পাশাপাশি মসজিদ-মন্দিরে ৫৪ বছর ধরে নামাজ-পূজা

আপডেট : ১২ অক্টোবর ২০২৪, ০২:৪৮ এএম

এক বাড়ির আঙিনায় মসজিদ ও মন্দির। সেখানে ৫৪ বছর ধরে চলছে নামাজ ও পূজা। কোনো দ্বন্দ্ব-সংঘাত নেই। হিন্দু-মুসলিম সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্তের উদাহরণ এটি। টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলা সদরের চৌধুরী বাড়ির আঙিনায় এ অসাম্প্রদায়িক পরিবেশের দেখা মিলে।

প্রতি বছরের মতো এবারও চৌধুরী বাড়িতে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মসজিদে আজান ও নামাজের সময় বন্ধ থাকছে ঢাক-ঢোলের বাদ্য। দুই ধর্মের লোকজনই নিজ-নিজ ধর্মীয় আচার ও নিয়ম পালন করে আসছে। কোনো অসুবিধা হচ্ছে না কারও।

জানা যায়, এই চৌধুরী বাড়িতে ৯২ বছর আগে বাংলা ১৩৩৯ সনে পরেশ চন্দ্র ও শৈলেশ চন্দ্র নামে দুই ব্যক্তি ওঝা ঠাকুর এবং হরনাথ স্মৃতি কেন্দ্রীয় দুর্গামন্দির প্রতিষ্ঠিত করেন। মন্দির প্রতিষ্ঠার প্রায় ৪০ বছর পর একই আঙিনায় নির্মাণ করা হয় নাগরপুর চৌধুরী বাড়ি কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ। একই স্থানে মসজিদ আর মন্দির নিয়ে কখনো কোনো দ্বন্দ্ব বা সাম্প্রদায়িক হানাহানি হয়নি। হিন্দু-মুসলিমরা যার যার ধর্ম পালন করে আসছে।

মন্দির কমিটির সভাপতি লিটন কুমার সাহা বলেন, ‘এই মন্দিরটি বহু বছরের পুরনো। পাশেই মসজিদ ও মন্দির। হিন্দু, মুসলমানরা যার যার ধর্ম পালন করছে। পূজার সময় মুসলিম ভাইয়েরা আমাদের সহযোগিতা করেন। এখানে আজ পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। আশা করি, কখনো ঘটবেও না।’

নাগরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) দীপ ভৌমিক বলেন, ‘বাংলাদেশ একটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। এর একটা উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত চৌধুরী বাড়ি। পাশাপাশি মসজিদ ও মন্দির। মুসলমানরা নামাজের সময় নামাজ আদায় করছেন, হিন্দুরা পূজার সময় পূজা করছেন। বিগত বছরের মতো এ বছরও সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে পূজা উদযাপিত হচ্ছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত