ঝুট ব্যবসা নিয়ে বিএনপির দুপক্ষের সংঘর্ষ, আহত ৫০

আপডেট : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ০৭:১৭ এএম

গাজীপুরের শ্রীপুরে ঝুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দ্বন্দ্বে বিএনপির অঙ্গসংগঠনের দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর এবং অন্তত ১০টি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এ ছাড়া কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলিও ছোড়া হয়। গতকাল বুধবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বেড়াইদেরচালা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এতে দুপক্ষের অন্তত ৫০ জন আতহ হয়েছে।

সংঘর্ষ চলাকালে দুপক্ষ ধারালো ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হামলায় জড়িয়ে পড়ে। এ সময় মহাসড়কে দেড় ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে। পরে পুলিশ ও সেনাসদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

বিএনপির অঙ্গসংগঠন কৃষক দলের গাজীপুর জেলা কমিটির আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ ও জেলা যুবদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য এসএম পলাশ চঞ্চলের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা ও পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পৌর এলাকার বেড়াইদেরচালা গ্রামের এসকিউ সেলসিয়াস লিমিটেড নামে সোয়েটার কারখানার ঝুট ব্যবসা নিয়ে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়। গাজীপুর জেলা যুবদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য এসএম পলাশ চঞ্চলকে ঝুট কেনার জন্য কার্যাদেশ দেয় এসকিউ সেলসিয়াস কারখানা। সে অনুযাযী, গতকাল ট্রাক নিয়ে কারখানার ভেতর মালামাল লোড করছিলেন পলাশ। তখন কারখানার বাইরে শতাধিক লোক লাঠিসোঁটা নিয়ে অবস্থান নেয়। তারা কারখানার পাশে পলাশের ব্যক্তিগত অফিস ভাঙচুর করে। অফিসের সামনে থাকা কয়েকটি গাড়িও ভাঙচুর করে। একপর্যায়ে আতঙ্ক ছড়াতে সেখানে কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, কারখানার বাইরে জড়ো হওয়া লোকজন গাজীপুর জেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক এস এম আবুল কালামের পক্ষ নিয়ে সেখানে এসেছিল। এক সপ্তাহ ধরে এসকিউ কারখানার ঝুট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে নিতে পলাশ ও আবুল কালামের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছিল। সম্প্রতি কারখানাটি পলাশকে ঝুটের কার্যাদেশ দেওয়ার পর এই দ্বন্দ্ব আরও প্রকট হয়। গতকাল কারখানার বাইরে আবুল কালামের লোকজন আসার কিছুক্ষণ পর পলাশের লোকজন পাল্টাধাওয়া দিয়ে তাদের সরিয়ে দেয়। তাদের মধ্যে কয়েক দফা পাল্টাপাল্টি ধাওয়া হয়। এ সময় দুপক্ষের লোকজনের হাতে লাঠিসোঁটা, রামদা ও চাপাতি ছিল। পরে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা সেখানে উপস্থিত হলে পরিস্থিতি শান্ত হয়। এরপর ট্রাকে করে ঝুট বের করা হয়।

এদিকে এই সংঘর্ষের তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে সাংবাদিকদের ধাওয়া করে কৃষক দলের কর্মী-সমর্থকরা। এ সময় যমুনা টিভির জেলা প্রতিনিধি হোসাইন আলী বাবুর পেটে পিস্তল ঠেকিয়ে ক্যামেরা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরে পিস্তল ঠেকিয়ে তার ক্যামেরা থেকে সব ফুটেজ মুছে ফেলতে বাধ্য করে। এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সাংবাদিকরা।

তবে কৃষক দলের আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, তাকে জড়িয়ে মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হচ্ছে, তার পক্ষের কোনো নেতাকর্মী এ সংঘর্ষে জড়িত না। ঘটনার সময় তিনি ঢাকায় অবস্থান করছিলেন।

আর জেলা যুবদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য এসএম পলাশ চঞ্চল বলেন, ‘কারখানা কর্র্তৃপক্ষ আমাকে কার্যাদেশ দিয়েছে। সে অনুযায়ী সকালে ঝুট বের করার জন্য আমার দুটি পিকআপ ভ্যান কারখানায় প্রবেশ করে। এ খবর পেয়ে কৃষক দলের আহ্বায়ক এসএম আবুল কালাম আজাদের লোকজন লাঠিসোঁটা নিয়ে কারখানার সামনে অবস্থান নেয়। একপর্যায়ে তারা কারখানার সামনে আমার অফিসে হামলা ও ভাঙচুর করে। এ ছাড়া অন্তত ১০টি মোটরসাইকেলও ভাঙচুর করে।’

জেলা পুলিশের অতিরিক্ত সুপার মেরাজুল ইসলাম বলেন, ‘সব বিষয় নিয়ে তদন্ত করছি। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত