লেবাননে পেজার বিস্ফোরণের এক দিন পর ফের বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এবার দেশটির সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর ব্যবহৃত ওয়াকিটকিসহ, ল্যাপটপ, রেডিও, মোবাইল ফোনের বিস্ফোরণ ঘটে রাজধানী বৈরুতসহ নানা জায়গায়। তারহীন এসব যোগাযোগের যন্ত্র বিস্ফোরণের কারণে এবার অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আরও ৪৫০ জনের বেশি আহত হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। লেবানন কর্র্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মঙ্গল ও বুধবারের বিস্ফোরণগুলোয় কমপক্ষে ৩৭ জন নিহত এবং ৩ হাজার ১০০ জনেরও বেশি আহত হয়েছে, যার মধ্যে হিজবুল্লাহর সদস্য এবং সাধারণ নাগরিকও রয়েছে।
লেবাননের দক্ষিণাঞ্চল ও বৈরুতের শহরতলি জুড়ে সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ দ্বারা ব্যবহৃত ওয়াকিটকিগুলোয় গত বুধবার বিস্ফোরিত হয়। যেসব স্থানে বিস্ফোরণ হয়েছে, সেগুলো হিজবুল্লাহর শক্তিশালী ঘাঁটি হিসেবে দেখা হয়। আগের দিন মঙ্গলবার হিজবুল্লাহ যোদ্ধাদের ব্যবহৃত কয়েক হাজার পেজারে একযোগে বিস্ফোরণে ২ শিশুসহ ১২ জন নিহত ও কয়েক হাজার মানুষ আহত হয়। ওই বিস্ফোরণে নিহত কয়েকজনের জানাজার সময়ও সেখানে কিছু বিস্ফোরণ ঘটেছে।
দুটি হামলার জন্য হিজবুল্লাহ ইসরায়েলকে দায়ী করলেও এখন পর্যন্ত লেবাননের বিস্ফোরণ নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি ইসরায়েল। তবে লেবাননে বিস্ফোরণের পর নিজেদের উত্তরাঞ্চলীয় লেবানন সীমান্তে নতুন সেনা মোতায়েন করেছে ইসরায়েল। বিস্ফোরণের কয়েক ঘণ্টা পর ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দেশটির উত্তরাঞ্চল থেকে হাজার হাজার বাস্তুচ্যুত মানুষকে ‘নিরাপদে তাদের বাড়িতে’ ফিরিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
লেবাননে বিস্ফোরণের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। তিনি সবপক্ষকে ‘সর্বোচ্চ সংযম’ প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন। তবে ভয়াবহ এই বিস্ফোরণ হিজবুল্লাহর জন্য বড় ধাক্কা। একই সঙ্গে এ ঘটনা লেবাননের সমগ্র যোগাযোগ নেটওয়ার্কে ইসরায়েল এখন অনুপ্রবেশ করতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিচ্ছে। গাজায় ইসরায়েল এবং হামাসের মধ্যে ১১ মাস ধরে চলমান আন্তঃসীমান্ত যুদ্ধের কারণে সর্বাত্মক সংঘাতের আশঙ্কা ইতিমধ্যেই বাড়ছে। তবে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসকে সহায়তার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে। এ সময় গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসন বন্ধ হলেই শুধু ইসরায়েলের অভ্যন্তরে আক্রমণ বন্ধ করা হবে বলে জানিয়েছে হিজবুল্লাহ।
লেবাননে পেজার এবং ওয়াকিটকি ব্যবহার করে সংঘটিত বিস্ফোরণগুলো বৈশ্বিক প্রযুক্তি পণ্য সরবরাহ নেটওয়ার্কের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। এ বিষয়ে সরকার বা অন্যান্য পক্ষের হস্তক্ষেপের ঝুঁকি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এ ধরনের প্রযুক্তি পণ্যের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের সম্ভাবনা ভবিষ্যতের জন্য একটি উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এমন তথ্য।
বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো এ ঘটনাকে তাদের সরবরাহ নেটওয়ার্ক সুরক্ষার গুরুত্বের ওপর বড় ধরনের হুমকি হিসেবে দেখছে। এই হামলা সাধারণ জনগণের প্রযুক্তির প্রতি আস্থা কমাতে পারে বলেও মনে করছেন তারা।
