পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন বলেছেন, সীমান্ত হত্যা অগ্রহণযোগ্য। এটা দুই দেশের ভালো সম্পর্ক সৃষ্টির ক্ষেত্রে অন্তরায়। গতকাল সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এ কথা বলেন।
ঠাকুরগাঁওয়ে সীমান্ত হত্যার ঘটনায় প্রতিবাদ জানানো হবে কি নাÑ এমন প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, আমি এটার অপেক্ষা করছি। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) কনফার্ম করলে আমরা অবশ্যই শক্তভাবে প্রতিবাদ জানাব। যখন বলা হতো ভারতের সঙ্গে সোনালি অধ্যায় চলছে, তখনো ঠিক একই ঘটনা চলছিল। কাজেই এটার কোনো পরিবর্তন হয়নি।
তৌহিদ হোসেন বলেন, সীমান্ত হত্যা যেটা হয়, সেটা দুই দেশের ভালো সম্পর্ক সৃষ্টির ক্ষেত্রে একটা অন্তরায়। সব ভালো সম্পর্ক তো শুধু দুই দেশের সরকারের বিষয় না। মানুষের বিষয় আছে। একটি মানুষ যখন সীমান্তে গুলি খেয়ে মারা যায়, সারা দেশের মানুষের মধ্যে এটার প্রতিক্রিয়া হয় এবং সেটা একটা ন্যারেটিভ হয়; এটা আমরা চাই না।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক হবে ন্যায্যতা ও সমতার ভিত্তিতে। এ বিষয়ে তৌহিদ হোসেন বলেন, উনি যেটা বলেছেন, সেটাই একচুয়াল পজিশন। আমরা অবশ্যই ভালো সম্পর্ক চাই। সেটা অবশ্যই সার্বভৌম সমতার ভিত্তিতে এবং আমরা চাই যে, সম্পর্ক একতরফা হওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। দুই পক্ষের সম্পর্কের ভিত্তিতে।
সীমান্ত-সংলগ্ন ভারতের দুটি রাজ্যে নানা রকম অস্থিরতা যাচ্ছে। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ সীমান্তে বাড়তি সর্তকতা জারি করেছে কি না, জানতে চাইলে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, আমার জানা মতে আমরা এখন পর্যন্ত অতিরিক্ত সতর্কতা জারি করিনি। স্বরাষ্ট্র (মন্ত্রণালয়) যদি মনে করে সেরকম করার প্রয়োজন আছে, তখন তারা সেটা করবে।
ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে জয়ন্ত কুমার সিংহ (১৫) নামে বাংলাদেশি এক কিশোর নিহত হয়েছে। এর আগে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি কিশোরী স্বর্ণা দাশ নিহত হয়। ওই ঘটনায় ভারত সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ।
রাষ্ট্রপতির সেকেন্ড হোম আলোচানার খোঁজ নেবে না পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়: রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের মালয়েশিয়ায় সেকেন্ড হোম বা দুবাইয়ে বিনিয়োগ নিয়ে সামাজিক গণমাধ্যমে কিছু ডকুমেন্ট প্রকাশ পেয়েছে। এগুলো যাচাই-বাছাইয়ের কাজ করবে না পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। গতকাল পররাষ্ট্র উপদেষ্টা সাংবাদিকদের বলেন, এর সঙ্গে সম্পর্কিত কোনো কাজ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের না। এটি রাষ্ট্রপতির বিষয় এবং খুব স্পর্শকাতর। এটি যথাযথ কর্র্তৃপক্ষ দেখুক। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যদি যুক্ত হয়, সেটি শেষ পর্যায়ে গিয়ে হবে।
রাষ্ট্রপতি মালয়েশিয়ার নাগরিক কি না, সেটি জানতে চাইবেন নাকি এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, অনুমানের ভিত্তিতে আমি আমার দূতাবাসের কাছে কোনো কিছু জানতে চাইব না।
এর আগে প্রবাসী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের তার এক ফেসবুক পোস্টে দাবি করেন, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের মালয়েশিয়ায় সেকেন্ড হোম রয়েছে। রাষ্ট্রপতির দুবাইয়ে ব্যবসা ও সেখানে বসবাসের অনুমতি (রেসিডেন্সি পারমিট) রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
