শ্রীলঙ্কার দশম প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিয়েছেন দেশটির বামপন্থি নেতা অনূঢ়া কুমারা দিশানায়েকে। গতকাল সোমবার রাজধানী কলম্বোর প্রেসিডেন্ট সচিবালয়ে নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন তিনি। অনাড়ম্বরভাবে এই শপথ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। তার শপথ গ্রহণের সময় দেশটির প্রেসিডেন্ট সচিবালয়ের বাইরে জড়ো হন তার সমর্থকরা। জাতীয় পতাকা-প্ল্যাকার্ড-পোস্টার হাতে নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে থাকেন তারা। উত্তরসূরিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন বিদায়ী প্রেসিডেন্ট রনিল বিক্রমাসিংহে।
প্রেসিডেন্টের শপথ গ্রহণের পর সামনের দিনগুলোতে শ্রীলঙ্কার জনগণকে স্থিতিশীল ও পরিবর্তিত অর্থনৈতিক কাঠামোতে নিয়ে আসার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। আর পুনরুদ্ধারের পথে পরিচ্ছন্ন রাজনীতির মঞ্চায়নের ঘোষণা দেন সদ্য নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট। ২০২২ সালে জনরোষের মুখে ক্ষমতাচ্যুত হন সাবেক প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসে। পালিয়ে যান দেশ থেকে। এরপর দেশটির পার্লামেন্টের ভোটে রনিল বিক্রমাসিংহে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেনে। এর দুই বছর পর জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট পেল শ্রীলঙ্কা।
শপথের পর তিনি বলেন, ‘একটি নতুন পরিচ্ছন্ন রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করতে হবে। আমি এটি অর্জনের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা রাজনৈতিক ব্যবস্থায় মানুষের সম্মান ও বিশ্বাস পুনরুদ্ধারের জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করব।’ শ্রীলঙ্কার জনগণের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘একজন নেতা নির্বাচনই গণতন্ত্রের একমাত্র কাজ নয়।’ এ সময় গণতন্ত্র রক্ষার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। সেই সঙ্গে নিজেকে একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমি কোনো জাদুকর নই। তবে জ্ঞান ও দক্ষতা রাখেন এমন ব্যক্তিদের নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। তাদের এই অভিজ্ঞতা দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে সহায়তা করবে।’
নির্বাচনের আগে প্রচারণার সময় দিশানায়েক ভোটারদের সুশাসন ও কঠোর দুর্নীতিবিরোধী পদক্ষেপ গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এছাড়া শ্রীলঙ্কার উৎপাদনশীলতা, কৃষি ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে উন্নয়নেরও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। অর্থনৈতিক সংকট থেকে বেরিয়ে আসার জন্য আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তি নিয়ে কাজ করার কথা জানান তিনি। সেই সঙ্গে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর অবস্থার উত্তরণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তিনি। দিশানায়েকে শপথ নেওয়ার আগে শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী দিনেশ গুনাবর্ধন পদত্যাগ করেন। এতে শ্রীলঙ্কার পার্লামেন্ট ভেঙে দেওয়ার পথ সুগম হয়েছে। নির্বাচনের অনেক আগেই প্রেসিডেন্ট হলে পার্লামেন্ট ভেঙে দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন অনূঢ়া কুমারা দিশানায়েকে।
এবারের নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন এক কোটি ৭০ লাখেরও বেশি ভোটার। শ্রীলঙ্কার এবারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হন ৩৯ জন। তবে মূল লড়াই হয়েছে ন্যাশনাল পিপলস পাওয়ারের নেতা অনূঢ়া কুমারা দিশানায়েকে, বিরোধী দল সঙ্গী জন বালাওয়াগারের প্রার্থী সাজিথ প্রেমাদাসা এবং বিদায়ী প্রেসিডেন্ট রনিল বিক্রমাসিংহের মধ্যে। শ্রীলঙ্কার নির্বাচন কমিশন জানায়, দিশানায়েকে মোট ৫,৭৪০,১৭৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। ৪,৫৩০,৯০২ ভোট নিয়ে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন বিরোধী নেতা সাজিথ প্রেমাদাসা। আর বিদায়ী প্রেসিডেন্ট রনিল বিক্রমাসিংহে পান ২,২৯৯,৭৬৭ ভোট। নতুন প্রেসিডেন্টকে অভিনন্দন জানিয়ে বিদায়ী বার্তায় বিক্রমাসিংহে বলেন, ‘গভীর ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার সঙ্গে শ্রীলঙ্কার ভবিষ্যৎ নতুন প্রেসিডেন্টের হাতে তুলে দিচ্ছি।’
