টেন্ডুলকারের ২০০’র ভেন্যুতে বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি

আপডেট : ০৪ অক্টোবর ২০২৪, ০৯:২০ এএম

মধ্যপ্রদেশে দ্বিতীয়বারের মতো ক্রিকেট খেলতে এলো বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। ২০১৯ সালে প্রথমবার পূর্ণাঙ্গ সিরিজ খেলতে ভারতে আসা বাংলাদেশ দল টেস্ট খেলেছিল ইন্দোরের হোলকার স্টেডিয়ামে। বছর পাঁচেক পর ফের ভারতে সিরিজ খেলতে এলো বাংলাদেশ, শুরুতে গোয়ালিয়রের নাম ভেন্যুতে না থাকলেও ধর্মশালা ভেন্যুর নির্মাণকাজের কারণে ফের মধ্যপ্রদেশে পড়ল খেলা। তবে এবার অন্য ভেন্যুতে। গোয়ালিয়রে নবনির্মিত মাধব রাও সিন্ধিয়া স্টেডিয়ামের প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচটিই হবে ভারত-বাংলাদেশ সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টি।

১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট ভারত ব্রিটিশদের কাছ থেকে স্বাধীন হওয়ার আগে, গোয়ালিয়র ছিল প্রিন্সলি স্টেট। অর্থাৎ এখানে সরাসরি ব্রিটিশ শাসকরা শাসন করতেন না, স্থানীয় রাজারাই ব্রিটিশদের আনুগত্য মেনে নিয়ে শাসন করতেন। গোয়ালিয়রের শাসক ছিল মারাঠাদের একটি গোত্র সিন্ধিয়া রাজবংশ। এই বংশের মানুষদের নাম ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে গোয়ালিয়র জুড়েই। বিমানবন্দরের নামই রাজমাতা বিজয়া রাজে সিন্ধিয়া, স্টেডিয়াম যার নামে সেই মাধব রাও এর মা। বোঝাই যাচ্ছে রাজতন্ত্রের অবসান হলেও রাজনীতিতে তাদের প্রভাব কমেনি। বিজয়া রাজে ছিলেন ভারতীয় জন সঙ্ঘের প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের একজন, লোকসভা ও রাজ্যসভা দুই জায়গাতেই প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ইন্দোরের হোলকার স্টেডিয়ামের প্রেসবক্স ছিল আর ছেলে প্রয়াত মাধবরাও সিন্ধিয়ার নামে, কংগ্রেসের প্রাক্তন এই বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রী বছর তিনেকের জন্য বিসিসিআইয়ের প্রেসিডেন্টও ছিলেন। তার নামেই গোয়ালিয়র শহর থেকে ১০ কিলোমিটারের বেশি দূরে, আগ্রা-মুম্বাই হাইওয়ের শঙ্করগড় বলে একটি জায়গায় ৩০ একর জায়গা নিয়ে গড়ে তোলা হয়েছে শ্রীমন্ত মাধবরাও সিন্ধিয়া ক্রিকেট স্টেডিয়াম। এখানেই গতকাল বৃহস্পতিবার অনুশীলন করল বাংলাদেশ ও ভারত, দুই দলই। বাংলাদেশ দল অনুশীলন করেছে দুপুর ১টা থেকে ৪টা পর্যন্ত, ভারতীয় দল অনুশীলন করেছে বিকেল ৫টা থেকে রাত ৮টা অবধি।

বাংলাদেশের টেস্ট দলে থাকা অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত, মেহেদী হাসান মিরাজ, লিটন দাস, জাকের আলি অনিক ও তাসকিন আহমেদ ছাড়া বাকি সবারই ভারতের মাটিতে এই সফরে প্রথম অনুশীলন। তাই কোচদেরও নতুনদের দিকেই মনযোগ ছিল বেশি। দুটো নেটের একটিতে পেসার অন্যটিতে স্পিনাররা বল করেছেন। পালা করে সবাই ব্যাট করেছেন, তবে বেশ লম্বা সময় নিয়ে ব্যাটিং অনুশীলন করেছেন তানজিদ হাসান তামিম আর তাওহীদ হৃদয়। দুজনেই প্রচ- গরমের সঙ্গে অভ্যস্ত হচ্ছিলেন। ব্যাটিং বোলিংয়ের পর হয়েছে ফিল্ডিং অনুশীলনও। তবে গণমাধ্যম কর্মীদের মাঠের ভেতর বা সীমানা দড়ির আশপাশে যাওয়ারও সুযোগ মেলেনি। অনুশীলন দেখতে হয়েছে প্রেসবক্স থেকেই, কোনো নির্ধারিত সংবাদ সম্মেলন না থাকায় দলের পক্ষ থেকে কেউ কথাও বলেননি।

ভারতীয় দলের ক্রিকেটাররা অনুশীলন করার সময় বাড়তি একটি নেট টানিয়ে দেওয়া হয়, ফলে একই সঙ্গে তিনজন করে ব্যাটসম্যান পালা করে ব্যাটিংয়ের সুযোগ পাচ্ছিলেন। তারুণ্যদীপ্ত ভারতীয় দলকে বাংলাদেশের চেয়ে ফিল্ডিং অনুশীলনে অনেক বেশি প্রচেষ্টা প্রদর্শন করতে দেখা গেছে। ভারতের ফিল্ডিং কোচ টি দিলীপ একটা উঁচু মানদ- তৈরি করেছেন ভারতীয় দলের জন্য, যেটা দেখা গেছে টেস্ট ম্যাচের ফিল্ডিংয়ে। প্রতি ম্যাচেই আলাদা করে ইমপ্যাক্ট ফিল্ডার অব দ্য ম্যাচ পুরস্কার দেওয়া হয় দলের ড্রেসিং রুমে, সেটা নানা অভিনব কায়দায়। তাই ফিল্ডিং নিয়ে দলের ভেতরও চলে প্রতিযোগিতা। যশশ্বী জয়সওয়াল, মোহাম্মদ সিরাজ এমনকি রোহিত শর্মাও দারুণ সব ক্যাচ ধরেছেন। টি-টোয়েন্টি দলে ফিল্ডিং আরও আগ্রাসী হবে, সেটাই স্বাভাবিক। বাংলাদেশ দলের কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহের সহকারী নিক পোথাস আছেন ফিল্ডিং শেখানোর দায়িত্বে। শিষ্যদের ফিল্ডিংয়ে উজ্জীবিত করার জন্য এমন কোনো উদ্ভাবনী কৌশল তিনি নিয়েছেন বলে দৃশ্যমান নয়। বরং টেস্ট সিরিজে সাকিব ও শান্তর ক্যাচ ফেলা, খালেদের রানআউট মিস ও মিসফিল্ডিংয়ে চার দেওয়ার দৃশ্যগুলো আন্তর্জাতিক পর্যায়ে শিশুতোষ ভুলের পরিচয় বহন করে।

গোয়ালিয়রে আরেকটি স্টেডিয়াম আছে, শহরের মধ্যেই। ক্যাপ্টেন রূপ সিং স্টেডিয়াম, ভারতের হয়ে অলিম্পিকে সোনাজয়ী খেলোয়াড়ের নামে নামকরণ। আদতে হকি স্টেডিয়াম, পরে ক্রিকেটের জনপ্রিয়তায় এই মাঠে ক্রিকেটও হওয়া শুরু হয়। অন্যদিকে হকি বদলে যায় ঘাস থেকে টার্ফে। এই মাঠে শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচটা ছিল ২০১০ সালে, যে ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ওয়ানডেতে ডাবল সেঞ্চুরি করেছিলেন শচীন টেন্ডুলকার। টি-টোয়েন্টির আগ্রাসনে এখন ডাবল সেঞ্চুরি অনেকটা ছেলেখেলা, রোহিত শর্মাই তিনখানা করেছেন। তবে ১৪ বছর আগে ডাবল সেঞ্চুরি করাটা ছিল অকল্পনীয়, সেটাই করে দেখিয়েছিলেন ভারতীয় ক্রিকেট ঈশ্বর। সেই মাঠ আছে, তবে স্টেডিয়ামের বাকি স্থাপনা এখন প্রায় ধ্বংসস্তূপ। অবশ্য ব্রায়ান লারা যে মাঠে ৪০০ রান করেছিলেন টেস্টে, সেই অ্যান্টিগার মাঠও তো আর নেই।

কানপুর ছিল বর্তমান বিসিসিআই ভাইস প্রেসিডেন্টের শহর, গোয়ালিয়রের স্টেডিয়াম সাবেক এক বিসিসিআই প্রেসিডেন্টের নামে। কে বলে, খেলার সঙ্গে রাজনীতি মেশানো যায় না!

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত