হাত হারানো আতিকুল

ফের স্বৈরশাসক আসলে, প্রয়োজনে আরেক হাতও দিয়ে দিব

আপডেট : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ০৪:৫৫ পিএম

মো. আতিকুল ইসলাম (১৯) দারিদ্রের কষাঘাতে পড়ালেখার পাঠ চুকিয়েছেন অনেক আগেই। ঢাকায় বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানে সেলসম্যান হিসেবে কাজ করতেন। চাকরি করে যা আয় হতো তাই দিয়ে জীবন ভালই কাটছিল। কিন্তু গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনে শেখ হাসিনা দেশ ছাড়ার খবরে উত্তরার আজমপুরে বিজয় মিছিলে অংশ নেন। ওইদিন বিকেল চারটার সময় ছাত্র-জনতার মিছিলে গুলি চালায় পুলিশ। এতে অনেকেই গুলিবিদ্ধ হন। অন্যদের মতো আতিকুল ইসলামও ডান হাতে গুলিবিদ্ধ হন।

গত ৬ আগস্ট থেকে তিনি জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান (পঙ্গু হাসপাতাল) ভর্তি আছেন। গত ৭ আগস্ট চিকিৎসকরা তার ডান হাতের প্রায় পুরোটাই কেটে ফেলেছেন। এখন আগের থেকে অনেকটাই সুস্থ, দু’একদিনের ভিতরে বাসায় ফিরবেন বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।

জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান (নিটোর) আতিকুল ইসলামের সঙ্গে কথা হয়েছে এই প্রতিবেদকের। বিজয় উল্লাসে গিয়ে কীভাবে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন জানতে চাইলে তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘গত ১৪ জুলাই থেকে আমি আন্দোলনে নিয়মিত যেতাম। অন্যান্য দিনের মতো গত ৫ আগস্ট সকাল থেকেই উত্তরার আজমপুরে পুলিশ মারমুখী ছিল। রাস্তায় নামলেই তারা গুলি করছে। ওইদিন ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনার পালানোর খবরে আমি দুপুরের পর বিজয় মিছিলে যাই। মিছিলটি আজমপুরে পৌঁছালে পুলিশ এলোপাতাড়ি গুলি চালাতে থাকে। আমার সামনেই কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হন। আমি তাদের রিক্সায় তুলে দিচ্ছিলাম। বেশ কয়েকজনকে রিক্সায় তোলায় মধ্যেই একটি গুলি আমার ডান হাতের কনুইয়ের নিচে লাগে। আমার হাতটি সঙ্গেই বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে অনুভূত হতে থাকে। আমি ওই অবস্থায় কিছুদূর দৌঁড়ে পালিয়ে যাই। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে আমাকে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট নিয়ে যান। সেখানে ওইদিন চিকিৎসা নেওয়ার পর আমাকে পঙ্গু হাসপাতালে পাঠানো হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘অন্যজনকে বাঁচাতে গিয়ে আমার হাতে গুলি লেগেছে। এক হাত চলে গেছে তো কী হয়েছে, পিস্তলের গুলির ভয় আগেও করিনি এখনও করিনা। প্রয়োজনে আরেক হাত দিয়ে দিব, যদি তাতেও না হয় তাহলে জীবন দিয়ে দিব। স্বৈরাচার সরকার যদি আবার দেশে আসে, ওকে পতন ঘটানোর জন্য আবার যুদ্ধ করবো। যদি ডাক পড়ে তাহলে আবার মাঠে নামবো। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে দাবি, আমরা যারা হাত-পা হারিয়েছি তাদের জন্য যেন কর্মসংস্থান ব্যবস্থা করা হয়। আমি আগে সেলস ম্যান কাজ করতাম কিন্তু এক হাত হারিয়ে আগের মতো কাজ করতে পারবো না। আমরা যেন কাজ করে খেতে পারি সেই ব্যবস্থা করবে এটাই প্রত্যাশা।

ছাত্র-জনতার আন্দোলন পরবর্তী আতিকুল ইসলামের প্রত্যাশার কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা বৈষম্যহীন সমাজ ব্যবস্থা চাই। স্বৈরশাসকের বদলে জনমানুষের সরকার চাই। যারা খেটে খাওয়া মানুষসহ সবার অধিকার নিয়ে কাজ করবে। তাহলেই আমাদের এই বিসর্জন সার্থকতা পাবে।’

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত