রোমান সানার পড়তি ফর্মে খুব বেশি করে উচ্চারিত হয়েছিল তার নাম। ছিলেন জাতীয় আরচারি দলের রিকার্ভ বিভাগের অন্যতম সদস্য। অথচ সেই হাকিম আহমেদ রুবেল খেলা ছেড়ে উজ্জ্বল ভবিষ্যতের আশায় পাড়ি জমিয়েছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। গোপনে তার দেশত্যাগে হতবাক আরচারি অঙ্গন। অনেকেই বিশ্বাসই করতে পারছেন না এ মুহূর্তে রুবেলের এভাবে চলে যাওয়া।
এই প্রতিবেদকের কাছে এ নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করলেন আরচারি জাতীয় দলের জার্মান কোচ মার্টিন ফ্রেডরিখ। যদিও পুরোপুরি নিশ্চিত না হয়ে তিনিও আনুষ্ঠানিক কিছু বলতে চাননি। শুধু বলেছেন, ‘শেষ দুটি বিশ্বকাপে রুবেল ছিল বাংলাদেশের সেরা পারফরমার। সাগর ইসলাম হয়তো অলিম্পিকে যোগ্যতা অর্জন করেছে, তবে গেল কয়েক বছরে ওই রিকার্ভে আমার চোখে সেরা পারফরমার। ওর বিষয়ে এ রকম একটা কিছু শুনে ভীষণ বিস্মিত হয়েছি। তবে পুরোপুরি নিশ্চিত নই বলে কোনো মন্তব্য করতে চাচ্ছি না।’
অনিশ্চয়তার চাদরে পুরো আরচারি অঙ্গনকেই ঢেকে দেশ ছেড়েছেন রুবেল। ফেডারেশন কর্তাদের দিয়েছেন একেক সময় একেক রকম তথ্য। এমনকি যুক্তরাষ্ট্র থেকেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেডারেশন কর্তাদের বলেছেন, দেশে অসুস্থ বাবার পাশে থাকার কথা। একটি সংবাদমাধ্যমকে নিজেই যুক্তরাষ্ট্রে পাকাপাকি চলে যাওয়ার কথা জানান ২০১৯ এসএ গেমসে সোনাজয়ী এই আরচার।
জানা গেছে, মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছান বিশ্ব আরচারি র্যাংকিংয়ে ৪৭তম অবস্থানে থাকা রুবেল। ২০১৬ থেকে টানা জাতীয় দলে প্রতিনিধিত্ব করা রুবেল ছিলেন পুলিশ আরচারি দলের সদস্য। আট বছরের ক্যারিয়ারে দেশের হয়ে অসংখ্য আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে খেলেছেন রুবেল। যার একটি ছিল ২০২১ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। সে বছর নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে বসেছিল বিশ্ব আরচারি চ্যাম্পিয়নশিপ। সেই আসরে অংশ নিতে গিয়েছিলেন তিনি। সে সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাকে পাঁচ বছরের মাল্টিপল ভিসা দিয়েছিল। সেই ভিসা ব্যবহার করে খেলা ছেড়ে প্রবাস জীবন বেছে নেন রুবেল।
এর আগেও খেলা ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমানোর ঘটনা ঘটেছে আরচারিতে। জাতীয় দলের কম্পাউন্ড বিভাগের আরচার অসীম কুমার সাহা গত বছর জানুয়ারিতে দেশ ছেড়েছিলেন। তবে তিনি ফেডারেশনকে জানিয়েই যুক্তরাষ্ট্রে যান এবং সেখানে স্থায়ীভাবে থাকার অনুমতি প্রার্থনা করেন। চলতি বছর মার্চে যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অনুমতিও পেয়ে যান তিনি। তার পথ অনুসরণ করে রুবেলও চাইবেন যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী হতে।
এ ব্যাপারে অন্ধকারে আছেন ফেডারেশন সাধারণ সম্পাদক কাজী রাজীব উদ্দীন আহমেদ চপলও। তিনি জানান, বুধবারও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে রুবেল ফেডারেশনকে জানিয়েছেন যে তার অসুস্থ বাবার পাশে রয়েছেন, ‘২৮ সেপ্টেম্বর তিনি আমাদের কাছ থেকে ছুটি নেন দাদি মারা গেছেন এই কথা বলে। এরপর আজও (গতকাল) তিনি বলেন অসুস্থ বাবার কাছে থাকার কারণে ক্যাম্পে যোগ দিতে পারছেন না। অথচ এখন শুনছি তিনি যুক্তরাষ্ট্র চলে গেছেন! আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টা নিশ্চিত হইনি। তবে যদি চলেও যার, সেটা হবে আমাদের বড় ক্ষতি। আসলে কোনো খেলোয়াড়কে আটকে রাখার অধিকার আমাদের নেই। কেউ যদি খেলা ছেড়ে বিদেশে পাড়ি জমাতে চান, সেটা তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। তবে অন্তত আমাদের বলে যেতে পারতেন। এর আগে অসীম কিন্তু আমাদের কাছে বলেই যুক্তরাষ্ট্র গিয়েছিলেন।’
