এবার জিও জারি না হওয়া পর্যন্ত 'জিরো ওয়ার্ক' কর্মসূচি পালনের শপথ অডিটরদের

আপডেট : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ০৬:৩৪ পিএম

কয়েক দিন ধরে একই পদে দুই গ্রেডের বৈষম্যের কারণে অডিটর পদকে ১০ম গ্রেডে উন্নীত করার দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন দেশের নিরীক্ষা ও হিসাব বিভাগের অডিটররা। এবার তারা জিও জারি না হওয়া পর্যন্ত 'জিরো ওয়ার্ক' কর্মসূচি পালন করার শপথ গ্রহণ করেছে। শপথে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমলূক ব্যবস্থা গ্রহণ করলে চাকরি হতে ইস্তফা দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।

আজ বুধবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকাল ৪টায় রাজধানীর সেগুনবাগিচার হিসাব ভবনে অডিটররা এ শপথ নেন। এসময় অডিটরদের সঙ্গে নিরীক্ষা ও হিসাব বিভাগের অন্যান্য কর্মকর্তারাও একাত্মতা ঘোষণা করেন।

শপথে বলা হয়, আমরা বাংলাদেশের কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেলের অধীন সকল অডিট অধিদপ্তর, সিজিএ, সিজিডিএফ এবং এডিজি ফাইন্যান্স এর অডিটর এই মর্মে শপথ করছি যে, অডিটর পদকে ২৩ ডিসেম্বর ২০১৮ খ্রিষ্টাব্দ হতে দশম গ্রেডে উন্নীত করার লক্ষ্যে চলমান আন্দোলন জিও জারি না হওয়া পর্যন্ত চালিয়ে যাব। ইনশাআল্লাহ। 

আমরা আরও অঙ্গীকার করছি যে, আমরা বাংলাদেশের যেখানেই অবস্থান করি না কেন, কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত মোতাবেক জিও জারির আগ পর্যন্ত 'জিরো ওয়ার্ক' কর্মসূচি পালন করে যাব। 

আমরা আরও শপথ করছি যে, বাংলাদেশের যেকোনো প্রান্তে যেকোনো অডিটরের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ বা চাকরিচ্যুত করা হলে আমরা সকলে এর প্রতিবাদস্বরূপ চাকরি থেকে ইস্তফা দিতে প্রস্তুত থাকব। 

আমরা আরও শপথ করছি যে, হে প্রভু আমাদের শক্তি দিন। আমরা যেন বাংলাদেশকে বৈষম্যহীন ও আদর্শ রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে পারি এবং বৈষম্যহীন কর্মক্ষেত্র নিশ্চিতের লক্ষ্যে যে শপথ নিলাম তা সঠিকভাবে মেনে চলতে পারি। আমিন।

এর আগে দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের আবদুস সালাম হলে সংবাদ সম্মেলন করেন অডিটররা। সংবাদ সম্মেলনে অডিটরদের পক্ষে লিখিত বক্তব্য দেন আহমেদুর রহমান ডালিম। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ছিলেন মো. মনিরুজ্জামান, মোহাম্মদ মোরশেদ আলম, মো. আব্দুল আজিজ, আল আমিন, মনজুরুল ইসলাম প্রমুখ।

সংবাদ সম্মেলনে অর্থসচিবের পদত্যাগ দাবি করে আলিমুর রহমান ডালিম বলেন, ফ্যাসিবাদের দোসর বর্তমান অর্থসচিব দেশের অডিট অ্যান্ড অ্যাকাউন্টস বিভাগকে অকার্যকর করার মাধ্যমে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারকে বিব্রতকর পরিস্থিতে ফেলার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। তাই এই অর্থসচিবের অবিলম্বে পদত্যাগ দাবি করছি। বর্তমান উদ্ভূত পরিস্থিতির জন্য অর্থসচিব দায়ী এবং এর দায় তাকেই নিতে হবে। কারণ, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের চিঠির ভুল ব্যাখ্যা প্রদান করে অডিট অ্যান্ড অ্যাকাউন্টস বিভাগের অডিটর পদটি ১১তম গ্রেড হতে ১০ম গ্রেডে উন্নীত না করার জন্য বিভিন্ন ধরনের তালবাহানা করছেন। এই অধিকার আদায়ে সারা দেশের সিএজির কাঠামোভুক্ত অডিটররা অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন। আমরা কোনো আন্দোলন চাই না, আন্দোলন আমাদের কাজ না। আমরা আমাদের কর্মে ফিরে যেতে চাই। আমরা আমাদের অধিকার আদালতের সিদ্ধান্তে অতি দ্রুত 'অডিটর' পদটি ১০ম গ্রেডে বাস্তবায়ন চাই।

