সরকারি-বেসরকারি বিদ্যালয়গুলোতে কয়েক বছর ধরে ভর্তির ক্ষেত্রে লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী নির্বাচন করে আসছে সরকার। এবার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও অভিভাবকদের পক্ষ থেকে দাবি ওঠে, পরীক্ষার মাধ্যমে মেধা যাচাই করে শিক্ষার্থী ভর্তি করাতে হবে। তাদের সেই দাবি পর্যালোচনা করে ভর্তি নীতিমালা সংশোধনে সভা ডাকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। সেখানে লটারি পদ্ধতি বহাল রাখার সিদ্ধান্ত হয়। এ বিষয়ে শুক্রবার দেশ রূপান্তরে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। জানা যাচ্ছে- দেশের সব সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং মহানগর ও জেলা সদর উপজেলার বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে আগামী শিক্ষাবর্ষের (২০২৫) জন্যও প্রথম শ্রেণি থেকে নবম শ্রেণিতে লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) অধীন বিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে। বৃহস্পতিবার ভর্তি নীতিমালা সংশোধন বিষয়ে অনুষ্ঠিত সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়েছে। বিষয়টি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শিক্ষা উপদেষ্টাকে জানানো হবে। তিনি সম্মতি দিলে ভর্তি নীতিমালা চূড়ান্ত করে প্রকাশ করা হবে।
গত বছর ৬৫৮টি সরকারি বিদ্যালয়ে শূন্য আসন ছিল ১ লাখ ১৮ হাজার ১০১টি। বিপরীতে আবেদন করেছিল ৫ লাখ ৬৩ হাজার ১৩ জন। অন্যদিকে ৩ হাজার ১৮৮টি বেসরকারি বিদ্যালয়ে শূন্য আসন ছিল ১০ লাখ ৩ হাজার ৯৯৩টি। বিপরীতে আবেদন জমা পড়ে ৩ লাখ ১০ হাজার ৭৭৯টি। তবে এবার কিছু আসন বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন মাউশির এক কর্মকর্তা।
গত বছর জানা গিয়েছিল ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিনটি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তিতে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) থেকে প্রকাশিত ডিজিটাল লটারির ফলাফলে ১০ শিক্ষার্থীর নাম ৫৭ বার এসেছে। এর মধ্যে মেধা তালিকায় ৪৩ বার ও অপেক্ষমাণ তালিকায় এসেছে ৩৩ বার। শিক্ষার্থীদের জন্মনিবন্ধন নম্বরের মাঝের কয়েকটি সংখ্যা পরিবর্তন করে অনলাইনে আবেদন করায় এমন ফলাফল এসেছিল। বারবার নাম আসা শিক্ষার্থীদের বাবা ও মায়ের নাম এক থাকলেও মুঠোফোন নম্বরের ভিন্নতা থাকে। জন্মনিবন্ধন নম্বরের ১৭ সংখ্যার মধ্যে প্রথম ৯টি ও শেষের ৪টি থেকে ৫ সংখ্যা অপরিবর্তিত রেখে মাঝের সংখ্যাগুলো পরিবর্তন করা হয়।
বিভিন্ন জালিয়াতির মাধ্যমে ডিজিটাল লটারি পদ্ধতিকেও প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করছে কিছুসংখ্যক দুর্নীতিবাজ মানুষ। ভবিষ্যতে এই পদ্ধতিকে আর কেউ যাতে বিতর্কিত করতে না পারে সেজন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার। শিক্ষার্থীরা যাতে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে ভাগ্য যাচাইয়ের মাধ্যমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে পারে তার নিশ্চয়তা বিধান করা উচিত। লটারির মাধ্যমে ভর্তির প্রক্রিয়া নিয়ে অনেক স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কেন আপত্তি তুলবে? বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও অভিভাবকদের পক্ষ থেকে ভবিষ্যতে যেন কোনো প্রকারের অভিযোগ না ওঠে ভর্তিতে লটারি পদ্ধতির।
লটারি পদ্ধতি নিয়ে যে পক্ষের আপত্তি রয়েছে, তাদের আপত্তির কারণগুলো গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে দেখা দরকার। নিশ্চয়ই তাদেরও কোনো না কোনো যুক্তি রয়েছে। সেই কথাগুলো শুনে সমস্যার সর্বজনীন সমাধান করতে হবে। আমরা বিশ্বাস করি, লটারি পদ্ধতিতে ভর্তির অবশ্যই অকাট্য বাস্তব কোনো যুক্তি রয়েছে। কিন্তু কী কারণে এই পদ্ধতির বিরোধিতা করছেন অনেকে তাও বিবেচনায় নিতে হবে। আমরা চাচ্ছি, ভর্তি প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ হোক। যাতে বিষয়টি নিয়ে কোনো পক্ষের মধ্যে মতানৈক্য না থাকে। কোন প্রক্রিয়ায় আরও জনবান্ধব এবং সর্বমহলে প্রশংসিত হতে পারে ভর্তিতে লটারি পদ্ধতি সে রকম পথে অগ্রসর হওয়া জরুরি। ভর্তির শুরুতেই যেন শিক্ষার্থীরা জানতে পারে তারা সৎ উপায়ে মেধার গুণেই, গ্রহণযোগ্য হয়ে লটারিতে উত্তীর্ণ হয়েছে।
