বিছানায় কাতরাচ্ছেন দুই পায়ে গুলিবিদ্ধ ইয়াকুব

আপডেট : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ০৬:২১ এএম

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে সরকার পতনের পর আনন্দ মিছিলে অংশ নিতে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা শহরে যান ইয়াকুব। একপর্যায়ে জনতার ওপর গুলি ছোড়ে পুলিশ। পুলিশের ছোড়া দুটি গুলি এসে লাগে ইয়াকুবের দুই পায়ে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়। দুই সপ্তাহের বেশি সময় চিকিৎসা শেষে বাসায় ফিরলেও শারীরিক অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় সেনাবাহিনীর টিম উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা সিএমএইচ হাসপাতালে নিয়ে যায়। এক সপ্তাহ চিকিৎসার পর বাসায় ফিরলেও দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসাসেবা এখনো চলমান। এমন অবস্থায় ইয়াকুব ব্যথায় ছটফট করছেন সবসময়। স্থানীয়রা অর্থ সহযোগিতা করলেও দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার জন্য তা পর্যাপ্ত নয়।

পঞ্চম শ্রেণি পাস ইয়াকুব হোসেন। বাড়ি কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের বাতিসা ইউনিয়নের বরৈয়া গ্রামে। কৃষক বাবার সংসারে স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে আনতে পড়ালেখা ছেড়ে খুব অল্প বয়সেই সংসারের হাল ধরেন তিনি। স্থানীয় রাজমিস্ত্রির সঙ্গে হেলপার হিসেবে সামান্য বেতনে কাজ করতেন ইয়াকুব। গত ৫ আগস্ট বিকেলে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে সরকার পতন হলে আনন্দ মিছিলে অংশ নিতে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা শহরে যান তিনি। বিকেলে আনন্দ মিছিলকারী ছাত্র-জনতার ওপর গুলি ছোড়ে পুলিশ। এ সময় ইয়াকুব থানার দক্ষিণ পাশে নিরাপদ দূরত্বেই ছিলেন। হঠাৎ পুলিশের ছোড়া দুটি গুলি এসে লাগে ইয়াকুবের দুই পায়ে। বামপায়ের হাঁটুর নিচে লাগা গুলিটি একপাশে ঢুকে অন্যপাশ দিয়ে বেরিয়ে যায়। আর ডানপায়ে লাগা গুলিটি হাঁটুর নিচের চামড়া ছিঁড়ে নিয়ে চলে যায়।

অচেতন অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়। দুই সপ্তাহের অধিক সময় চিকিৎসা শেষে বাসায় ফিরলেও শারীরিক অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় প্রায় তিন সপ্তাহ পর সেনাবাহিনী তাকে চিকিৎসা প্রদানের জন্য নিয়ে যায়। সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে কুমিল্লা সিএমএইচ হাসপাতালে এক সপ্তাহ চিকিৎসা দেওয়া হয় তাকে। এরপর বাসায় ফিরলেও দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসাসেবা এখনো চলমান।

এদিকে পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তি বিছানায় পড়ে থাকায় মা-বাবার পক্ষে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। অভাবের সংসারে যেখানে নুন আনতে পান্তা ফুরায়, সেখানে প্রতিদিন ইয়াকুবের চিকিৎসায় খরচ হচ্ছে অনেক টাকা। তারপরও মা-বাবার বিশ্বাস সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরবে ইয়াকুব।

ইয়াকুব বলেন, আনন্দ মিছিল দেখতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে মরণ যন্ত্রণায় বিছানায় কাতরাচ্ছি। প্রচ- ব্যথায় রাতে ঘুমাতে পারি না। আমার কারণে পরিবারের সবার ঘুমও হারাম হয়ে গেছে। চিকিৎসা ব্যয়ে গ্রামের বিত্তবানরাসহ যুবসমাজ এগিয়ে এসেছে। দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার জন্য সহযোগিতা কামনা করছি।

ইয়াকুবের পিতা জাফর আহমেদ জানান, ছেলের এই অবস্থায় কোনো কূল পাচ্ছি না। সমাজের লোকেরা এগিয়ে আসায় কষ্ট কিছুটা লাঘব হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত