মেরাজের রাতে অবশ্য পালনীয় বিধান হিসেবে নামাজ অর্পিত হয়। প্রথমে পঞ্চাশ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ করা হলেও কার্যত করা হয়নি। বরং নবীজির আবেদনে আল্লাহতায়ালা কমিয়ে পাঁচ ওয়াক্ত করে দেন। তখন থেকেই মুসলমানের জন্য প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ অপরিহার্য। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘সূর্য হেলে পড়ার পর থেকে রাত্রির ঘন অন্ধকার পর্যন্ত নামাজ আদায় করবে এবং আদায় করবে ফজরের নামাজ। নিশ্চয়ই ফজরের নামাজ উপস্থিতির সময় (তখন রাতে পাহারায় থাকা ফেরেশতারা পরিবর্তিত হয়ে দিনের ফেরেশতারা আগমন করে অর্থাৎ তখন উভয় দলের ফেরেশতারা উপস্থিত থাকে)।’ (সুরা বনি ইসরাইল ৭৮)
দুপুর বেলায় সূর্য পশ্চিমাকাশে হেলার পর থেকে রাতের অন্ধকার হওয়া পর্যন্ত নামাজ আদায় দ্বারা জোহর, আসর, মাগরিব ও এশা, এই চার নামাজের প্রতি ইশারা করা হয়েছে। ফজরের নামাজকে আলাদা করে উল্লেখ করা হয়েছে। কারণ ফজরের নামাজ আদায়ের জন্য মানুষকে ঘুম থেকে উঠতে হয়। ফলে অন্য নামাজ অপেক্ষা এ নামাজে কষ্ট বেশি। তাই আলাদাভাবে উল্লেখ করে এই নামাজের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নামাজ এমন একটি ইবাদত যার মধ্য দিয়ে একজন মুসলমান সরাসরি তার রবের সঙ্গে কথোপকথনের সুযোগ পায়। কেননা বান্দা যখন ‘আল্লাহু আকবার’ বলে নামাজ শুরু করে, তখন আল্লাহতায়ালা তার প্রতি দৃষ্টি দেন এবং তার সব কথার জবাব দিতে থাকেন।
বান্দা যখন সুরা ফাতেহা শুরু করে বলে, (আরবিতে) সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজাহানের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। তখন আল্লাহতায়ালা উপস্থিত ফেরেশতাদের বলেন, আমার বান্দা আমার প্রশংসা করেছে। সে যখন বলে, তিনি অতিশয় দয়ালু ও করুণাময়। তখন আল্লাহ বলেন, বান্দা আমার মাহাত্ম্য বর্ণনা করেছে। সে যখন বলে, তিনি বিচার দিবসের মালিক। তখন আল্লাহ বলেন, বান্দা আমার গুণ বর্ণনা করেছে। আল্লাহ আরও বলেন, বান্দা তার সমস্ত কাজ আমার ওপর সমর্পণ করেছে। এরপর সে যখন বলে, আমরা কেবল তোমারই এবাদত করি, তোমার কাছেই সাহায্য চাই। তখন আল্লাহ বলেন, এটা আমার এবং আমার বান্দার মধ্যকার ব্যাপার। এই মুহূর্তে বান্দা আমার কাছে যা চাইবে আমি তাই দেব। আল্লাহর পক্ষ থেকে এমন ঘোষণা পাওয়ার পর বান্দার যে কোনো জিনিস চাওয়ার অধিকার রয়েছে। কিন্তু যে কোনো জিনিস চাওয়ার স্বাধীনতা আল্লাহ দেননি। যদি দিতেন তাহলে সে হয়তো এমন জিনিস চাইত যা তার জন্য উপকারী নয়, দুনিয়া ও আখেরাতে সফল হওয়ার জন্য যথেষ্ট নয়। তাই আল্লাহতায়ালা নিজেই বলে দিয়েছেন, সে জিনিসের কথা, যার দ্বারা দুনিয়া ও আখেরাতে সফল হওয়া যায়। আর সেটা হচ্ছে ‘সিরাতে মুস্তাকিম’ তথা সরল-সঠিক পথে চলার দোয়া করা।
এজন্যই পরবর্তী সময়ে বান্দা বলে, হে আল্লাহ! আমাদের সরল পথে পরিচালিত করো, সেই সব লোকের পথে যাদের প্রতি তুমি অনুগ্রহ করেছ। তাদের পথে নয়, যাদের প্রতি গজব নাজিল হয়েছে এবং তাদের পথেও নয়, যারা পথহারা।
এভাবে বান্দা মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করতে থাকে আর আল্লাহতায়ালা তা কবুল করতে থাকেন। যার নামাজ যত বেশি সুন্দর হবে তার দোয়া তত বেশি কবুল হবে।
