নরসিংদীতে মামা মো. হাবিবুল্লাহকে পিটিয়ে হত্যার ৪৪ দিন পার হয়নি। এরই মাঝে প্রকাশ্য দিবালোকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে তারই ভাগনে হানিফ মিয়াকে (২৬)।
মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটার দিকে নরসিংদী পৌর শহরের কাউরিয়াপাড়া ঈদগাহ মাঠের পাশে এ ঘটনা ঘটে। নিহত হানিফ (২৬) পৌর শহরের চৌয়ালা এলাকার আব্দুল কাদেরের ছেলে।
স্থানীয়রা জানায়, গত ১৯ আগস্ট নরসিংদী শহরের চৌয়ালা এলাকার বাসিন্দা মো. হাবিবুল্লাহকে তার ভাগনে হানিফ মিয়া পিটিয়ে হত্যা করেছিল। এই ঘটনার ৪৪ দিন না যেতেই মঙ্গলবার দুপুরে কাউরিয়াপাড়া পৌর ঈদগাহ মাঠের পাশে ভাগনে হানিফ মিয়া হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। দুপুরের দিকে হানিফ কাউরিয়াপাড়ার ঈদগাঁ মাঠে এক প্রতিবেশীর জানাজা পড়েন। জানাজা শেষে ঈদগাঁ গেইটের সামনে পৌঁছালে আগে থেকে ওৎ পেতে থাকা তারই মামাতো ভাই নাঈম ও নাদিম প্রকাশ্যে চাইনিজ কুড়াল দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। এক পর্যায়ে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়লে ধারালো ছুরি দিয়ে গলা কেটে মৃত্যু নিশ্চিত করে পালিয়ে যায় তারা। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতালে প্রেরণ করেছে।
অভিযোগ উঠেছে, মামাকে হত্যা করার প্রতিশোধে এই হত্যাকাণ্ড হয়েছে ‘হত্যার বদলে হত্যা’। অর্থাৎ হাবিবুল্লাহর ছেলে নাদিম–নাঈম ধারালো অস্ত্র দিয়ে জনসম্মুখে হানিফকে গলা কেটে হত্যা করে।
স্থানীয়রা আরও জানায়, মো. হাবিবুল্লাহ এবং হানিফ মিয়া পরস্পর মামা-ভাগনে সম্পর্ক হলেও এদের মধ্যে মামার বাড়ির সম্পত্তি নেয়ার বিষয় নিয়ে বিরোধ ছিল। এ বিরোধকে কেন্দ্র করেই প্রথমে ভাগনে মামাকে পিটিয়ে হত্যা করে। পরে মঙ্গলবার দুপুরে ওই মামার ছেলেরা বাবার হত্যার প্রতিশোধ হিসেবে হানিফ মিয়াকে গলা কেটে হত্যা করে।
নিহতের খালাতো ভাই হ্নদয় বলেন, জানাজা শেষে অটোতে উঠার সময় হানিফের মামাতো ভাইয়েরা তাকে কুপিয়ে হত্যা করে। এর আগে দুই পরিবারের বিরোধে মামা হাবিবুল্লাহ মারা গেছেন। এই মামলায় বর্তমানে হানিফের ছোট ভাই জেলে রয়েছে। আজকে হানিফকে মেরে ফেলা হলো।
নরসিংদী সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. এমদাদুল হক জানান, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে এই হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এখনো থানায় কেউ অভিযোগ দেয়নি। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
