বিচার বিভাগের পূর্ণাঙ্গ স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে বিচার বিভাগীয় পৃথক সচিবালয় গঠনের জন্য শিগগিরই প্রস্তাব আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ। গতকাল রবিবার দুপুরে ফরিদপুর জেলা আইনজীবী সমিতি আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।
আইনজীবীদের উদ্দেশে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘বিচার বিভাগের সম্মান বজায় রাখা আমাদের সবার দায়িত্ব। বিচার বিভাগের ভাবমূর্তি যাতে ক্ষুণœ না হয়, সেজন্য সবাই সজাগ থাকতে হবে। এমন কোনো আচরণ করা যাবে না যাতে করে প্রতিষ্ঠানের সম্মানহানি ঘটে।’
জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি আবদুল কাদের মিয়ার সভাপতিত্বে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা ও দায়রা জজ জিয়া হায়দার, ফরিপুরের জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান মোল্লা ও পুলিশ সুপার আবদুল জলিল। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী সুবল চন্দ্র সাহা, সৈয়দ মোদারেস আলী ইসা, মো. শাহজাহানসহ বিচার বিভাগের কর্মকর্তা ও জেলা আইনজীবী সমিতির নেতারা।
প্রধান বিচারপতি সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বলেন, ‘বার ও বেঞ্চ উভয় বিভাগ ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় একে অন্যের পরিপূরক, কখনোই প্রতিপক্ষ নয়। কোর্ট অফিসার হিসেবে আইনজীবীদের কর্তব্য ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় আদালত ও আইনের বিধি-বিধানের প্রতি পূর্ণ সম্মান প্রদর্শন করে আদালতে সহযোগিতা করা।’
তিনি আরও বলেন, ‘আপনারা খেয়াল রাখবেন আদালতে যাতে এমন কোনো পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়, যাতে বিচারপ্রার্থীদের মনে আদালত ও আদালতের পবিত্রতা সম্পর্কে দ্বিধা বা সংশয় থাকে। বিচার বিভাগের সম্মান বজায় রাখার দায়িত্ব আমাদের সবার। বিচারক কিংবা আইনজীবী আমাদের সবার লক্ষ্যই কিন্তু এক ও অভিন্ন। মানুষকে ন্যায়বিচার প্রাপ্তিতে সহযোগিতা করা। আমাদের কর্মকা-ে যাতে সেটিই প্রতিফলিত হয়, সেদিকে আমাদের লক্ষ্য রাখতে হবে।’
গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র কাঠামোতে আইনজীবীদের সমাজে ভ্যানগার্ড গণ্য করা হয় উল্লেখ করে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘সমাজের ভ্যানগার্ড হিসেবে আইন পেশা পরিচালনায় আমরা যদি পেশাগত নৈতিক মানদ- বজায় রাখতে পারি, তবেই আইন পেশার সৌন্দর্য বিকশিত হবে।’
এর আগে প্রধান বিচারপতি জাস্টিস ইব্রাহীম সড়কের নামফলক উদ্বোধন করেন। এ ছাড়া সকালে আদালত চত্বরে ন্যায়কুঞ্জের উদ্বোধন করেন।
