মহাসড়কের পাশে ভাগাড়

আপডেট : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ০২:৪০ এএম

মহাসড়কের ওপরেই পড়ে রয়েছে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ। সেখান থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে প্রতিনিয়ত। কাপড়ে নাক ঢেকে চলেন শিক্ষার্থী ও পথচারীরা। কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চিত্র এটি।

জানা গেছে, দাউদকান্দি পৌরসভা, বাজার এবং বিভিন্ন বাসাবাড়ির সব ময়লা-আবর্জনা এনে ফেলা হচ্ছে মহাসড়কের পাশেই। দুর্গন্ধে যানবাহনের চালক, যাত্রীসহ পথচারীরা রয়েছেন চরম দুর্ভোগে। দাউদকান্দি বিশ্বরোড পার হলেই পরিবহনের যাত্রীরা নাকমুখ চেপে রাখেন। ময়লার স্তূপ পেরিয়ে গেলেও দুর্গন্ধ আটকে থাকে বাসের মধ্যে। দীর্ঘদিন ধরেই দুর্গন্ধের এই দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন মহাসড়ক দিয়ে চলাচলকারী যাত্রী, বাসের চালকসহ স্থানীয়রা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দাউদকান্দি পৌরসভার আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা না থাকায় পৌরসভার ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে ব্যস্ততম ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশেই। অনেকদিন ধরে ময়লা ফেলার ফলে সড়কের কয়েকটি স্থান এখন ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। 

দাউদকান্দি পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিন পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ড এবং দাউদকান্দি বাজার থেকে বিপুল পরিমাণ বর্জ্য বের হয়। এই বর্জ্য ফেলার জন্য পৌরসভার নিজস্ব কোনো জমি না থাকায় ভাগাড় বা ডাম্পিং স্টেশন করা সম্ভব হয়নি। তাই কয়েক বছর ধরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের তালতলী এক্সপিড সিএনজি পাম্প এলাকায় দীর্ঘদিন ময়লা ফেলা হচ্ছে। বর্তমানে চার লেনের মহাসড়কের বেশ কিছু জায়গা ময়লার ভাগাড়ের দখলে। শুধু দাউদকান্দি পৌরসভার ময়লাই নয়, গৌরীপুর বাসস্ট্যান্ড বাজারের ময়লাও ফেলা হয় এই মহাসড়কে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মহাসড়কের দাউদকান্দির ১৫ কিলোমিটার অংশে কমপক্ষে তিনটি স্থানে ফেলা হচ্ছে ময়লা-আবর্জনা। অপরদিকে গৌরীপুর-হোমনা আঞ্চলিক সড়কের আঙ্গাউড়া স্বল্পপেন্নাই সংযোগ সড়কের মুখে এবং গৌরীপুর হাইস্কুল সংলগ্ন খালের মুখেও ফেলা হচ্ছে বাজারের ময়লা-আবর্জনা। এতে খালের মুখ বন্ধ হয়ে উপজেলার দক্ষিণাঞ্চলের কয়েক হাজার হেক্টর কৃষিজমি অনাবাদি হয়ে পড়েছে।

দরজা খোলা মাইক্রোবাসে চলাচলকারী যাত্রীরা বলেন, ময়লার অংশটুকু পার হতে গেলেই দুর্গন্ধ গাড়ির মধ্যে ঢুকে। এতে অনেক সময় বৃদ্ধ ও শিশুরা গাড়ির মধ্যে বমি করে ফেলে।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশের এক্সপিড সিএনজি পাম্পের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুস সাত্তার বলেন, ‘অপরিকল্পিতভাবে সড়কের পাশে ফেলা হচ্ছে ময়লা-আবর্জনা। প্রতিদিন শত শত মানুষ আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আসে, কিন্তু ময়লার দুর্গন্ধে বসতে পারে না। পরিকল্পনা মাফিক ময়লার ভাগাড় বা শোধনাগার করা প্রয়োজন।’

জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত পরিবেশবিদ ও দাউদকান্দির বাসিন্দা অধ্যাপক মতিন সৈকত বলেন, ‘বাঁচার জন্য সুন্দর পরিবেশ অপরিহার্য। পরিবেশ যদি ভালো থাকে তাহলে আমরা ভালো থাকব। পরিবেশের বিপর্যয় ঘটলে আমাদের বিপর্যয় ঘটবে। তাই যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলা যাবে না। পরিবেশ সুরক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে সামাজিকভাবে আন্দোলন করতে হবে।’

দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. তৌহিদ আল হাসান বলেন, ‘খোলা স্থানে বর্জ্য ফেলার ফলে এলাকার মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্যঝুঁকির প্রভাব পড়ছে। পরিবেশও দূষিত হচ্ছে। এর ফলে ওই এলাকায় মশা-মাছির উপদ্রব বাড়ছে। এ সবের কারণে শিশু ও বৃদ্ধরা শ্বাসকষ্টসহ নানা রোগে আক্রান্ত হতে পারে।’

দাউদকান্দি পৌর প্রশাসকের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জিয়াউর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘পৌরসভার নিজস্ব কোনো ডাম্পিং বা ময়লা ফেলার নির্ধারিত স্থান না থাকায় এখন পর্যন্ত সড়কের পাশেই ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। তবে এভবে চলতে পারে না। আমরা ময়লা-আবর্জনা ফেলার জন্য পৌরসভার ভেতরে নিচু কোনো খাস জায়গা খুঁজছি।’

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কুমিল্লা পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোসাব্বের হোসেন মোহাম্মদ রাজীব বলেন, ‘মহাসড়কটি পৌরসভা এলাকায়। তাই এর পরিবেশ রক্ষার দায়িত্বও পৌরসভা কর্তৃপক্ষের। আমরা এ ব্যাপারে পৌরসভাকে নোটিস করব।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত