পরিবহন ধর্মঘট প্রত্যাহার পর সোমবার রাঙামাটি শহরে বেড়েছে যান চলাচল। এতে চেনা ছন্দে ফিরতে শুরু করেছে শহরটি। এদিন সকাল থেকে শহরে সিএনজি অটোরিকশার চলাচল দেখা যায়। পাশাপাশি রাঙ্গামাটি-চট্টগ্রাম রুটেও দেখা যায় যান চলাচল।
এদিকে পাহাড়ি ছাত্র-জনতার চলমাল ৭২ ঘণ্টার অবরোধের কারণে বন্ধ ছিল রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটি-বান্দরবানে রুটে যান চলাচল। অবরোধের কারণে ছেড়ে যায়নি যাত্রীবাহী কোনও লঞ্চ। শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে দেখা গেছে। মঙ্গলবার সকাল ৬টা পর্যন্ত চলবে এই অবরোধ।
অবরোধের কারণে মেঘের রাজ্য খ্যাত সাজেক ভ্যালিতে বেড়াতে গিয়ে তিনদিন ধরে আটকা রয়েছেন প্রায় দেড় হাজার পর্যটক। অবরোধ শেষ হলে আগামীকাল মঙ্গলবার সকাল থেকে পর্যটকদের সাজেক ছাড়ার কথা রয়েছে। তবে গত চারদিন ধরে সাজেকে বিদ্যুৎ না থাকায় দুর্ভোগে পড়েছেন পর্যটকরা।
বৃহস্পতিবার রাতে দীঘিনালা-সাজেক সড়কে বৈদ্যুতিক খুঁটির ওপর গাছ পড়ে সাজেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। চারদিন ধরে জ্বালানি তেল দিয়ে জেনারেটর ব্যবহার করে পর্যটকদের বিদ্যুৎ সরবরাহ দিতে পারলেও অবরোধে জ্বালানি তেলের গাড়ি সাজেকে যেতে না পারায় তেল সঙ্কট দেখা দেয় সাজেকে। এতে পানি ও বিদ্যুৎ নিয়ে পর্যটকরা ভোগান্তি পড়েছেন।
সেলিম উদ্দিন নামে এক পর্যটক জানিয়েছেন, এখানে আসার পর বিদ্যুৎ ছিল না। জেনারেটর দিয়ে বিদ্যুৎ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সেটা সার্বক্ষণিক পাচ্ছি না। এখন নাকি জ্বালানি তেলও শেষ হয়েছে তাই জেনারেটরও চালাতে পারছে না। আজকে (সোমবার) রাত কীভাবে কাটাবো বুঝতে পারছি না। আবার পানিও নেই। সবমিলে দুর্বিষহ জীবন।
সাজেক অবকাশ কটেজের স্বত্বাধিকারী বিজয় ঘোষ জানান, অবরোধের কারণে শনিবার থেকে আমাদের কটেজেই ৬৫ জনসহ সাজেকে প্রায় দেড় হাজার পর্যটক আটকা পড়ে আছে। বিদ্যুৎ নেই বৃহস্পতিবার থেকে। জেনারেটর দিয়ে পর্যটকদের সেবা দেওয়া হচ্ছিল। কিন্তু বর্তমানে জ্বালানি তেলের সঙ্কটে সেবাও বন্ধ রাখতে হচ্ছে।
সাজেক রিসোর্ট-কটেজ মালিক সমিতির সহ-সভাপতি চাই থোয়াই চৌধুরী জয় জানিয়েছেন, আটকা পড়া পর্যটকদের জন্য প্রথম দিন ৫০ ভাগ ডিসকাউন্ট এবং দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিন ৭৫ ভাগ ডিসকাউন্ট দেওয়া হয়েছে। রিসোর্ট ও কটেজ মালিক সমিতি পর্যটকদের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন।
তিনি বলেন, খাদ্য অপ্রতুলতার কারণে আজ (সোমবার) রাতে কটেজ মালিক সমিতি ও ট্রাভেল এজেন্সি ইলেকট্রনিক ট্যুরিজম অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে পর্যটক, গাড়ির চালক, স্টাফ সবার জন্য খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তারা আমাদের অতিথি, তাদের যাতে সমস্যা না হয় সেজন্য আমরা সবসময় তাদের পাশে আছি।
রাঙামাটির জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন খান বলেন, অবরোধের কারণে বাঘাইহাট—দীঘিনালা সড়কে একাধিক স্থানে গাছের গুঁড়ি ফেলা রাখা হয়েছে। এতে গাড়ি চলাচল করতে না পারায় পর্যটকদের তিনদিন সেখানে অবস্থান করতে হচ্ছে। মঙ্গলবার সকাল সকাল তারা সাজেক ত্যাগ করতে পারবে।
তিনি আরও বলেন, খাদ্যের সঙ্কটের বিষয়ে আমরা তেমন কোনও সংবাদ পাইনি, তবে বিদ্যুতের সমস্যা আছে।
টাস্কফোর্সের টার্গেট রাঘববোয়াল
১৭ বছর পর লেবাননে সবচেয়ে ‘প্রাণঘাতী’ দিন
বিয়ের ১৯ দিনের মাথায় তিস্তায় মিলল জ্যোসনার লাশ