দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকার পর গত ৭ জুন দেশে এসেছিলেন কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার বাসিন্দা নুরুল ইসলাম। এর ৫ দিন পর ব্যাংকে টাকা উঠানোর কথা বলে ৬ বছরের মেয়েকে নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন তার স্ত্রী মঞ্জুমা বেগম (৫০)। এরপর থেকেই নিখোঁজ রয়েছেন তাঁরা। তিন মাস ধরে স্ত্রী-সন্তানকে খুঁজে না পেয়ে দিশেহারা প্রবাসী নুরুল ইসলাম।
জানা গেছে, ১২ জুন বিকাল তিনটায় ব্যাংকে টাকা উঠানোর কথা বলে ৬ বছরের কন্যা সন্তান সাজনি আক্তারকে সাথে নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন মঞ্জুমা বেগম (৫০)। রাতেও বাড়ি ফিরে না আসায় খোঁজাখুঁজি শুরু করেন পরিবারের সদস্যরা। আত্মীয়স্বজনদের বাড়িতে খোঁজাখুঁজি করার পরও তাঁর সন্ধান না পেয়ে বরুড়া থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। কিন্তু এ ঘটনার তিন মাস পেরিয়ে গেলেও খোঁজ পাওয়া যায়নি তাঁর।
পরিবারের সদস্যদের ধারণা আত্মগোপনে রয়েছেন মঞ্জুমা বেগম। এ বিষয়ে নুরুল ইসলাম বলেন, প্রবাসে থাকা অবস্থায় তাঁর স্ত্রী তাঁকে না জানিয়ে ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকা ব্যাংক ঋণ করেন। সেই হিসাব দিতে না পেরে ভয়ে আত্মগোপনে চলে গেছেন।
একই ধরণের তথ্য দিয়েছেন এই দম্পতির তিন পুত্রবধূ। তাঁরা জানান, বাড়িতে বিল্ডিং করার কাজের জন্য ব্যাংক থেকে ঋণ করেছেন বলে তাদের জানিয়েছেন তাদের শাশুড়ি। টাকার হিসাব দিতে না পেরে তিনি ভয়ে আত্মগোপনে চলে গেছেন বলে ধারণা তাদের।
নিখোঁজ স্ত্রী-সন্তানের খোঁজ না পেয়ে পাগলপ্রায় নুরুল ইসলাম। ৬ বছরের কন্যা সন্তানকে নিয়ে স্ত্রী কোথায় আছেন? কবে বাড়িতে ফিরবেন?— সে চিন্তায় দুঃসহ সময় পার করছেন পরিবারের সদস্যরা। নূরুল ইসলাম ও তার তিন সন্তান জানিয়েছেন যেকোনো কিছুর বিনিময় আঞ্জুমান বেগম এবং শিশু সাজনিকে ফিরে পেতে চান তাঁরা।