আহমেদুর রহমান ডালিম বলেন, একই পদে দুই ধরনের বেতন থাকাটা কখনো প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত হতে পারে না। এমন বিষয় কর্তৃপক্ষকেই নৈতিকভাবে এবং দায়িত্বশীল হয়ে সমাধান করা প্রয়োজন। ২০১৬ সালের ২ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে দায়ের করা রিট পিটিশনের রায় সিএজি ও অধীনস্ত অফিসের পদকে ১১তম গ্রেড থেকে দশম গ্রেডে উন্নত করার পক্ষে রায় দেয়। পরে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ শুধু ৬১ জন মামলার পক্ষভুক্ত রিট পিটিশনারকে ১১তম থেকে দশম গ্রেডে উন্নীত করার আদেশ প্রদান করে। পরে অন্যান্য অডিটররা ধারাবাহিক কনটেম্পট পিটিশন দায়ের করতে থাকে এবং আদালত সব মামলাতে অডিটর পদকে দশম গ্রেডে উন্নীত করার পক্ষে রায় দেয়। কিন্তু অর্থ বিভাগের একটি দুষ্টু চক্রের কারণে আর কেউ দশম গ্রেডে উন্নীত হতে পারেনি। 

তিনি বলেন, এ বছরের গত ১২ আগস্ট এডিশনাল ডেপুটি কম্পট্রেলার এন্ড অডিটর জেনারেল (পার্সনেল) অর্থ বিভাগের সচিবের কাছে বিষয়টি সুরাহা করার জন্য তাগিদ দিয়ে একটি চিঠি দেন। পরের দিন ১৩ আগস্ট অর্থ বিভাগের প্রশাসন ও সমন্বয়ে অনু বিভাগের প্রশাসন-২ অধিশাখা আইন ও বিচার বিভাগের সচিবের কাছে দশম গ্রেডে উন্নীত করা যাবে কিনা, সে বিষয়ে মতামত প্রদানের জন্য এক চিঠিতে অনুরোধ জানান। 

এরপর গত ২০ আগস্ট আইন ও বিচার বিভাগের বিচার শাখা-৫ থেকে অর্থসচিবের কাছে মতামতসহ একটি চিঠি পাঠিয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলেন। ওই মতামতে সিএজি কার্যালয় ও এর অধীনস্ত দপ্তরগুলোর অন্যান্য অডিটর পদের বেতন গ্রেড ১১ থেকে ১০ম গ্ৰেডে উন্নীত করা যেতে পারে বলে মতামত প্রদান করে। পরে ২৫ আগস্ট অর্থ বিভাগের প্রসাশন ও সমন্বয় অনুবিভাগ থেকে ব্যয় ব্যবস্থাপনা অনুবিভাগের কাছে দেওয়া একটি চিঠিতে বলা হয়, কনটেম্প পিটিশনে অন্তর্ভুক্ত অডিটরসহ অডিটর পদকে গ্রেডে-১১ থেকে ১০-এ উন্নীতকরণের প্রস্তাবটির বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য নির্দেশক্রমে পাঠানো হলো। 

সর্বশেষ চলতি মাসের ৮ সেপ্টেম্বর কম্পট্রোলার এন্ড অডিটর জেনারেলের কার্যালয় থেকে অর্থ বিভাগের সচিবের কাছে সিএজি কার্যালয় ও এর অধীনস্ত দপ্তরগুলোর অডিটর পদের বেতন গ্রেড ১১ থেকে ১০-এ উন্নীত করার জন্য বাস্তবায়ন আদেশ জারি করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পুনরায় বিশেষভাবে অনুরোধ করে। কিন্তু এতো দিন হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো নির্দেশনা জারি হয়নি।

তিনি আরও বলেন, আমাদের এই অধিকার আদায়ের আন্দোলনে ১০ম গ্রেড (উন্নীতকরণ) বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কর্তৃপক্ষকে শান্তি প্রিয়ভাবে আহ্বান করা হলেও তা উপেক্ষা করা হচ্ছে। ফলে এ নিয়ে অডিট এন্ড একাউন্টস বিভাগের অডিটরদের মধ্যে চরম হতাশা, ক্ষোভ ও অসন্তোষের বিরাজ করছে। ১০ম গ্রেড বাস্তবায়নের জন্য দেশব্যাপী ঢাকাসহ সকল বিভাগ, জেলা, উপজেলা পর্যায়ে কর্মরত সকল অডিটর, সুপার এবং নিরীক্ষা ও হিসাবরক্ষণ অফিসাররা গত ৮ আগস্ট থেকে সেগুনবাগিচার হিসাব ভবন চত্বরে অনির্দিষ্টকালের জন্য গণঅবস্থান কর্মসূচি পালন করছে। এ অধিকার আদায় না হওয়া পর্যন্ত ঘোষিত কর্মসূচি চলামান থাকবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত