আইডিএলসি-প্রথম আলো এসএমই পুরস্কার পেলেন ৫ উদ্যোক্তা

আপডেট : ০৩ অক্টোবর ২০২৪, ১০:১৯ পিএম

সাধারণের মধ্যে থেকেও যারা অসাধারণ, এমন ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের সম্মানিত করতে তৃতীয়বারের মতো আয়োজিত হলো ‘আইডিএলসি-প্রথম আলো এসএমই পুরস্কার ২০২৩’। মঙ্গলবার (০১ অক্টোবর) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সম্প্রতি ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে যারা জীবন দিয়েছেন, সে সব শহীদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

বিজয়ী ৫ উদ্যোক্তা ও দুইজন সম্মানজনক স্বীকৃতি প্রাপ্তদের হাতে আইডিএলসি-প্রথম আলো এসএমই পুরস্কার তুলে দেন প্রধান অতিথি অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ, বাণিজ্য এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন আইডিএলসি ফাইন্যান্সের সিইও ও এমডি এম জামাল উদ্দিন এবং প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান।

অনুষ্ঠানে পুরস্কারপ্রাপ্ত উদ্যোক্তাদের পাশাপাশি তাদের স্বজন, বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতা এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন প্রথম আলোর ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন, যুবকার্যক্রম ও ইভেন্টের প্রধান সমন্বয়কারী মুনির হাসান।

পাঁচটি ক্যাটাগরিতে বিজয়ী হয়েছেন যথাক্রমে কৃষি ক্যাটাগরিতে– স্কাইফ্লোরা লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাজিদ খান, প্রযুক্তি ক্যাটাগরিতে এ আর কমিউনিকেশনসের প্রতিষ্ঠাতা এম আসিফ রহমান, উৎপাদন শিল্প ক্যাটাগরিতে সেইফ ট্রেডিং করপোরেশনের (সতেজ) স্বত্বাধিকারী মো. মোস্তফা কামাল, রপ্তানি শিল্প ক্যাটাগরিতে অপরাজেয় লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী মো. মনির হোসেন ও চেয়ারম্যান মুনিয়া জামান এবং নারী উদ্যোক্তা ক্যাটাগরিতে রেড বিউটি স্টুডিও অ্যান্ড সেলুন ও উজ্জ্বলা লিমিটেডের স্বত্বাধিকারী ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক আফরোজা পারভীন পুরস্কার পেয়েছেন।

এছাড়া সম্মানজনক স্বীকৃতি পেয়েছেন ইনোভেশন গ্যারেজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ এস এম আশিকুর রহমান এবং কাঁকন রেফ্রিজারেশন অ্যান্ড এয়ারকন্ডিশনিং ওয়ার্কশপের স্বত্বাধিকারী ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মাহমুদুন্নবী বিপ্লব। অনুষ্ঠানে সব বিজয়ীদের উপর নির্মিত ভিডিও দেখানো হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন বাংলাদেশের উন্নয়ন কৌশলে গলদ আছে। বেশ আগে থেকেই প্রবৃদ্ধি দেখানো হচ্ছে। সেই প্রবৃদ্ধির সুফল সব পর্যায়ের মানুষ পাচ্ছে কি না, তা নিয়ে কাজ হয়নি। বাংলাদেশে সবার জন্য সমান সুযোগ হয়নি। অন্তর্বর্তী সরকার সেটি মেরামতের চেষ্টা করবে।

ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) নিয়ে উপদেষ্টা বলেন, দুঃখজনকভাবে বাংলাদেশে এসএমই খাতের অবদান কম। নীতিগত সমস্যাও আছে। বড় উদ্যোক্তারা সব সময় বেশি পান। কারণ, তাঁদের লবি (তদবির) বড়। এসএমই উদ্যোক্তাদের অর্থায়নের সমস্যা তুলে ধরে তিনি বলেন, বড় উদ্যোক্তারা বেশি ঋণ পান। তাঁরা খেলাপিও বেশি হন। অন্যদিকে ছোটরা খেলাপি হন কম। তারপরও ছোটদের ঋণ দিতে ব্যাংকগুলোর উৎসাহ কম।

ফিলিপাইনের এক প্রত্যন্ত এলাকার নারী উদ্যোক্তার গল্প বলেন সালেহউদ্দিন আহমেদ। অনেক দিন আগে সেখানে ভ্রমণে গিয়ে এই উদ্যোক্তার সঙ্গে কথা হয় তার। বললেন, ‘নারী উদ্যোক্তা আমাকে বললেন, বিকেলের ফ্লাইটে তিনি সিঙ্গাপুরে গিয়ে পণ্য প্রদর্শন করবেন। ফিলিপাইনের এক প্রত্যন্ত এলাকার নারী যদি অন্য দেশে গিয়ে নিজের পণ্যের বিপণন করেন, তাহলে আমাদের উদ্যোক্তারা পারবেন না কেন।’ এ জন্য রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতার পাশাপাশি গুণগত মানসম্পন্ন পণ্য উৎপাদন ও টেকসই ব্যবস্থাপনায় নজর দিতে উদ্যোক্তাদের পরামর্শ দেন তিনি।

স্বাগত বক্তব্যে আইডিএলসি ফাইন্যান্সের এমডি ও সিইও এম জামাল উদ্দিন বলেন, ১৯৮৬ সালে আইডিএলসির যাত্রা শুরু হলেও ২০০৬ সালে এসএমই উদ্যোক্তাদের ঋণ দেওয়া শুরু হয়। তখন মাসে এসএমই উদ্যোক্তাদের ঋণ দেওয়া হতো ১০ কোটি টাকা। বর্তমানে সেটি বেড়ে ৪০০ কোটি টাকা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘দেশের জিডিপিতে এসএমই খাতের অবদান ২৫ শতাংশ। তবে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে এসএমই খাতের অবদান প্রায় ৫০ শতাংশ। তার মানে আমরা এখনো পিছিয়ে আছি। এসএমই খাতকে এগিয়ে নিতেই এই পুরস্কার দেওয়ার উদ্যোগ।’

এবার জুরিবোর্ডের সভাপতি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউটের (আইবিএ) অধ্যাপক মেলিতা মেহজাবিন। সদস্যরা হলেন- এসএমই ফাউন্ডেশনের মহাব্যবস্থাপক ফারজানা খান, বাংলাদেশ ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প মালিক সমিতির সভাপতি আবদুর রাজ্জাক, ক্রিয়েশনের এমডি মো. রাশেদুল করিম এবং মাস্টার র‌্যাকস অ্যান্ড ফার্নিচারের এমডি আল-মামুন।

আয়োজকরা জানান, চলতি বছর ১২ মার্চ ভার্চুয়ালি উদ্বোধনী আয়োজনের মাধ্যমে অনলাইন ও অফলাইনে এসএমই উদ্যোক্তাদের কাছ থেকে আবেদন আহবান করা হয় এবং আবেদন চলে ২০ মে পর্যন্ত। মোট ১৫৭৬টি আবেদন জমা পড়ে। সম্মানিত জুরিবোর্ড কয়েকদফা যাচাই–বাছাই করে ৫ জনকে বিজয়ী করেন এবং ২ জন সম্মানজনক স্বীকৃতি প্রদান করেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে আইডিএলসি ফাইনান্সের এসএমই থিমসং ‘ভোরের সূর্য তাকে বলো’–এর ওপর নৃত্য পরিবেশন করেন ইভান শাহরিয়ার সোহাগের পরিচালনায় ‘সোহাগ ড্যান্স ট্রুপ’ এবং ‘ও আলোর পথযাত্রী’, ‘মুক্তির মন্দির সোপানতলে’ এবং ‘ধনধান্য পুষ্প ভরা’ ৩টি দেশের গানের সমন্বয়ে একটি সঙ্গীতালেক্ষ পরিবেশন করেন শর্মিলী বন্দোপাধ্যায়ের পরিচালনায় ‘নৃত্যনন্দন’। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত