নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে আরও ৪০ প্রকল্প

আপডেট : ১১ অক্টোবর ২০২৪, ১২:২৩ এএম

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেছেন, আমাদের নবায়নযোগ্য শক্তি উৎপাদনের পরিমাণ কম, যা প্রায় ২ শতাংশ। এটি আরও বাড়াতে চাই। নবায়নযোগ্য জ্বালানির উৎপাদন বাড়াতে শিগগির ৪০টি প্রকল্পের দরপত্র আহ্বান করা হবে। এ দরপত্র সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর একটি হোটেলে বাংলাদেশ ক্লাইমেট অ্যাকশন ফোরাম-২০২৪ সেমিনারে তিনি এ তথ্য জানান। সেমিনারের আয়োজন করেন অ্যাপারেল ইমপ্যাক্ট ইনস্টিটিউট, ক্যাসকেল, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জিআইজেড, এইচঅ্যান্ডএম, বাংলাদেশে নেদারল্যান্ডসের দূতাবাস, পিডিএস লিমিটেড এবং টার্গেট।

ফাওজুল কবির খান বলেন, ‘কার্বন নিঃসরণ শূন্যে নামিয়ে আনতে বদ্ধপরিকর সরকার। নবায়নযোগ্য জ্বালানির ওপর নির্ভরশীলতা বাড়াতে টেকসই উদ্যোগের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানির উৎপাদন বাড়াতে বড় পরিসরে উদ্যোগের অংশ হিসেবে বিভিন্ন কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ চলছে।

আমরা সাসটেইনেবিলিটিতে আমাদের সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য বৃহত্তর সিস্টেমের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। আমি আশা করি, আপনারা সাসটেইনেবিলিটির দিকে অগ্রযাত্রায় আমাদের সঙ্গে যোগ দেবেন এবং দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন।’

এ সময় প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিকবিষয়ক বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী বলেন, উদ্যোক্তা হিসেবে এবং ব্যবসা হিসেবে এটি গুরুত্বপূর্ণ যে, আমরা কীভাবে পণ্য উৎপাদন করি। সবচেয়ে কম খরচে উৎপাদন করাটাই কেবল বিবেচ্য বিষয় নয়। জলবায়ু পরিবর্তন একটি বাস্তব ঝুঁকি, যা আমাদের অবশ্যই মনে রাখা দরকার। জলবায়ু পরিবর্তনকে কেবল কমপ্লায়েন্স ইস্যু হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয় বরং সঠিক ব্যবসায়িক কৌশলের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।’

বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদলের প্রধান এবং রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার বলেন, ‘বাংলাদেশের মতো জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশের জন্য বৈশি^ক তাপমাত্রা বৃদ্ধির প্রতিটি ভগ্নাংশ গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের সবার একটি সামষ্টিক দায়িত্ব রয়েছে। অনুদান এবং ছাড়যোগ্য ঋণ থেকে ২০২৭ সালের মধ্যে ৩০০ বিলিয়ন ইউরো পর্যন্ত সরকারি ও বেসরকারি বিনিয়োগ একত্র করার গ্লোবাল গেটওয়ের লক্ষ্য রয়েছে।’

জার্মানির রাষ্ট্রদূত অচিম ট্রস্টার বলেন, ‘জ্বালানি নিরাপত্তা বাংলাদেশ এবং জার্মানি উভয়ের জন্যই একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বাংলাদেশ একটি আঞ্চলিক অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় টেকসই, নিরাপদ এবং স্থিতিস্থাপক উপায়ে তার জ্বালানি চাহিদা পূরণ নিশ্চিত করা অত্যাবশ্যক।’

নেদারল্যান্ডস কিংডমের দূতাবাসের চার্জ ডি অ্যাফেয়ার্স থিজ ওয়াউডস্ট্রা বলেন, ‘আমি সত্যিই আনন্দিত যে, পোশাক শিল্প ডিকার্বনাইজেশনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে এবং জাতীয় ও বৈশি^ক জ্বালানি-সংকট বিবেচনা করে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণে এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশে টেকসই এবং সার্কুলার টেক্সটাইলকে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে এবং আমাদের দুই দেশের মধ্যে জ্ঞান ভাগাভাগির কাজটি চালিয়ে যাওয়ার জন্য আমি বাংলাদেশের পোশাক খাত এবং বেসরকারি খাতের সঙ্গে সম্পর্কের ব্যাপারে আমি অত্যন্ত আশাবাদী।’

বাংলাদেশ অ্যাপারেল এক্সচেঞ্জের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তাফিজ উদ্দিন বলেন, ‘আপনি পৃথিবীর প্রতি যতœবান, আপনি দেশের প্রতি যতœবান এবং এ কারণেই আপনি আজ এখানে আছেন। আপনারা সবাই আমার অনুপ্রেরণা। ক্লাইমেট অ্যাকশন কোনো বোঝা নয়, বরং উদ্যোক্তাদের জন্য এটি একটি ব্যবসায়িক সুযোগ।’

তিনি বলেন, ‘আপনারা সবাই বাংলাদেশকে ভালোবাসেন এবং এ দেশ থেকে দারিদ্র্য ও দুর্যোগ দূর করতে চান। সস্তা শ্রম বাংলাদেশের জন্য এখন আর প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা নয়। উদ্যোক্তা হিসেবে আমরা যদি আমাদের ক্রেতাদের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রাগুলো অর্জন না করি, তাহলে আমরা সফল হতে পারব না। লক্ষ্য অর্জনের জন্য, উৎপাদনকারীদের আরও সামষ্টিক দায়িত্ব নিতে হবে এবং পারস্পরিক সহযোগিতা এবং সমর্থন প্রয়োজন।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত