পুলিশ সংস্কার আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত অন্যতম সমন্বয়ক কনস্টেবল শোয়াইবুর রহমান ও নায়েক সজিব সরকারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রাজধানীর শাহজাহানপুর থানায় তাদের বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের অভিযোগে মামলা হয়েছে। ওই মামলায় গত সোমবার যশোর পুলিশ লাইনস ও রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইনস থেকে গ্রেপ্তার হন এই দুই পুলিশ সদস্য।
সেদিনই তাদের আদালতে তোলার পর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড চান মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মো. খায়রুল ইসলাম। সেই প্রেক্ষিতে তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মোশাররফ হোসেন।
আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর নিজেদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে পুলিশ সদস্যদের সংগঠিত করে আলোচনায় ছিলেন এই দুই সদস্য। দুজনকে গ্রেপ্তারের পর ঢাকা মহানগর পুলিশের জনসংযোগ বিভাগ থেকে দেওয়া এক বার্তায় বলা হয়, ‘কনস্টেবল শোয়াইবুর রহমানসহ আরও কিছু পুলিশ সদস্য বিগত সরকারের আজ্ঞাবহ কর্মকর্তাদের ইন্ধনে পুলিশ বাহিনীর মধ্যে অস্থিরতা সৃষ্টির অপচেষ্টায় লিপ্ত ছিল।’
তাদের বিরুদ্ধে হওয়া মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, শোয়াইবুর রহমান জয় ও সজিব সরকার গত ৬ আগস্ট থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন সময় তাদের ফেসবুক আইডি থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে বিভিন্ন শ্রেণি ও সম্প্রদায়ের মধ্যে শত্রুতা ও ঘৃণা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রতি বিনষ্টসহ জনসাধারণের সেবা বাধাগ্রস্ত এবং বিনষ্ট করার জন্য উসকানিমূলক বার্তা পোস্ট করে, যা জনশৃঙ্খলা পরিপন্থী কোনো কাজে বা কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সুবিধার্থে ব্যবহার হতে পারে।
আর রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, এ ঘটনার সঙ্গে কে বা কারা জড়িত তা খুঁজে বের করা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ধরনের বিষয় ছড়িয়ে দেওয়ার পেছনের মাস্টারমাইন্ড কে বা কারা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মতো একটি সুশৃঙ্খল বাহিনীতে অরাজকতা বা বিশৃঙ্খল সৃষ্টি করার কারণ উদঘাটন ও অর্থ দাতাদের খুঁজে বের করার জন্য মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আসামিকে নিয়ে অভিযান পরিচালনা করে পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার করা প্রয়োজন।
