একই দিনে আর্জেন্টিনা ব্রাজিলের হার

হারতেও পারে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা

আপডেট : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ১২:২৯ এএম

বিশ্বকাপ বাছাই পর্বের আর দশটা ম্যাচের মতো নয়, আর্জেন্টিনা-কলম্বিয়া ম্যাচের উত্তাপ ছিল খানিকটা বেশি। কোপা আমেরিকার ফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে হারের প্রতিশোধ নিতে মরিয়া ছিল কলম্বিয়া। ২৮ ম্যাচ অপরাজিত থাকার পর সে ম্যাচটি হেরেছিল তারা। অন্যদিকে প্রচন্ড গরমের চ্যালেঞ্জিং কন্ডিশনে নিজেদের প্রমাণ করার বিষয় ছিল বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন, কোপাজয়ী আর্জেন্টিনার। কিন্তু মেসিহীন আর্জেন্টিনা সেটা করতে পারেনি। মঙ্গলবার বারানকিলায় ২০২৬ বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচে স্কালোনির দলকে ২-১ গোলে হারিয়ে দিয়েছে স্বাগতিকরা।

এই হারে টানা ১২ ম্যাচের অজেয় যাত্রা থামল বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের। গত বছরের নভেম্বরে বাছাইপর্বের ম্যাচেই উরুগুয়ের কাছে সর্বশেষ হেরেছিল তারা। আরেকটি চমকপ্রদ ব্যাপার হলো আর্জেন্টিনা সর্বশেষ দুটি ম্যাচই হারল আর্জেন্টাইন কোচদের দলের কাছে! উরুগুয়ের বর্তমান কোচ মার্সেলো বিয়েলসা আর কলম্বিয়ার বর্তমান কোচ নেস্তর লরেনজো দুজনই আর্জেন্টাইন।

কোপার ফাইনালে একরাশ হতাশা নিয়ে মাঠ ছেড়েছিলেন কলম্বিয়ান অধিনায়ক হামেশ রদ্রিগেজ। আসরের সেরা খেলোয়াড়ের স্বীকৃতি পেলেও দলকে শিরোপা জেতাতে না পারায় সেদিন ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কেঁদেছিলেনও তিনি। সেই রদ্রিগেজই বারানকিলার ম্যাচে ব্যবধান গড়ে দিয়েছেন। কলম্বিয়ার দুটি গোলেই তার অবদান।

এস্তাদিও মেত্রোপলিতানো রবের্তো মেলেনদেজে ম্যাচের ২৫ মিনিটে ৪৭ হাজার ছুঁই ছুঁই দর্শকদের আনন্দে ভাসান ইয়েরসন মোসকেরা। কর্নার থেকে রদ্রিগেজ বক্সের জটলায় বল না পাঠিয়ে জন আরিয়াসের সঙ্গে দেওয়া-নেওয়া করেন। এরপর বাঁ প্রান্ত থেকে মোসকেরার উদ্দেশে উঁচুতে কিক নেন। মোসকেরা বেশ খানিকটা লাফিয়ে উঠে দুর্দান্ত এক হেড নিলে বল আশ্রয় নেয় আর্জেন্টিনার জালে।

তবে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায় বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। ৪৮ মিনিটে রদ্রিগেজই ভুল পাস বাড়ালে বল পেয়ে যান নিকোলাস গনজালেজ। ফিওরেন্তিনা উইঙ্গার এগিয়ে আসা গোলকিপার কামিলো ভারগাসের দুপায়ের ফাঁক গলিয়ে বল জালে জড়ান।  আর্জেন্টিনার এই আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ১২ মিনিট পরেই পেনাল্টি থেকে গোল করে কলম্বিয়াকে এগিয়ে দেন রদ্রিগেজ। যদিও কলম্বিয়ার এই পেনাল্টি নিয়ে বিতর্ক আছে। মেসির অনুপস্থিতিতে আর্জেন্টিনাকে নেতৃত্ব দিতে নামা নিকোলাস ওতামেন্দি নিজেদের বক্সে দানিয়েল মুনোজকে চ্যালেঞ্জ জানালে তিনি পড়ে যান। প্রথমে পেনাল্টি দিতে অস্বীকার করা চিলির রেফারি পিয়েরো মাজা ভিএআর দেখে স্পট কিকের জন্য বাঁশি বাজান। পেনাল্টি ঠেকানোয় বিশেষজ্ঞ হয়ে ওঠা এমিলিয়ানো মার্তিনেজ এবার আর্জেন্টিনাকে রক্ষা করতে পারেননি। তাকে বিপরীত পাশে ঝাঁপিয়ে পড়তে বাধ্য করে কলম্বিয়াকে এগিয়ে দেন রদ্রিগেজ।

আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার পারেদেস বলেছেন, ‘আমার মতে ওটা পেনাল্টি ছিল না। নিকো সামনে থেকে আটকাতে গিয়েছিল। অদ্ভুত বিষয় হচ্ছে, প্রথমার্ধে জুলিয়ান (আলভারেজ)-এর ঘটনার সময়ে তারা চেক করেনি।’

শেষ দিকে ব্যবধান আরও বাড়ানোর সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিল কলম্বিয়া। কিন্তু আর্জেন্টিনার বক্সে অরক্ষিত থাকার পরও গোল করতে ব্যর্থ হন স্ট্রাইকার জন দুরান। তাতে কলম্বিয়ার কোনো ক্ষতি হয়নি। কিছুক্ষণ পরেই যে তারা বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে হারানোর উৎসবে মেতেছে।

এক হারে দলের সমালোচনা করেননি স্কালোনি। বরং কৃতিত্ব দিয়েছেন কলম্বিয়াকে, ‘আমরা তো হারতে ভুলে গিয়েছিলাম। আমরা কলম্বিয়াকে অভিনন্দন জানাই। পরিস্থিতি অনুযায়ী আমরা ভালো ফুটবল খেলেছি। আমরা আমাদের সেরাটা দিয়েছি, এমনকি জিততেও পারতাম। আমরা হারতে পছন্দ করি না।’ স্কালোনি যোগ করেছেন, ‘কলম্বিয়ার দারুণ খেলোয়াড় আছে, নির্ভরযোগ্য সিস্টেম আছে। এখানে ওদের বিপক্ষে খেলাটা খুবই কঠিন। তবে আমাদের জয়ের সুযোগ ছিল, কিন্তু জিততে পারিনি। আমরা সব সময় বলের পেছনে পেছনে থাকি, ওদের ডি-বক্সে কার্যকর থাকি, যেটা আজ করতে পারিনি। এই বিষয়গুলো ঠিক করতে হবে, উন্নতি করতে হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত