বাটলার ভোলাতে চাইলেও অতীত ভোলেননি সানজিদারা

আপডেট : ০৯ অক্টোবর ২০২৪, ০৮:১৫ পিএম

২০২২ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর তারিখটি বাংলাদেশের নারী ফুটবলের ইতিহাসে পেয়েছে চিরস্থায়ী আসন। নেপালের দশরথ রঙ্গশালা স্টেডিয়ামে সেই সন্ধ্যায় স্বাগতিকদের ৩-১ গোলে হারিয়ে প্রথমবারের মতো সাফের মসনদে বসেছিল বাংলাদেশের মেয়েরা। দেখতে দেখতে আরেকটি সাফের আসর কড়া নাড়ছে। ১৭ অক্টোবর সেই নেপালেই শুরু হবে টুর্নামেন্টটি। যেখানে বাংলাদেশ যাবে শিরোপা ধরে রাখার লক্ষ্য নিয়ে। আর স্বাভাবিকভাবেই ২০২২-এর ১৯ সেপ্টেম্বরের সুখস্মৃতি ফিরে আসবে মেয়েদের ভাবনায়। তবে এই ভাবনটাই ভুলিয়ে দিতে চাইছেন নারী দলের ইংলিশ কোচ পিটার জেমস বাটলার। অতীত ভুলে নতুন একটা শুরুই প্রত্যাশা এই অভিজ্ঞ কোচের। তবে মাসুরা-সানজিদারা অতীতের সেই অবিস্মরণীয় স্মৃতি ভুলতে চান না। বরং চান সেই সাফল্য থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে আরেকবার সাফের সেরা হতে।

১৫ অক্টোবর সদলবলে নেপাল যাবেন বাটলার। প্রস্তুতিতে ঘাটতি আছে, খেলার সুযোগ হয়নি কোন প্রস্তুতি ম্যাচ। তারপরও এই কোচের আশা ইতিবাচক ফুটবলে বাংলাদেশ পৌঁছাবে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে, 'আমি বিষয়গুলো ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন হিসেবে দেখছি না। কেননা, সেটা এখন ইতিহাস। আমি মনে করি, কেউ অতীতে বাস করে না। অতীতের অর্জন কোনো কিছুর নিশ্চয়তাও দেয় না। আমি সেই ঘরানার মানুষ, যে বর্তমান দেখে। ভবিষ্যতে, সামনের দিকে তাকায়। আমি আসলে গুরুত্বপূর্ণ মনে করি সামনের দিকে তাকানো। অতীতে যা হয়েছে, সেটা হয়ে গেছে। ভিন্ন একটা দল, মানসিকতাও ভিন্ন, তবে লক্ষ্য একই। আমি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মনে করি, নিজেদের দিকে তাকিয়ে বর্তমানে থাকা। অতীতে বাস করা নয়।' প্রীতি ম্যাচ খেলতে না পারার একটা আফসোস আছে বাটলারেরও। তবে তিনি বাস্তবতাকেও ভুলতে চাইছেন না। বাফুফের আসন্ন নির্বাচন, দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি মেনে নিয়েই দলকে যতটা সম্ভব প্রস্তুত করার কথা বলেছেন তিনি, ‘এই দলের কিছু প্রীতি ম্যাচ খেলতে পারলে ভালো হতো, কিন্তু সেটা হয়নি। এটা নিয়ে অভিযোগ নেই। আপনারা জানেন কী পরিস্থিতি... বাফুফের নির্বাচন। হয়ত যেভাবে আমরা প্রস্তুতি নিতে চেয়েছি, সেভাবে নিতে পারিনি। সেটা নিয়ে আক্ষেপ করার কিছু নেই। ইতিবাচক থেকে নিজেদের সম্ভাব্য সেরাটা নিংড়ে দিয়ে এগিয়ে যাওয়াই গুরুত্বপূর্ণ।'

দুবছর আগের সাফল্য এসেছিল গোলাম রব্বানী ছোটনের কৌশলে খেলে। এবার কোচ বদলেছে, বদলে গেছে প্রেক্ষাপট। সেই সঙ্গে নিজেদের মানসিকতায়ও পরিবর্তন আনতে হয়েছে খেলোয়াড়দের। এবারের সাফে বাংলাদেশ অনেক বেশি আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলবে বলে জানালেন অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার মাসুরা পারভীন। আগ্রাসী ফুটবলে দুবছর আগের পুনরাবৃত্তি ঘটাতে চান তিনি, 'নতুন কোচের অধীনে, আমরা তার চাওয়া মতোই গুছিয়ে নিয়েছি নিজেদের। ভালো ট্রেনিং হচ্ছে। উনি রক্ষণাত্মক ফুটবল পছন্দ করেন না। উনি চান না আমরা নিচে নেমে খেলি। বেশিরভাগ সময় আমাদের আক্রমণাত্মক খেলায়। আক্রমণাত্মক খেলাই ওনার পছন্দ।'

দলের অন্যতম উইঙ্গার সানজিদা ম্যাচ প্র্যাকটিসের খামতি থাকার কথা বলেছেন কোচের সুরে সুর মিলিয়ে, 'আমরা ওরকম প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে পারিনি। আমরা নিজেরা, নিজেরা ম্যাচ খেলেছি, কিন্তু অন্য দেশের সাথে খেলতে পারলে ভালো হত। আমাদের ভুল-ত্রুটিগুলো ধরতে পারতাম। কিন্তু সাফের জন্য আমাদের প্রস্তুতি মোটামুটি আছে, চেষ্টা করব ভালো কিছুর করার।'

বাটলারের এই দল গড়তে অভিজ্ঞতার পাশাপাশি আস্থা রেখেছেন তারুণ্যে। সাবিনা খাতুন, মারিয়া মান্ডা, মনিকা চাকমা, মাসুরা, সানজিদার পাশাপাশি দীর্ঘদিন পর জাতীয় দলে ফিরেছেন ২০২২ সাফ জয়ে বড় ভূমিকা রাখা স্ট্রাইকার কৃষ্ণারানী সরকার। এছাড়া সাগরিকার মতো তরুণ প্রতিভাও দেখাচ্ছে ভালো কিছুর আশা। ২০ অক্টোবর পাকিস্তানের বিপক্ষে গ্রুপপর্বের ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে বাংলাদেশ শিরোপা ধরে রাখার মিশন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত