চিকিৎসাবিজ্ঞান ও পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার বিজয়ীর নাম ঘোষণার পর গতকাল বুধবার রসায়নে নোবেল বিজয়ীর নাম ঘোষণা করা হয়েছে। এ বছর রসায়নে যৌথভাবে নোবেল পেয়েছেন তিন বিজ্ঞানী।
বিজয়ীরা হলেন যুক্তরাষ্ট্রের ডেভিড বেকার এবং যুক্তরাজ্যের ডেমিস হ্যাসাবিস ও জন এম জাম্পার। মানব শরীরের গুরুত্বপূর্ণ প্রাণরাসায়নিক উপাদান আমিষ তথা প্রোটিন বিষয়ে গবেষণার স্বীকৃতিস্বরূপ তাদের নাম ঘোষণা করে সুইডেনের রাজধানী স্টকহোমের রয়াল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্সেস।
রয়াল সুইডিশ একাডেমি জানায়, প্রোটিনের গাঠনিক এককগুলোকে যথাযথভাবে নিরূপণের পদ্ধতি তৈরির জন্য ডেভিড বেকারকে এ সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। প্রোটিনে সাধারণত ২০ ধরনের অ্যামাইনো এসিড থাকে। ডেভিড বেকার এসব অ্যামাইনো এসিড ব্যবহার করে সম্পূর্ণ নতুন প্রোটিন উদ্ভাবন করেছেন, যা অসম্ভব বলেই ধারণা ছিল। এ উদ্ভাবনের মাধ্যমে ওষুধ ও ভ্যাকসিন তৈরির পাশাপাশি নানা ক্ষুদ্র উপাদানে এটিকে ব্যবহারযোগ্য করে তোলেন ডেভিড বেকার।
অন্যদিকে, ডেমিস হ্যাসাবিস ও জন জাম্পার এমন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা তৈরি করেছেন যা দিয়ে ৫০ বছরের পুরনো ‘প্রোটিনের জটিল কাঠামো অনুধাবনের’ সমস্যাটির সমাধান করা সম্ভব হয়েছে। ১৯৭০ সাল থেকে গবেষকরা অ্যামাইনো অ্যাসিডের ক্রমবিন্যাস থেকে প্রোটিনের কাঠামো অনুধাবনের চেষ্টা করছিলেন। বিষয়টি বেশ জটিল। ২০২০ সালে এ সংক্রান্ত গবেষণায় নতুন মাইলফলকে পৌঁছান হ্যাসাবিস ও জন জাম্পার। তারা ‘আলফাফোল্ড-২’ নামের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে প্রোটিনের কাঠামো অনুধাবনের প্রক্রিয়া উদ্ভাবন করেন। আলফাফোল্ড-২ ১৯০টি দেশের ২০ লাখের বেশি মানুষ ব্যবহার করেছে।
তাদের এ উদ্ভাবন প্রায় দুইশো মিলিয়ন প্রোটিনকাঠামোর বিষয়ে আগাম অনুমান করা সম্ভব করেছে। বিজ্ঞানীরা এখন অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধের জন্য কী ধরনের জৈব অনুঘটক দায়ী তা বুঝতে পারছেন এবং কী কী এনজাইম প্লাস্টিক পচাতে সক্ষম সে সবের বিষয়ে ধারণা করতে পারছেন, যদিও তা এখনো বাস্তব রূপ পায়নি।
নোবলে পুরস্কার বিজয়ীরা পাবেন ১ কোটি ১০ লাখ সুইডিশ ক্রোনার। বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় সাড়ে ১২ কোটি টাকা। পুরস্কারের অর্ধেক অর্থমূল্য পাবেন ডেভিড বেকার, বাকি অর্ধেক ডেমিস হ্যাসাবিস ও জন এম জাম্পার ভাগাভাগি করে নেবেন। এর সঙ্গে একটি করে নোবেল মেডেল ও সনদপত্র পাবেন নোবেলজয়ী এই বিজ্ঞানীরা।
