সীমান্তে স্বামী হত্যার বিচার চান জোহরা বেগম

আপডেট : ০৯ অক্টোবর ২০২৪, ১০:২০ পিএম

কী অপরাধ ছিল তার, কেন তাকে হত্যা করা হলো? সে যদি অন্যায় করে থাকে, আইন আছে তাকে জেলে দিত। আমরা আইনের মাধ্যমে জেল থেকে তাকে ছাড়িয়ে আনতাম। তারপরও আমার স্বামীর জীবনটা বাঁচত। আজকে আমার ছেলেমেয়ে এতিম হলো, আমি হলাম বিধবা। এইসব বলে কান্নায় ভেঙে পড়েন কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার পাহাড়পুর সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত কামাল হোসেনের স্ত্রী জোহরা বেগম। 

তিনি আরও বলেন, আমার পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎস আমার স্বামী। তার মৃত্যুতে সব শেষ হয়ে গেল। আমি এখন কই যাব। কে আমার সংসার চালাবে। আল্লাগো আল্লাহ। আমার স্বামী ঘরেই ছিলেন। তাকে লাদেন কামাল নামের একজন ডেকে নিয়ে যায়। কিন্তু আমার স্বামী বলেছিল, আমি অসুস্থ যেতে পারবো না। তখন লাদেন হুমকি দিয়ে বলে, না গেলে মামলা করে দেবে। তাকে গুলি করে মারতে হবে কেন? বিএসএফ তাকে গুলি করে হত্যা করেছে। তার কোনো অপরাধ ছিল না। তাই তিনি সরকারের কাছে এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানান। 

এ বিষয়ে নিহত কামালের মেয়ে কামরুন নাহার শান্তা বলেন, আমার বাবাকে জোর করে সীমান্তে নেওয়া হয়েছে। বাকি দুজন ফিরলেও আমার বাবা কেন ফিরল না। আমাদের বাড়ি থেকে সীমান্ত আড়াই কিলোমিটার। কিন্তু পাহাড়পুর সীমান্ত ৫ কিলোমিটার। আমার বাবার যদি ইচ্ছাই থাকতো তাহলে তিনি আমাদের বাড়ির পাশে দিয়ে যেতেন। এতদূরে কেন গেলেন। অন্যায়ভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে। আমরা এর বিচার চাই।

এ বিষয়ে ১০ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ইফতেখার হোসেন বলেন, লাশ পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি।

উল্লেখ্য, গত সোমবার (৭ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার পাহাড়পুর সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত হন কামাল। তিনি উপজেলার জোলাই কুড়িয়াপাড়া গ্রামের ইদু মিয়ার ছেলে। এরপর লাশ নিয়ে যায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ। বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি) ও বিএসএফের পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে নিহতের মরদেহ ২৬ ঘণ্টা পর মঙ্গলবার রাতে ফেরত দেয় বিএসএফ। বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি) নিহতের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেন। মঙ্গলবার বিকেলে নিহতের লাশ  পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত