সন্তানের চিকিৎসা করাতে এসে লাশ হলেন বাবা

আপডেট : ০৩ অক্টোবর ২০২৪, ০২:৫৫ এএম

পাঁচ মাসের ব্যবধানে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে লিফট দুর্ঘটনায় আবারও মৃত্যু হয়েছে। এবার মারা গেছেন এক রোগীর স্বজন। ঘটনাটি ঘটেছে গত মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে।

নিহত মো. জাহিদুল ইসলামের (৪০) বাড়ি কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলায়। তিনি গাজীপুর মহানগরীর কুনিয়া তারগাছ এলাকার বাসিন্দা। তার সাত দিন বয়সী সন্তান আমেনা হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছে।

নিহতের স্বজন ও প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, জাহিদুল ইসলাম তিন দিন আগে তার শিশুসন্তানকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে আনেন। পরে চিকিৎসকের পরামর্শে তাকে হাসপাতালের ১০-তলায় শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি করানো হয়। গত মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে জাহিদুল নিচে নামার জন্য লিফট কল করেন। কিছু সময় পর দরজা খুলে গেলেও লিফট আসেনি। লিফটের মেঝে ফাঁকা ছিল। তিনি লিফটের ভেতরে পা দিলে সঙ্গে সঙ্গে নিচ পড়ে যান এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এ সময় পাশে দাঁড়িয়ে থাকা তার শ্যালিকাসহ অন্য কয়েকজন রোগীর স্বজন অল্পের জন্য রক্ষা পান।

এর আগে চলতি বছরের ১২ মে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের লিফটে আটকা পড়ে মমতাজ (৫০) নামে এক রোগীর মৃত্যু হয়। এ ছাড়া ৩ মে হাসপাতালের ১২-তলায় লিফটের পাশের একটি ফাঁকা স্থান দিয়ে পড়ে গিয়ে জিল্লুর রহমান (৭০) নামে আরেক রোগী মারা যান। ওই ঘটনায় তদন্ত কমিটি করা হলেও পরে কারও বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এমনকি তদন্ত প্রতিবেদনও প্রকাশ করা হয়নি।

হাসপাতালে দায়িত্বরত আনসার সদস্য আইয়ুব হোসেন বলেন, ‘খবর পেয়ে লিফটের গ্রাউন্ড ফ্লোর থেকে তাকে (জাহিদুল) রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এই লিফট গত কয়েক দিন ধরে সমস্যা থাকলেও কর্তৃপক্ষ কোনো পদক্ষেপ নেয়নি এবং কাউকে সতর্কও করেনি।’

হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি এক রোগীর স্বজন আকাশ আহমেদ বলেন, ‘আমি আর জাহিদ ভাই পাশাপাশি বেডে কয়েক দিন হলো রয়েছি। আমি চা খেয়ে ফেরার পথে শুনি লিফটের ওপর থেকে তিনি পড়ে গেছেন। তার শ্যালিকা চিৎকার করছিলেন। পরে আমরা সবাই দৌড়ে নিচে এসে বলি, একজন পড়ে গেছে। সেখানে কোনো লিফটম্যান ছিল না। ডেকে এনে লিফট খুলে তাকে বের করি। এর মধ্যেই জাহিদ ভাই মারা যান। কয়েক দিন ধরেই লিফটগুলোয় নানা সমস্যা দেখা যাচ্ছিল। কিন্তু কেউ গুরুত্ব দেয়নি।’

হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মঞ্জুর মোর্শেদ বলেন, ‘আমরা শুনতে পাই, লিফট থেকে একজন পড়ে গেছেন। পরে লোকজন লিফট থেকে একজনকে মৃত অবস্থায় নিয়ে আসেন। লাশ মর্গে পাঠানো হয়েছে।’

এ বিষয়ে হাসপাতালের পরিচালক ডা. আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘মঙ্গলবার রাতে একজন রোগীর স্বজন ১০-তলায় লিফটের বোতাম চাপলে লিফট ছিল ১১-তলায়, কিন্তু ১০-তলার গেট খুলে যায়। এ অব্যবস্থায় তিনি লিফটে প্রবেশ করলে নিচে পড়ে মারা যান। ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। কীভাবে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে তদন্ত করে দেখা হবে।’

তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীকে (সিভিল) প্রধান করে গঠিত কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালকের প্রতিনিধি, গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) ও হাসপাতালের সহকারী পরিচালক। দ্রুততম সময়ে তদন্ত কমিটিকে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত