টঙ্গীর অটোরিকশাচালক রাজু মিয়া কোটা সংস্কারের দাবিতে বিক্ষোভ চলাকালে পুলিশের গুলিতে আহত হন। রাজধানীর একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নিজের ডান পায়ের দিকে অপলক তাকিয়ে ছিলেন, তার চোখে-মুখে রাজ্যের দুশ্চিন্তা আর ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা। সাংবাদিক পরিচয়ে কথা বলতে চাইলে ডুকরে কেঁদে ওঠেন।
তিনি বলেন, পরিবার নিয়ে অনিশ্চয়তায় আছি। দুই মাসের ঘরভাড়া বাকি পড়েছে, কীভাবে সংসার চলবে কিছুই জানি না। এক পা ছাড়া বাড়ি গিয়ে কী করব? কাজ করতে না পারলে দুই ছেলেমেয়েরে কি খাওয়াব? সরকার যদি আমাদের একটা ভাতা দেওয়ার ব্যবস্থা করত, কোথাও কাজ করার ব্যবস্থা করত তাহলে বেঁচে যেতাম, না হয় পরিবার নিয়ে রাস্তায় দাঁড়ানো ছাড়া উপায় নেই।
গত বৃহস্পতিবার দেশ রূপান্তরের এই প্রতিবেদক যখন রাজু মিয়ার সঙ্গে কথা বলছিলেন তখন পাশে ছিলেন স্ত্রী স্বপ্না। তিনি বলেন, দেশটা তো মুক্ত হলো। আমাদের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে কি? শুনছি সরকার ১ লাখ টাকা দেবে, এতে আমাদের কি হবে। টাকা না দিয়ে যদি ভাতার ব্যবস্থা করে কিংবা প্রশিক্ষণ দিয়ে আহতদের জন্য কোনো কারখানায় কাজের ব্যবস্থা করে দেয় তাহলে আমার পরিবারটা বাইচা যায়।
রাজু মিয়া বলেন, আমি ২০ জুলাই দুপুরে অটোরিকশা নিয়া বাইর হই। টঙ্গীর গাজীপুরা এলাকার তামিরুল মিল্লাত মাদ্রাসার সামনে একজন আহত ছাত্র বাঁচাও বাঁচাও বলে ডাকছিল। ছেলেটাকে তুলতে গেলে পুলিশ আমাকে গুলি করে। সেই গুলির কারণে আমার একটি পা কেটে ফেলতে হয়েছে।
কোটা সংস্কারের দাবিতে বিক্ষোভ এবং পরবর্তীকালে সরকার পতনের আন্দোলনকে ঘিরে সংঘর্ষ-সহিংসতায় গুরুতর আহত হয়ে অনেকের হাত কাটা পড়েছে, কারও গেছে পা, আবার অনেকেই চক্ষু হারিয়ে আজীবনের জন্য পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। অনিশ্চিত ভবিষ্যতের ঝুঁকিতে পরিবার নিয়ে দিন কাটছে তাদের।
