জনপ্রতিনিধি শূন্য হলো চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)। ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর থেকে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক আওয়ামী লীগ নেতা চসিক মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী পলাতক থাকায় সরকারের পক্ষ থেকে গত ১৯ আগস্ট প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়। আর এবার নির্দেশ দেওয়া হলো কাউন্সিলরদের অপসারণের। এর মাধ্যমে ২০২১ সালে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রতিনিধিত্ব করে আসা সব সদস্যকে অপসারণ করা হলো। শুধু চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নয়, জেলার ১৪ পৌরসভার কাউন্সিলরদেরও অপসারণ করা হয়েছে।
২০২১ সালের ২৭ জানুয়ারি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেন চৌধুরীকে ৩ লাখ ১৬ হাজার ৭৫৯ ভোটে পরাজিত করেছিলেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরী। ৪১ ওয়ার্ডের কাউন্সিলরদের মধ্যে ৩৪টি আসনেই জয়ী হয়েছিল আওয়ামী লীগের প্রার্থী এবং ১৪টি আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী জয়ী হলেও তারা ছিল মূলত আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী। ২২ দশমিক ৫২ শতাংশ ভোটারের উপস্থিতিতে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সেই নির্বাচনে সবাই ছিল আওয়ামী লীগের। গত ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর প্রায় ভোটারবিহীন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা আর জনসম্মুখে আসছে না। ফলে অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে প্রথম দফায় মেয়রের পদে চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার তোফায়েল ইসলামকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার হয়। এবার কাউন্সিলরদেরও সরানো হলো। এর মাধ্যমে প্রশ্নবিদ্ধ গত দুটি সিটি করপোরেশন নির্বাচনের অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি হলো।
এখন প্রশ্ন হলো প্রশাসকের কাজটি চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার করলেও কাউন্সিলরের কাজগুলো কে করবে? ইতিমধ্যে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের যে ১৪টি ওয়ার্ডের কাউন্সিলর অনুপস্থিত ছিল সেসব ওয়ার্ডের জাতীয়তা সনদ, চারিত্রিক সনদ, জন্ম নিবন্ধন ও মৃত ব্যক্তির সনদ দেওয়ার জন্য তিনজন আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে কথা হয় আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা রক্তিম চৌধুরীর সঙ্গে। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘একজন কাউন্সিলরের অনেকগুলো কাজ থাকে। আমাদের শুধু নির্ধারিত ওয়ার্ডের অধিবাসীদের জাতীয়তা সনদ, চারিত্রিক সনদ, জন্ম নিবন্ধন ও মৃত ব্যক্তির সনদ দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।’
যে সব কাউন্সিলরকে অপসারণ করা হয়েছে তাদের কাজ কে করবে? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সে বিষয়ে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মহোদয় যাকে দায়িত্ব দেবেন তিনি করবেন।’
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনেরর ৪১টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১৪টি ওয়ার্ডের দায়িত্বে আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাদের দেওয়া হলেও বাকি ওয়ার্ডগুলোর কী হবে? আবার প্রতিটি ওয়ার্ডে প্রকল্পের কাজ, পরিচ্ছন্নতা, প্রকৌশল বিভাগসহ অনেক রুটিন কাজ রয়েছে। সেসব কাজের দায়িত্বে কে থাকবে এমন অনেক প্রশ্ন সামনে চলে এসেছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মোহাম্মদ তোফায়েল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এতদিন যে ১৪টি ওয়ার্ডের কাউন্সিলর অনুপস্থিত ছিল সেগুলোতে আমরা আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দিয়েছিলাম। এখন যেহেতু স্থানীয় সরকার বিভাগ দেশের সব সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলরদের অপসারণ করেছে তাই এ দায়িত্ব কারা পালন করবেন সে বিষয়ে একটা নির্দেশনা আসবে। সে নির্দেশনা অনুযায়ী দায়িত্ব দেওয়া হবে।’
এর মাধ্যমে কি চসিকে জনপ্রতিনিধিদের অধ্যায়ের অবসান হলো? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এ চিত্র শুধু চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে নয়, সারা দেশের সিটি করপোরেশনগুলোতেও একই চিত্র।
কাউন্সিলরের দায়িত্বে কারা আসছে? এ প্রশ্নের জবাবে চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার ও চসিকের প্রশাসক তোফায়েল ইসলাম বলেন, ‘পৌরসভাগুলোতে সরকারের পক্ষ থেকে একটি কমিটি করে দেওয়া হয়েছে। সিটি করপোরেশনগুলোতে যদি কমিটি করে দেওয়া হয় তাহলে সে নির্দেশনা অনুসারে আমরা দায়িত্ব দেব।’
উল্লেখ্য, পৌরসভায় প্রশাসকের নেতৃত্বে সাত সদস্যের এবং জেলা পরিষদে প্রশাসকের নেতৃত্বে ১৩ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে দেওয়া হয়েছে।
