ঢাকা শহরের নাগরিকদের অন্যতম প্রধান সমস্যা হচ্ছে যানজট। অসহ্য যানজটের কবলে পড়ে হাজার হাজার কর্মঘণ্টা নষ্ট হয়। নাগরিকদের মূল্যবান সময় নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি বিপুল শারীরিক ও মানসিক ক্ষতি হচ্ছে। ঢাকা শহরে লোকসংখ্যার তুলনায় রাস্তা অপ্রতুল, অন্যদিকে একটা বড় অংশের গাড়িচালকরা আইন-কানুনের তোয়াক্কা করেন না। যত্রতত্র বাস থামিয়ে যাত্রী তোলেন বাসের ড্রাইভার আর হেলপাররা। এর সঙ্গে যুক্ত হয় অবৈধ পার্কিং। রাস্তার বিভিন্ন স্থানে বাস ও গাড়ি পার্ক করার ফলে যানজট অসহনীয় আকার ধারণ করে। দেশ রূপান্তরের এক প্রতিবেদনে জানা গেছে, রাজধানীর কারওয়ান বাজার থেকে এফডিসি সড়ক জুড়ে গড়ে উঠেছে অবৈধ বাসস্ট্যান্ড। এতে পুরো সড়কে তৈরি হয়েছে তীব্র যানজট। বিমানবন্দর থেকে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে হয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যে এফডিসি এলাকায় চলে এলেও কারওয়ান বাজার পার হতেই ঘণ্টা পার হয়ে যাচ্ছে। দেখা গেছে, কারওয়ানবাজার থেকে এফডিসি সড়কে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত অর্ধশতাধিক বাস, মিনিবাস ও ট্রাক সড়কের পাশে স্ট্যান্ড করে রাখা হয়। এসব বাসে মূলত সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আনা-নেওয়া করা হয়। নির্ধারিত গন্তব্য থেকে সকালে যাত্রী আনার পর বিকেল পর্যন্ত এই বাসগুলো এখানেই স্ট্যান্ড করে থাকে। ফলে দুই পাশের সড়কে দীর্ঘ যানজট লেগে থাকে।
এই অবৈধ বাসস্ট্যান্ডের জন্য এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে হয়ে ইউটার্ন নিয়ে এফডিসি সড়ক থেকে কারওয়ান বাজার যাওয়া গাড়িগুলোকে পড়তে হয় বিপাকে। অন্যদিকে হাতিরঝিল থেকে আসা কারওয়ান বাজার এলাকা দিয়ে যাওয়া যাত্রীদের যানজটে পড়তে হয়। এই যানজটের প্রভাব পড়ে আশপাশের সব এলাকায়। শহর জুড়ে যানজট বৃদ্ধি পায়।
অফিসপাড়া নামে খ্যাত মতিঝিলেও এ রকম যানজট দেখতে পাওয়া যায়। রাস্তার দুপাশে প্রাইভেট কার পার্কিং করার পাশাপাশি সরকারি বাসগুলোও যত্রতত্র দাঁড়িয়ে থাকে। এর ফলে তৈরি হয় অসহ্য যানজটের। এসব যানজটের ফলে যাত্রীদের কখনো কখনো এক ঘণ্টার মতোও এক জায়গায় বসে থাকতে হয়। কারওয়ান বাজারের যানজটে ভুক্তভোগী এক সিএনজি অটোরিকশাচালক হাশেম মিয়া দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘গুলশান থেকে বসুন্ধরা মার্কেটে যাবেন, এমন এক যাত্রী নিয়েছি। হাতিরঝিল পর্যন্ত সহজে এলেও এফডিসির সড়ক পার হতে এক ঘণ্টার মতো লেগে যাচ্ছে। মূলত রাস্তা জুড়ে বাস রাখা হয়েছে। এই বাসগুলোর জন্য অর্ধেকের বেশি সড়ক দখল হয়ে আছে। আমি ৪০ মিনিট ধরে বসে আছি। তারপরও এতটুকু সড়ক পার হতে পারলাম না।’ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কারওয়ান বাজার এলাকায় এক ট্রাফিক সার্জেন্ট দেশ রূপান্তরকে বলেন, স্টাফবাসগুলোকে বারবার নিষেধ করার পরও তারা এখানে পার্কিং করে। আগে মামলা দেওয়া হতো। কিন্তু তারা বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের লোগো ব্যবহার করে এই পার্কিং করে। আবার কিছু বলতে গেলে বিভিন্ন জায়গা থেকে ফোন আসে।
ট্রাফিক পুলিশের অপ্রতুলতাও অবৈধ পার্কিং সমস্যা বৃদ্ধি করেছে। সরকার পতনের পর থেকেই দেশে পুলিশ ও ট্রাফিকের বড়সড় অনুপস্থিতি দেখা যাচ্ছে। প্রথম কয়েক দিনে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা ট্রাফিকের কাজ করেছিল। পুলিশের উপস্থিতি প্রায় নেই হয়ে গিয়েছিল। এখন অবস্থা কিছুটা স্বাভাবিক হলেও অবৈধ পার্কিং ঠেকানোর মতো কার্যকলাপে ট্রাফিকদের তেমন দেখা যাচ্ছে না বলেই প্রতীয়মান হয়। আগের সরকারের আমলে দেখা গেছে, কারওয়ান বাজারের অদূরে সাতরাস্তার মোড়ে ট্রাকের স্ট্যান্ড তুলে দিয়ে রাস্তার যানজট কমানোর উদ্যোগ নিতে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এসব উদ্যোগের দীর্ঘ ফলাফল পাওয়া যায়নি। বর্তমানে শিথিলতার সুযোগে আবারও এই সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করেছে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে এর ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। প্রশাসন যদি জনবান্ধব না হয় এবং যদি কার্যকরী উদ্যোগ না নেয় তবে এ সমস্যার সমাধান হবে না।
