পুরান ঢাকার তাঁতীবাজারে পূজামন্ডপে ছিনতাইকারীদের ‘পেট্রোল বোমা’ নিক্ষেপ ও হামলার ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবিতে সড়ক অবরোধ করেছেন স্থানীয়রা। গতকাল শনিবার দুপুরে তাঁতীবাজার-নয়াবাজার গোলচত্বর এলাকায় তারা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। এতে ঢাকা-মাওয়া সড়ক, সদরঘাট রোডসহ আশপাশের এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
গত শুক্রবার রাতে তাঁতীবাজারে একটি পূজামন্ডপের পাশে ‘ছিনতাইয়ের’ ঘটনা ঘটে। তখন লোকজন ছিনতাইকারীদের ধাওয়া করলে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে দুর্বৃত্তরা। এতে পাঁচজন আহত হন। একপর্যায়ে দুর্বৃত্তরা মন্ডপ লক্ষ্য করে পেট্রোল বোমাসদৃশ বোতল নিক্ষেপ করে পালিয়ে যায়। তবে সেটি বিস্ফোরিত হয়নি। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে জড়িত সন্দেহে তিনজনকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে।
ওই ঘটনার খবরে রাতেই পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। রাতেই আহতদের দেখতে হাসপাতালে যান তথ্য উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম। তিনি ওই রাতেই পূজাম-প পরিদর্শন করেন।
এদিকে শুক্রবার রাতের ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে গতকাল সড়ক অবরোধ করেন স্থানীয় লোকজন। তারা অবিলম্বে ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার করে শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া বাবুল বণিক ও লিটন দাস নামে দুজন বলেন, এটি কী শুধুই ছিনতাই নাকি ঘটনার পেছনে অন্য কিছু রয়েছে তা বের করতে হবে। মন্ডপে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপকারী মূলহোতাকে গ্রেপ্তার করলে সব বেরিয়ে আসবে। তবে পুলিশ তিনজনকে গ্রেপ্তারের কথা জানালেও মূলহোতাকে এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি।
এ বিষয়ে শনিবার সন্ধ্যায় কোতোয়ালি থানায় ওসি মু. এনামুল হাসান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ঘটনাটি পেশাদার ছিনতাইকারীরা ঘটিয়েছে। গ্রেপ্তার তিনজনের মধ্যে দুজনের বিরুদ্ধে আগেও ছিনতাইয়ের মামলার তথ্য মিলেছে। ঘটনায় জড়িত অন্যদেরও চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। ওসি আরও বলেন, এ ঘটনায় মন্ডপের পক্ষ থেকে মামলা করার কথা থাকলেও কোনো মামলা হয়নি। আহতদের সঙ্গে কথা বলে রবিবার (আজ) মামলা করা হবে।
এদিকে গ্রেপ্তার তিনজনকে গতকাল আদালতে হাজির করে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হয়েছে। রবিবার (আজ) রিমান্ড শুনানির দিন ধার্য রয়েছে। তাদের রিমান্ডে পাওয়া গেলে জিজ্ঞাসাবাদে বিস্তারিত বেরিয়ে আসবে বলেও জানান কোতোয়ালি থানায় ওসি এনামুল হাসান।
