সপ্তাহ ধরে অবরুদ্ধ নার্সিং অধিদপ্তর ও কাউন্সিল

আপডেট : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ০৯:৩৮ পিএম

এক সপ্তাহ ধরে অবরুদ্ধ মহাখালীর নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর ও বিজয় নগরের নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কাউন্সিল। অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মাকসুরা নূর ও সকল পরিচালক এবং কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট ও রেজিস্ট্রারের অপসারণ এবং এই দুই প্রতিষ্ঠানে সকল পদে উচ্চশিক্ষিত ও অভিজ্ঞ নার্স কর্মকর্তা পদায়নের দাবিতে গত ৯ সেপ্টেম্বর থেকে এই দুই প্রতিষ্ঠানের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে নার্সিং সংস্কার পরিষদ।

এই দুই প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত এক সপ্তাহ ধরে অফিসে আসতে পারছেন না মহাপরিচালকসহ কর্মকর্তারা। কোনো কাজ হচ্ছে না। পুরো কার্যালয়ে এক ধরণের স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। কে কখন আসছে, কখন যাচ্ছে, কোনো ধরণের দেখভাল নেই। 

এমন অবস্থায় নার্সিং সেক্টর সংস্কারের দাবিতে আগামীকাল রবিবার অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে স্মারকলিপি দিবে নার্সিং সংস্কার পরিষদ। এ সময় পরিষদ প্রতিনিধিরা প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাতের চেষ্টা করবেন। 

এসব তথ্য জানিয়ে পরিষদের সমন্বয়ক (মিডিয়া উইং) সাব্বির মাহমুদ তিহান দেশ রূপান্তরকে বলেন, দুই প্রতিষ্ঠানে আমাদের অবস্থান কর্মসূচি শুরু হবে রবিবার সকাল ৯টা থেকে। সেখান থেকে একটি প্রতিনিধি দল যাবে প্রধান উপদেষ্টাকে স্মারকলিপি দিতে। আমরা সে সময় আমাদের দাবি-দাওয়া নিয়ে কথা বলার জন্য প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাতের চেষ্টা করব।

আজ শনিবারও নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) মাকসুরা নূরের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে নার্সিং সংস্কার পরিষদ। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে তারা এ বিক্ষোভ মিছিল করেন। নার্স পেশা নিয়ে কটূক্তি করায় ডিজির পদত্যাগ দাবি করেন তারা। এই কর্মসূচিতে প্রায় পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেন।

মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন পরিষদের সমন্বয়ক (মিডিয়া উইং) সাব্বির মাহমুদ তিহান, প্রধান সমন্বয়ক ডা. শরিফুল ইসলাম, নার্সিং কলেজের ছাত্র সমন্বয়ক মহিবুল্লাহসহ ঢামেক হাসপাতালের নার্সিং বিভাগের শিক্ষার্থীরা।

এ সময় নার্সিং শিক্ষার্থীরা জানান, নার্সিং অধিদপ্তরের প্রশাসনিক পদগুলোতে উচ্চশিক্ষিত ও অভিজ্ঞ নার্সদের নিয়োগ দিতে হবে। দীর্ঘদিন ধরে নার্সরা প্রশাসনিক বৈষম্যের শিকার হয়ে আসছেন, যার বিরুদ্ধে এবার তারা কঠোর কর্মসূচি নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। 

অন্যদিকে, মহাখালীর নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর এবং বিজয়নগরের নার্সিং কাউন্সিলেও সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন নার্সরা। তারা জানান, প্রশাসনিক পদে নার্সদের বাদ দিয়ে অন্যান্য কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়ায় নার্সদের পেশাগত উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বিশেষ করে গত ১২ সেপ্টেম্বর একজন নন-নার্স প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে নার্সিং অধিদপ্তরের রেজিস্ট্রার পদে নিয়োগ দেওয়ায় নার্সদের মধ্যে ক্ষোভ তীব্র হয়। 

এর আগে গত ৮ সেপ্টেম্বর নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরে মহাপরিচালক মাকসুরা নূর এক বিতর্কিত মন্তব্য করেন। তার সঙ্গে নার্সরা বিভিন্ন দাবি নিয়ে সাক্ষাত করতে গেলে এই কর্মকর্তা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণার ভিত্তিতে নার্সদের ২য় শ্রেণির পদমর্যাদা দেওয়ার সিদ্ধান্তকে ‘ভুল’ বলে আখ্যা দেন। তার এই মন্তব্য নার্সদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের জন্ম দেয়।এর প্রতিক্রিয়ায় গত ৯ সেপ্টেম্বর থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে নার্সরা বিক্ষোভ শুরু করেন এবং মহাপরিচালকসহ অধিদপ্তর ও কাউন্সিলে নিয়োগ পাওয়া নন-নার্স কর্মকর্তাদের পদত্যাগ ও অপসারণ দাবি জানিয়ে আসছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত