ভরপেট খেল ১৭৫ বরযাত্রী, চলে গেল বিয়ে না করেই

আপডেট : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ০৭:০৬ এএম

১৭৫ বরযাত্রী নিয়ে খাওয়া-দাওয়া শেষে বিয়ে না করেই বিয়ের আসর থেকে চলে গেলেন বর। গত ২০ সেপ্টেম্বর বিকেলে নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার সাধারচর ইউনিয়নের কালুয়ারকান্দ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। বরপক্ষের ভাষ্য, কনের আগের বিয়ে-সন্তানের খবর গোপন করায় তারা এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অন্যদিকে কনেপক্ষ বলছে, মেয়ের আগের বিয়ের বিষয়টি বরপক্ষকে আগেই জানানো হয়েছিল। আর সন্তান থাকার তথ্য ভুয়া। হঠাৎ সেই বিষয়টি সামনে এনে বিয়ে ভেঙে দিয়ে অমানবিকে আচরণ করেছে তারা।

এদিকে নানা আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে উপজেলা প্রশাসন ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কদের উপস্থিতিতে আগামীকাল রবিবার বিষয়টি মীমাংসার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

বিয়ের বর ছিলেন উপজেলার আয়ূবপুর ইউনিয়নের ঘাসিরদিয়া গ্রামের আলতাব হোসেন সরকারের ছেলে সাব্বির হোসেন সরকার (৩০)। তিনি ১৭৫ জনের বরযাত্রী নিয়ে গিয়েছিলেন পছন্দের পাত্রীকে বিয়ে করতে। খাওয়া-দাওয়া শেষে কাবিন নামায় সই করার সময় বাধে বিপত্তি। কনের আগে বিয়ে হয়েছে ও বাচ্চা আছে বলে বিয়ের আসর থেকে বরকে নিয়ে চলে যান বরের দুই বোন। ঘটনার ছয় দিন পর গত বৃহস্পতিবার কনের মা বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ছাত্রদের কাছে অভিযোগ দিলে বিষয়টি সবার সামনে আসে।

কনের মা সেলিনা বেগম জানান, পারিবারিকভাবে আলোচনা করে এক সপ্তাহ আগে বিয়ের দিন-তারিখ ঠিক হয়। বিয়ের দিন ১০০ বরযাত্রী নিয়ে আসার কথা থাকলেও বর তার আত্মীয়স্বজনসহ ১৭৫ বরযাত্রী নিয়ে আসেন। খাওয়া-দাওয়া শেষে বিয়ের কাবিন নামায় স্বাক্ষর করবে এমন সময় বরের বড় বোন সাবিনা ও ছোট বোন নিপা বলেন, কনের আগে বিয়ে হয়েছে, দুই বাচ্চা রয়েছে, এই বিয়ে হবে না।

সেলিনা বলেন, এরপর তারা কনের গায়ের নতুন জামাকাপড় জোড় করে খুলে নিয়ে যান।

তিনি বলেন, বিয়ে হয়েছে এটা জানত তারা, কিন্তু দুই বাচ্চা আছে, এটা মিথ্যা কথা বলছে। বিয়ে উপলক্ষে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা খাওয়া-দাওয়া ও ডেকোরেশন বাবদ খরচ হয়। আমি অনেক চেষ্টা করেছি তাদের বুঝানোর কিন্তু তারা কোনো কথাই শোনেনি।

কনে রত্না বেগম বলেন, ‘আমাদের পারিবারিকভাবে বিয়ে ঠিক হয়েছে। আমি বরকে আমার আগের বিয়ের কথা জানিয়েছি। তখন তিনি বলেছেন, এটা বাইরের কাউকে বলার দরকার নেই। আমাদের পরিবারের মধ্যেই যেন বিষয়টা থাকে। কিন্তু বিয়ের দিন তারা মিথ্যা অপবাদ দিয়ে চলে গেছে।’

বরের বড় বোন সাবিনা বলেন, ‘মেয়ের পরিবার আগের বিয়ের কথা আমাদের জানায়নি। শুধু জানিয়েছে, মেয়ের একবার বিয়ে ভেঙে গেছে। কিন্তু আমরা পরে জানতে পারি মেয়ের বিয়ে হয়েছিল।’

আয়ুবপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান সরকার বলেন, বরপক্ষ বিয়ের দিন পাশের বাড়ি থেকে মেয়ের আগের বিয়ের খবর জানতে পারেন। ছেলের এটা প্রথম বিয়ে, তাই বরপক্ষ বিয়ে না করিয়ে চলে আসে। আমি বর পক্ষের লোকজনকে বলছিলাম বসে মীমাংসা করতে, তারা আসেনি।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিবপুরের ছাত্র আসিফ, রাকিব, সুমনা ও সাহেদ জানান, তাদের কাছে কনের মা অভিযোগ করেছেন। পরে তারা বরের বাড়িতে যান। তবে বর বা তার বাবাকে পাননি। পরে বরের মামার সঙ্গে তাদের কথা হয়েছে। আগামী রবিবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উপস্থিতিতে বিষয়টি মীমাংসার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

শিবপুর মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ আফজাল হোসেন বলেন, আমরা মৌখিকভাবে এমন একটি ঘটনা জানতে পেরেছি। রবিবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দুপক্ষের সঙ্গে বসার কথা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত