সাবেক প্রতিমন্ত্রী নজরুলসহ ১১২ জনের বিরুদ্ধে মামলা

আপডেট : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ১০:৩৬ এএম

২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চন্দনাইশ পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ড চন্দনাইশ আইডিয়াল স্কুল ভোট কেন্দ্রে গোলাগুলি ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় সাবেক শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব মো. নজরুল ইসলাম চৌধুরী, তার ভাই জসিম উদ্দিন চৌধুরী মন্টু, চন্দনাইশের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুল জব্বার চৌধুরী ও তার ভাই চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আবদুল কৈয়ূম চৌধুরী, চন্দনাইশ পৌরসভার সাবেক মেয়র মু. মাহাবুবুল আলম খোকা, চন্দনাইশ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু আহমেদ চৌধুরী জুনুসহ ১১২ জনকে আসামি করা হয়েছে। এরমধ্যে ৮৭ জনের নাম উল্লেখ করা হয় এবং ২০–২৫ জন অজ্ঞাতনামা।

চন্দনাইশ পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ড মধ্যম চন্দনাইশ মৃত আবদুল জব্বারের পুত্র ও পৌরসভা গণতান্ত্রিক শ্রমিক দলের সহ-সভাপতি মো. আলমগীর বাদি হয়ে সোমবার (৯ সেপ্টেম্বর) চন্দনাইশ থানায় মামলাটি দায়ের করেন।

মামলার এজাহারে বলা হয়, গত ৩০ ডিসেম্বর ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণের জন্য নির্ধারিত তারিখে লিবালের ডেমোক্রেটিক পার্টি এল.ডি.পি প্রেসিডেন্ট ড. কর্ণেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম এর পক্ষে ছাতা মার্কায় ভোট প্রদানের নিমিত্তে বাদী মো. আলমগীর, ভিকটিমগণ, সাক্ষীগণ ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ  ২৯ ডিসেম্বর ২০১৮ সালের দিবাগত রাত ১০টা হতে ১২ টা বৈঠক করে নিজ নিজ গৃহে যাওয়ার সময়ে রাত ১টা অর্থাৎ ৩০ ডিসেম্বর ২০১৮ সালের রাত ১টার সময়ে ভোট গ্রহণে পূর্ব রাতে আসামীগণ সকলে ৫-৬ টি পিকআপ, জীপ, মাইক্রোবাস ভর্তি করে ও ১০-১৫ টি মোটর সাইকেল প্রতিটিতে ৩ জন করে মোট ১০০ জনের অধিক আসামি পূর্ব পরিকল্পিতভাবে, একই উদ্দেশ্যে, বেআইনী জনতা গঠনে মারাত্মক অবৈধ অস্ত্র-সন্ত্র, আগ্নোয়াস্ত্র, বন্দুক পিস্তল, ককটেল, কিরিচ, দা, লোহার রড, লাটি ইত্যাদি নিয়ে চন্দনাইশ আইডিয়াল স্কুল ভোট কেন্দ্র প্রবেশ করিয়া কেন্দ্র দখলে নিয়ে ব্যালেট পেপারে নৌকা প্রতীকে সীল প্রদান করিতেছে সংবাদ প্রাপ্ত হইয়া বাদী, ভিকটিম সহ এলাকাবাসী প্রতিরোধ ও বাঁধা প্রদানের জন্য আসলে আসামি পরস্পর যোগসাজসে দাঙ্গা সৃষ্টি ও হত্যার উদ্দেশ্যে বাদী ও ভিকটিমদের মারধর করে সাধারণ ও গুরুত্বর জখম, চুরি ও হুকুম প্রদান সহ গুলি ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ভোট ডাকাতি করে।

এসময় আসামিদের এলোপাতারি গুলিতে মামলার বাদী আলমগীরসহ ১৬ জন গ্রামবাসী গুলিবিদ্ধ হয় এবং অনেকে আহত হয়। এসময় সাবেক শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নজরুল ইসলাম চৌধুরী, তার ভাই জসিম উদ্দিন চৌধুরী মন্টু, চন্দনাইশের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুল জব্বার চৌধুরী ও তার ভাই চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আবদুল কৈয়ূম চৌধুরী, চন্দনাইশ পৌরসভার সাবেক মেয়র মু. মাহাবুবুল আলম খোকার নির্দেশে ও নেতৃত্বে আইডিয়াল স্কুলে প্রবেশ করে কেন্দ্র দখল ব্যালেট পেপারে ভোট ডাকাতি করে। রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও নিরাপত্তার কারণে মামলাটি দায়ের করতে বিলম্ব হয় বলে উল্লেখ করেন এজাহারে বাদী ।

চন্দনাইশ থানার অফিসার ইনচার্জ (ভারপ্রাপ্ত) যুযুৎসু যশ চাকমা মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মো. আলমগীর বাদি হয়ে সাবেক শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নজরুল ইসলাম চৌধুরীসহ ৮৭ জনের নাম উল্লেখ করে এবং ২০–২৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলাটি দায়ের করেছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত