খালে দেয়াল তুলে মাছ চাষ

আপডেট : ১৪ অক্টোবর ২০২৪, ০২:০০ এএম

কুমিল্লার লাকসাম ও মনোহরগঞ্জ দুই উপজেলার সীমান্তবর্তী নাড়িদিয়া এলাকায় ঘাগরিয়া খালের সেতুর নিচে ইটের দেয়াল তুলে মাছ চাষ করছে রুপালি মৎস্য চাষ কমিউনিটি এন্টারপ্রাইজ নামে একটি প্রতিষ্ঠান। এতে করে খালে পানিপ্রবাহ বন্ধ হয়ে গেছে। একই সঙ্গে বন্ধ হয়ে গেছে নৌ-চলাচল। আর পানি প্রবাহ বন্ধ থাকায় জলাবদ্ধতার কারণে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে লাকসাম ও মনোহরগঞ্জ উপজেলার প্রায় ৫০০ পরিবার ।

এলাকাবাসী বলছে, প্রকল্পের নামে মাছ চাষ করছেন গোবিন্দপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন শামীম, সাবেক চেয়ারম্যান মোবারক মজুমদার, ইমাম হোসেনসহ ১৫০ জন প্রভাবশালী। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে তারা সবাই আত্মগোপনে। ভুক্তভোগী কয়েকজন জানান, সম্প্রতি বন্যায় মেল্লা, নাড়িদিয়া, আঙ্গারিয়া ও দোখাইয়া গ্রামের সড়ক এবং ঘরবাড়ি পানিতে ডুবে যায়। প্রায় মাস পেরিয়ে গেলেও সেই পানি পুরোপুরি নামেনি। এসব এলাকার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া খালবিলের কালভার্টের মুখ বন্ধ করে প্রায় ১০৫ কানি (১২ হাজার ৬০০ শতাংশ) জমিতে মাছ চাষ করায় রুপালি মৎস্য চাষ কমিউনিটি এন্টারপ্রাইজের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের কাছে তারা মৌখিক অভিযোগ করেছেন। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মাছ চাষের জন্য এই সেতুর নিচে তিন-চার মাসে আগে ইটের দেয়াল তুলে ও লোহার বেড়া দিয়ে স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়। সম্প্রতি বন্যার পানিতে ডুবে গেছে মেল্লা, নাড়িদিয়া, আঙ্গারিয়া ও দোখাইয়া গ্রামের শত শত বসতবাড়ি ও বিভিন্ন গ্রামীণ সড়ক।

ব্রিজের নিচে বাঁধ দিয়ে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ করায় ক্ষতির মুখে পড়েছেন প্রায় ৫০০ পরিবারের লোকজন। ভুক্তভোগীরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাছে মৌখিক অভিযোগ করলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। গত ৯ অক্টোবর ভুক্তভোগী ও স্থানীয় বাসিন্দারা লোহার বেড়া অপসারণের সময় প্রকল্পের লোকজন বাধা দিলে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।

ভুক্তভোগী ইয়াকুব আলী, সিরাজ মিয়া, ফারুক, দুলাল, হাবিবুর রহমান, সোলাইমান, বজু মিয়া, নাজমুল, আজিম,আবু সায়েদসহ বেশ কয়েকজন কৃষক জানান, ইউপি চেয়ারম্যান, ইউপি সদস্য, স্থানীয় প্রভাবশালী ও তাদের সহযোগীরা ব্রিজের নিচে দেয়াল তুলে খালের পানিপ্রবাহ বন্ধ করে জোরপূর্বক অবৈধভাবে মাছ চাষ করছেন। দেয়ালের কারণে বন্যার পানি নামতে না পারায় শত শত পরিবার পানিবন্দি হয়ে আছে। একই কারণে নৌকা চলাচল করতে না পারায় এলাকাবাসী মেল্লা, নাড়িদিয়া, আঙ্গারিয়া ও দোখাইয়া বিলে মাছ ধরতে এবং শাপলা তুলতে পারছেন না।

এ ব্যাপারে রুপালি মৎস্য চাষ কমিউনিটি এন্টারপ্রাইজ প্রকল্পের পরিচালক আবদুল মান্নান বলেন, ‘এলাকার সবার মতামতে ব্রিজের মুখে লোহার খাঁচা তৈরি করা হয়েছে, যাতে পানি চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না হয়। এতে দোষের কিছু আছে বলে মনে হয় না। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিয়ম অত জানা নেই। কিছু লোক এর বিরোধিতা করছে। তবে বেশিরভাগ লোকে মাছ চাষে সম্মতি দিয়েছে।’

প্রকল্পের সাধারণ সম্পাদক লিটন বলেন, ‘স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান, মেম্বার ও এলাকার কিছু লোক একত্র হয়ে প্রকল্পটি শুরু করেন। ৫ আগস্ট হাসিনা সরকারের পতনের পর স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা আত্মগোপন থাকায় প্রকল্পটি চরম সংকটে পড়ে। পরে এটি সঠিকভাবে পরিচালনা করতে স্থানীয় লোকজন আমাকে এ পদে দায়িত্ব দিয়েছে।’ লাকসাম উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. শওকত আলী বলেন, ‘পানি বন্ধ করে মাছ চাষ করা যাবে না। তবে ওখানে নেট দেওয়া আছে। তারপরও আমরা সরেজমিন দেখব পানি বন্ধ রয়েছে কি না। পানি চলাচল বন্ধ থাকলে খুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে।’ লাকসাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল হাই সিদ্দিকী বলেন, ‘ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখেছি। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত