এ বছর পদার্থবিজ্ঞানে যৌথভাবে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের জন হপফিল্ড ও যুক্তরাজ্যের জিওফ্রে হিন্টন। পদার্থবিজ্ঞানের সূত্র মেনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে যন্ত্রচালনা (মেশিন লার্নিং) বিষয়ে অসামান্য অবদান রাখায় গতকাল মঙ্গলবার নোবেল বিজয়ী হিসেবে তাদের নাম ঘোষণা করে রয়াল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্সেস। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে যন্ত্রচালনাবিষয়ক গবেষণার স্বীকৃতি পেলেন তারা।
কৃত্রিম স্নায়ুতন্ত্রের (নিউরাল নেটওয়ার্ক) সাহায্যে যন্ত্রচালনার বিষয়টিকে সম্ভব করে তোলার ক্ষেত্রে জন হপফিল্ড ও জিওফ্রে হিন্টনের উদ্ভাবন গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রেখেছে। তাদের গবেষণা মেশিন লার্নিং ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। হপফিল্ড এমন একটি কাঠামো তৈরি করেছেন, যা তথ্য সংরক্ষণের পাশাপাশি তা পুনরুৎপাদন বা পুনঃসঞ্চয়ন করতে পারে। আর হিন্টনের উদ্ভাবিত পদ্ধতি স্বাধীনভাবে তথ্যের ভেতরকার বা অন্তর্নিহিত বৈশিষ্ট্য বা ধরন খুঁজে বের করতে সক্ষম। বর্তমানে ব্যবহৃত নিউরাল নেটওয়ার্কগুলোর পেছনে যুগান্তকারী ভূমিকা রেখেছে এ দুই পদার্থবিজ্ঞানীর গবেষণা।
১৯৩৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোতে জন্মগ্রহণ করেন জন হপফিল্ড। ১৯৫৮ সালে করনেল ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচডি করেন। বর্তমানে নিউ জার্সির প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক। আর জিওফ্রে হিন্টনের জন্ম লন্ডনে, ১৯৪৭ সালে। স্কটল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি অব এডিনবরা থেকে ১৯৭৮ সালে পিএইচডি করেন তিনি। বর্তমানে কানাডার টরন্টো বিশ^বিদ্যালয়ের অধ্যাপক।
নোবেলজয়ী এই বিজ্ঞানীরা পাবেন একটি করে নোবেল মেডেল ও সনদপত্র। তারা যৌথভাবে পাবেন পুরস্কারের অর্থমূল্য হিসেবে ১ কোটি ১০ লাখ সুইডিশ ক্রোনার। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ১২ কোটি ৮০ লাখ টাকা। নিয়ম অনুযায়ী একাধিক জন নোবেল পেলে তাদের মধ্যে পুরস্কারের অর্থ সমানভাবে ভাগ হয়।
গত বছর পদার্থবিদ্যায় নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন তিনজন যুক্তরাষ্ট্রের পিয়েরে অগোস্তিনি, ফেরেন্স ক্রাউজ ও ফ্রান্সের অ্যান ল’হিয়ে। ইলেকট্রন গতিবিদ্যা বিষয়ে তারা গবেষণার মাধ্যমে আলোর অ্যাটোসেকেন্ড স্পন্দন সৃষ্টিতে সক্ষম হন। ১৯০১ সাল থেকে চলতি বছর পর্যন্ত ১১৮ বার পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। ২২৬ জন পদার্থবিজ্ঞানী এ পুরস্কার পেয়েছেন। এর মধ্যে জন বার্ডিন দুবার পদার্থবিদ্যায় নোবেল পুরস্কার জিতেছেন।
