস্থিতিতে রাতভর ডাকাতদের অবস্থান সন্দেহে ভবনটিতে তল্লাশি চালানো হয়। জব্দ করা হয় বেশ কিছু আলামত। এ ঘটনায় গুলশান থানায় হওয়া মামলায় গ্রেপ্তার আসামিদের গতকাল রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত।
গুলশান-২-এর ১০৩ নম্বর সড়কে ২০-তলা ফাইন্যান্স স্কয়ার ভবনের দ্বিতীয়তলায় এক্সিম ব্যাংকের অফিস। একই ভবনের পাঁচটি তলায় চলে পদ্মা ব্যাংকের কার্যক্রম। এ ছাড়া বিদেশি একটি কোম্পানি ও বেসরকারি কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পরিচালিত হয় এই ভবনে।
ভবনটির নিরাপত্তা ব্যবস্থাপক মাইনুদ্দিন বলেন, রাত ১টার দিকে প্রধান ফটকের ব্যারিকেড ও দেয়াল টপকে ভেতরে ঢুকে পড়ে অর্ধশতাধিক বহিরাগত। তারা প্রথমেই সিসিটিভি ক্যামেরার সংযোগ কেটে দেয়। কোনো কোনো স্থাপনা ভেঙে ফেলে। এরপর খুব দ্রুতগতিতে তারা নিরাপত্তাকর্মীদের হাত-পা ও মুখ বেঁধে ফেলে। এ সময় বেশ কয়েকজনকে মারধর করা হয়। এরপর তারা দ্বিতীয়তলায় এক্সিম ব্যাংকে ঢোকার চেষ্টা করে। সেখানে ভাঙচুর চালানো হয় ও বুথ ভেঙে ফেলা হয়।
ওই রাতে ভবনটিতে দায়িত্বে থাকা এক নিরাপত্তা প্রহরী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মধ্যরাতে এই এলাকায় এমন ঘটনা ঘটবে, তা কখনো ভাবিনি। সাধারণত রাত ১২টার পর এই এলাকা শান্ত হয়ে যায়। শুক্রবার রাতে যারা এসেছিল, তাদের কাউকে আগে কখনো দেখিনি। এই গুলশান এলাকার কেউ বলেও মনে হয়নি। দুটি গাড়ি ও বেশ কয়েকটি মোটরসাইকেল নিয়ে প্রথমে পাশের গলিতে অবস্থান নেয় অর্ধশতাধিক মানুষ। এরপর দেয়াল ও ব্যারিকেড টপকে ভবনে ঢুকে পড়ে তারা। অধিকাংশের মুখে ছিল মাস্ক।’
এ প্রসঙ্গে গুলশান থানার ওসি মো. তৌহিদ আহম্মেদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় পুলিশ। ১০ জনকে আটক করা হয়েছে। এক্সিম ব্যাংকে ডাকাতির চেষ্টার ঘটনায় ব্যাংক কর্র্তৃপক্ষ বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা করেছে। ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে ১০ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হলে ৯ জনকে চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। একজন অসুস্থ থাকায় তাকে হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য রাখা হয়েছে।’
পুলিশের গুলশান বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ রিয়াজুল হক বলেন, ‘কে বা কারা ডাকাতি করতে এসেছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যারা গ্রেপ্তার হয়েছে, তারা কেউই গুলশান এলাকার নয়। জিজ্ঞাসাবাদ করে বের করা হবে এ ঘটনার নেপথ্যে কে বা কারা ছিল।’
৯ জনকে চার দিনের রিমান্ড : ডাকাতিচেষ্টার ঘটনায় গুলশান থানায় হওয়া মামলায় গ্রেপ্তার ১০ জনকে আসামি করা হয়েছে। তারা হলো আশরাফ রহমান, আশেকুর রহমান, মো. আলমাছ, মো. সোহেল, মো. রতন ইসলাম, সৈয়দ শহিদ, মো. হারুন অর রশিদ, মো. রায়হান সরকার, মো. শরিফুল ইসলাম ও আহম্মেদ হোসেন। এ মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৫০-৬০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
