অর্থনৈতিক সংকটে জর্জরিত শ্রীলঙ্কা অনেক দিন ধরেই ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে। সরকারি রিজার্ভের অর্থ অপব্যয় এবং করোনা মহামারীর প্রভাবে ২০২১ সালের মাঝামাঝি সময়ে ডলারের মজুদ তলানিতে ঠেকে যায় শ্রীলঙ্কার। ফলে নজিরবিহীন অর্থনৈতিক সংকটে পড়ে শ্রীলঙ্কা। পরের বছর জনগণের প্রবল বিক্ষোভে মুখে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হন শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসে। তবে দুই বছরের ব্যবধানে অভূতপূর্ব এক রেকর্ড গড়েছে দ্বীপরাষ্ট্রটি। শ্রীলঙ্কার আদমশুমারি এবং পরিসংখ্যান বিভাগ জানিয়েছে, গত সেপ্টেম্বর মাসে দেশটিতে সার্বিক মূল্যস্ফীতির হার ০.৫(-) শতাংশে নেমে এসেছে। এর আগে আগস্টে এই হার ছিল শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ। যা গত ৪০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। ফলে শ্রীলঙ্কায় কমতে শুরু করেছে সবধরনের পণ্যের দাম, স্বস্তি ফিরছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।
২০২২ সালে শ্রীলঙ্কার মূল্যস্ফীতির হার পৌঁছেছিল ৬৯ দশমিক ৮০-তে। খাদ্য-জ্বালানি-ওষুধের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে আক্ষরিক অর্থেই আগুন ধরে গিয়েছিল। সেখান থেকে মাত্র দুই বছরের মধ্যে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সাফল্য দেখাল দেশটির সরকার। এর আগে সর্বশেষ মূল্যস্ফীতির এমন নেতিবাচক হার দেখা গিয়েছিল ১৯৯৫ সালে। ওই বছর শ্রীলঙ্কায় মূল্যস্ফীতির হার নেমে গিয়েছিল শূন্য দশমিক ৯ শতাংশে। তার আগে ১৯৮৫ সালে এই হার নেমেছিল ২ দশমিক ১ শতাংশে। রাজাপাকসে ক্ষমতা ছাড়ার পর নতুন প্রেসিডেন্ট হন রনিল বিক্রমাসিংহে। তার সময়েই বিশ্বের আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল থেকে ২৯০ কোটি ডলার জরুরি ঋণ পায় শ্রীলঙ্কা। এরপর থেকে কর বাড়ানো, ভর্তুকি কমানো, সরকারি দপ্তরে ছাঁটাইসহ নানা পদক্ষেপ নেয় দেশটি। আর সেখান থেকেই দেশটির অর্থনীতির ঘুরে দাঁড়ানো শুরু হয়।
গত সেপ্টেম্বরে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হয়েছে শ্রীলঙ্কায়। সেই নির্বাচনে জয়ী হয়ে দেশটির নতুন প্রেসিডেন্ট হয়েছেন অনূঢ়া কুমারা দিশানায়েকে। তিনি ইতিমধ্যে জানিয়েছেন যে আইএমএফের সঙ্গে সম্পর্ক চালিয়ে যেতে তিনি আগ্রহী, তবে যেসব শর্তে সংস্থাটি ঋণ দিয়েছেÑ সেগুলোর মধ্যে কয়েকটি বিষয়ে পরিবর্তন আনতে চান তিনি।
