জান্তার প্রস্তাবে বিদ্রোহীদের না

আপডেট : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ১২:৪৬ এএম

মিয়ানমারের জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে অস্ত্র পরিহার করে রাজনৈতিক সংলাপে বসার আহ্বান জানিয়েছে দেশটির জান্তা সরকার। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে সেনা অভ্যুত্থানের মাধ্যমে অং সান সু চির নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে দেশটির সেনাবাহিনী। তখন থেকেই দেশটি শাসন করছে সেনাবাহিনী সমর্থিত দ্য স্টেট অ্যাডমিনিস্ট্রেশন কাউন্সিল। এর প্রতিবাদে দেশজুড়ে বিক্ষোভ দেখা দেয়। সামরিক বাহিনী সহিংসভাবে সে বিক্ষোভ দমন করার চেষ্টা করে। সেই স্ফুলিঙ্গ থেকে সরকার বিরোধী লড়াই পরিণত হয় জান্তা বিরোধী লড়াইয়ে। সেনাবাহিনী বিরুদ্ধে হামলা চালাতে জোটবদ্ধ হয় বিভিন্ন জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠী। বিরোধীদের সঙ্গে এই দীর্ঘ লড়াইয়ে অনেক গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ হারায় সামরিক বাহিনী। এ অবস্থায় জান্তা সরকারের এই প্রস্তাব বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। গতকাল শুক্রবার রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল নিউলাইট অব মিয়ানমারে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এসএসি জানায়, রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে লড়াইরত জাতিসত্তার সশস্ত্র সংগঠন ও পিডিএফের সন্ত্রাসীদের রাজনৈতিক বিষয়াদি সমাধানে দেশের কর্র্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করার আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে। তবে জান্তা সরকারের এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে বিদ্রোহীরা।

মিয়ানমারের বিভিন্ন স্থানে সেনাবাহিনীর সঙ্গে জাতিগত বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী ও বিদ্রোহী পিপলস ডিফেন্স ফোর্সেসের লড়াই চলছে। গত বছরের অক্টোবর থেকে লড়াই শুরুর পর ইতিমধ্যে দেশের বড় অংশের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে তারা। সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো ও পিডিএফের এমন সেনাশাসনবিরোধী তৎপরতাকে জান্তা সরকার ‘সন্ত্রাসী পন্থা’ হিসেবে আখ্যায়িত করে তাদের সংলাপে বসার আহ্বান জানায়। স্টেট অ্যাডমিনিস্ট্রেশন কাউন্সিলের বিবৃতিতে আগামী বছর পরিকল্পিত নির্বাচনেও বিদ্রোহীদের অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। সেখানে বলা হয়, দলভিত্তিক রাজনীতি বা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিদ্রোহীরা জনগণের সঙ্গে হাত মেলাতে সক্ষম হয়। সশস্ত্র সহিংসতা বাদ দিয়ে দেশে যাতে টেকসই শান্তি ও উন্নয়ন প্রতিষ্ঠা করা যায়, সে বিষয়ে গুরুত্বই এ সংলাপের লক্ষ্য।

তবে সেনা সরকারের এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো। এর প্রতিক্রিয়ায় জান্তা-বিরোধী নির্বাসিত ন্যাশনাল ইউনিটি গভমেন্ট জানায়, জান্তার প্রস্তাব বিবেচনার যোগ্য নয়। অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ক্ষমতায় আসা অবৈধ জান্তা সরকারের নির্বাচন করার কোনো এখতিয়ার নেই বলে জানায় এনইউজি। সু চি সরকারের নির্বাচিত আইনপ্রণেতাদের নিয়ে গঠিত হয়েছে এই ন্যাশনাল ইউনিটি গভর্নমেন্ট। তবে সামরিক বাহিনী কয়েকটি সাধারণ রাজনৈতিক দাবি মানতে রাজি হলে তবেই আলোচনা হতে পারে বলে জানিয়েছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর সঙ্গে কয়েক দশক ধরে লড়ে আসা বিদ্রোহী গোষ্ঠী কারেন ন্যাশনাল ইউনিয়ন। বিদ্রোহীরা মনে করছেন, লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ হারানোয় চাপের মুখে আছে সেনা সরকার।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত