কোটা সংস্কার আন্দোলনে শুরু থেকেই সোচ্চার ছিলেন মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। পেশায় নির্মাতা হলেও দেশের নানা ইস্যু নিয়ে কথা বলেন তিনি। সবসময় কথা বলেছেন ছাত্রদের অধিকারের পক্ষে। এমনকি স্বৈরাচার পতনের জোরালো কণ্ঠ ছিলেন। আওয়ামী সরকারের পতনের পর থেকেই সব রাজনৈতিক দল দেশে তাদের নিজ নিজ মতাদর্শ প্রতিষ্ঠায় ব্যস্ত। তারা নিজেরা নিজেদের এই আন্দোলনের
কৃতিত্ব দিচ্ছে। এবার এই কৃতিত্ব নেওয়ার বিষয়ে মুখ খুললেন জনপ্রিয় নির্মাতা। তিনি মনে করেন রাষ্ট্র চলবে জনগণের রায়ের ওপর, জনগণের সিদ্ধান্তের ওপর। বিপ্লবের মালিকানা নিয়ে যখন চারদিকে বিভিন্ন মুখ সরব তখন বললেন, ‘বিপ্লব হ্যাজ ঠু মেনি প্রোপ্রাইটরস নাউ। কারণও আছে, যেহেতু বিপ্লবে স্টেকহোল্ডার ছিল অনেক। সবাই মনে করছে এই বিপ্লব তার। সুতরাং দেশটা উনি বা উনারা যেভাবে চাচ্ছে সেভাবেই গোছাতে হবে, চলতে হবে। যেটা ফ্যাসিস্ট সরকারও মনে করত।’
তবে এ নিয়ে নিজের বক্তব্য দিয়েছেন। সুস্পষ্ট সেই বক্তব্যে বলছেন, ‘৫ আগস্ট কোনো বিশেষ মতাদর্শের পক্ষে কোনো ম্যান্ডেট প্রদান করে নাই জনগণ! এটা পরিষ্কার মাথায় রাখা ভালো। ৫ আগস্ট জনগণ হাসিনার দুঃশাসন থেকে মুক্তির রায় দিয়েছে। এখন যার যা এজেন্ডা আছে, কী ধরনের সরকার বানাতে চান, দেশটাকে কী রকম করতে চানÑ এগুলো নিয়ে জনগণের কাছে যান। জনগণ ভোটে নির্ধারণ করবে কাদেরটার পক্ষে তারা আছে। ক্লিয়ার?’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই বক্তব্য পোস্ট করার আগে আরও একটি বক্তব্য প্রকাশ করেন। ঠিক একই কথাই তিনি সেখানে বলতে চেয়েছেন, একই সুরে বলেছেন। যেখানে তিনি সূচনায় লেখেন, ‘একটি গিটারের কথা।’ এরপর বলা শুরু করেন, ফ্যাসিস্ট জানে আপনাদের ঐক্যই তাদের দেশছাড়া করেছে। এখন আপনাদের অনৈক্য তাদের ফেরার রাস্তা যদিও বা নাও করে, অ্যাট লিস্ট আপনাদের ঝগড়াঝাঁটি তাদের শান্তি দেবে।
তিনি মনে করেন এই ঝগড়াঝাঁটিতে ক্ষতিগ্রস্ত হবে তারাই, যারা বিপ্লব এনেছে। মোস্তফা সরয়ার ফারুকী বলেন, ‘আপনারা ঝগড়া করবেন আর তারা গিটার বাজাবে। আপনারা যত বিরোধে জড়াবেন, তারা তত আনন্দে গিটার বাজাবে। এখন সিদ্ধান্ত আপনাদের আপনারা পরস্পরবিরোধী মত নিয়েও শ্রদ্ধার সঙ্গে সহাবস্থান করবেন নাকি উনাকে গিটার বাজাতে দেবেন।’
মোস্তফা সরয়ার ফারুকী সর্বশেষ আলোচনায় ছিলেন নিজের নির্মাণে ও অভিনয়ে ‘সামথিং লাইক এন অটোবায়োগ্রাফি’ দিয়ে। তবে লম্বা সময় হতাশায় আছেন তার ‘শনিবার বিকেল’ সেন্সরের হিমাগারে আটকে থাকার কারণে।
