বিকল্প সড়ক না রেখে এক সঙ্গে সব রাস্তার উন্নয়ন কাজ শুরু করায় দুর্ভোগের সীমা নেই রাজধানীর দক্ষিণ খান ও উত্তরখানের বাসিন্দাদের। সড়ক খুঁড়ে দীর্ঘ দিন ফেলে রাখায় বৃষ্টি ও ড্রেনের পানিতে ভোগান্তির চরম সীমায় এই দুই এলাকার ৭টি ওয়ার্ডের বাসিন্দারা। কোনো রোগীকে অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নেওয়ার রাস্তা রাখা হয়নি। রাস্তার মধ্যে অন্তঃসত্ত্বা নারীর সন্তান প্রসবের মতো মর্মান্তিক ঘটনাও ঘটেছে।
ওই দুই এলাকার বাসিন্দারা বলেন, এখানে যে কয়েকটি ক্লিনিক রয়েছে সেখানে ডাক্তার আসতে না পারায় প্রায় বন্ধ চিকিৎসাসেবা।
এই দুর্ভোগের অবসান চেয়ে গতকাল শুক্রবার এলাকার সাধারণ নাগরিকরা মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন। দক্ষিণ খান বাজারে আয়োজিত মানববন্ধনে ‘অসুস্থ রোগী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার রাস্তা চাই’, ‘ড্রেনের পানিতে সাঁতার কাটতে চাই না, এই ভোগান্তির শেষ কবে’ এমন স্নোগান সংবলিত ব্যানার ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড নিয়ে অংশ নেন হাজারো মানুষ।
মানববন্ধনে সাত দফা দাবি তুলে ধরে বক্তারা বলেন, দ্রুত সমস্যার সমাধান না হলে উত্তর সিটি করপোরেশন কার্যালয় ঘেরাও করবেন এলাকার বাসিন্দারা।
কর্মসূচিতে দক্ষিণখান উত্তরখান সচেতন নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক ইয়াছিন রানা বলেন, ২০১৬ সালে এই এলাকা ঢাকা উত্তর সিটির আওতায় আসার পর থেকে উন্নয়ন কাজ বন্ধ ছিল। সিটি নির্বাচনের ছয় বছর পরে এসেও এখানের চিত্র বদলায়নি। বৃষ্টি হলেই পুরো এলাকা তলিয়ে যায়, হাঁটার মতো অবস্থা থাকে না। সড়ক খনন নীতিমালা না মেনে সব রাস্তা এক সঙ্গে কাটায় স্বাভাবিকভাবে মানুষ যাতায়াত করতে পারে না। অফিস করতে উত্তরা বা বিমানবন্দর যেতে রীতিমতো যুদ্ধ করতে হয়, কয়েক কিলোমিটার রাস্তা হেঁটে যেতে হয়।
১০ টাকার অটো ভাড়া ৫০ টাকা নেওয়া হয় জানিয়ে তিনি বলেন, অনেক এলাকায় কোনো গাড়িই চলাচলের সুযোগ নেই। বৃষ্টি হলেই রিকশা চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
ইয়াছিন রানা আরও বলেন, গত বুধবার দক্ষিণ খান বাজারে ঈদগাহ মাঠের সামনে একজন গর্ভবতী নারী হেঁটে ক্লিনিকে যাওয়ার সময় রাস্তায় সন্তান প্রসব করেছেন। রোগীদের হাসপাতালে নিতে অ্যাম্বুলেন্স আসা-যাওয়ার মতো অবস্থাও নেই।
তার ভাষ্য, এ এলাকায় সিটি করপোরেশনের কেউ পরিদর্শনেও আসেন না। তারা উত্তরা, গুলশান, মিরপুরেই শুধু পরিদর্শন করেন। তিনি মনে করেন, উত্তরা, গুলশানের বাসিন্দাদের এ গ্রেডের নাগরিক আর দক্ষিণখান ও উত্তরখানের বাসিন্দাদের সি গ্রেডের নাগরিক হিসেবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে। কেন এটা করা হচ্ছে তা স্পষ্ট করতে হবে সিটি করপোরেশনকে।
মানববন্ধনে ৭টি দাবি তুলে ধরেন দক্ষিণখান উত্তরখান সচেতন নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক ইয়াছিন রানা। দাবিগুলোর মধ্যে আছেÑ দ্রুত উন্নয়ন কাজের গতি যেকোনো উপায়ে হোক বাড়াতে হবে, জরুরি চলাচলের জন্য প্রয়োজনীয় রাস্তাগুলো অগ্রধিকার ভিত্তিতে চলাচল উপযোগী করতে হবে, যেসব রাস্তার কাজ শুরু হয়েছে সেগুলোর একটি সময়সূচি দিয়ে দিতে হবে, কত দিনের মধ্যে কাজ শেষ হবে প্রত্যেক রাস্তায় তা লিখে টাঙিয়ে দিতে হবে।
মানববন্ধনে সাবেক দক্ষিণখান ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খলিল মোল্লা বলেন, ‘আমাদের দুর্ভোগ ভোগান্তি নিয়ে উত্তর সিটি করপোরেশনের কোনো মাথা ব্যথা আছে বলে মনে হয় না। না হয় ভোগান্তি নিরসন হচ্ছে না কেন।’
আনোয়ার হোসেন নামের এক বাসিন্দা ড্রেনের পাইপ বসানোর পর কিউরিংয়ের জন্য ২৯ দিন রাখার কথা থাকলেও চার থেকে পাঁচ মাস এভাবেই ফেলে রাখা কোন নিয়মের মধ্যে পড়ে তা জানতে চান।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আমার বাবার ব্রেন স্ট্রোক হওয়ার পর অ্যাম্বুলেন্স আনতে পারিনি। মোটরসাইকেলে দুজনের মধ্যে বসিয়ে তাকে হাসপাতালে নিয়েছিলাম কিন্তু বাঁচাতে পারিনি।’
মুক্তাদির মুন বলেন, আমার বাবা অসুস্থ হওয়ার পর আমরা দুই ভাই কোলে করে, কিছু রাস্তা রিকশায় করে কসাই বাড়ি রেললাইন পার হই। এরপর উত্তরায় হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান।’
