দেশের সর্ব-উত্তরের জেলাগুলো কুয়াশায় ঢাকা পড়তে শুরু করেছে। বাংলা মাসের আশ্বিনের শেষে এসে এমন ঘন কুয়াশা শীতের আগমনী বার্তা দিচ্ছে এ অঞ্চলের আবহাওয়া। দিন দিন তাপমাত্রাও কমছে। গতকাল রবিবার কুয়াশার কারণে নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দরে উড়োজাহাজের দুটি ফ্লাইট অবতরণে দেরি হয়েছে। সকাল ৮টার দিকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ও এয়ার অ্যাস্ট্রার একটি ফ্লাইট এখানে অবতরণের শিডিউল ছিল, যা নির্ধারিত সময়ের তিন ঘণ্টা পর অবতরণ করে।
এ স¤পর্কে সৈয়দপুর বিমানবন্দর ব্যবস্থাপক এ কে এম বাহাউদ্দিন জাকারিয়া দেশ রূপান্তরকে জানান, সকালে হঠাৎ সৈয়দপুরের আকাশে কুয়াশা দেখা দেয়। এ কারণে ভেজিবিলিটি (দৃষ্টিসীমা) অনেক কমে যায়। বিমান বাংলাদেশের নির্ধারিত একটি ফ্লাইট ও বেসরকারি বিমান সংস্থা এয়ার অ্যাস্ট্রার একটি ফ্লাইট ঢাকা থেকে রওনা হয়নি। আকাশ পরিষ্কারের পর দুটি ফ্লাইট বেলা ১১টার পর অবতরণ করে।
সৈয়দপুর আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা লোকমান হাকিম জানান, এই জনপদে তাপমাত্রা কমে সকাল ও রাতে শীত অনুভূত হচ্ছে। গতকাল রবিবার সকালে হঠাৎ করে আকাশ কুয়াশায় ছেয়ে যায়। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কুয়াশা দূর হয়ে যাচ্ছে।
এদিকে উত্তরাঞ্চলের রংপুর বিভাগের আট জেলার শহর বন্দর গ্রামে সবুজ আমন ধানের ডগায় ও সবুজ প্রকৃতির চা পাতার বাগানগুলোয় শিশিরবিন্দু ঝরছে। ভোরের আলোয় চকচক করছে শিশিরবিন্দু। কয়েক দিন ধরে হালকা কুয়াশার আভাস দেখা গেলেও গতকাল কুয়াশা ছিল বেশ ঘন।
আবহাওয়া অফিস জানায়, ভোর ৬টায় উত্তরের পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় দেশে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ২৩ দশমিক ২ ডিগ্রি। এরপরেই ছিল দিনাজপুর ও নীলফামারীর সৈয়দপুরে ২৫ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
স্থানীয়রা জানান, উত্তরের বিশেষ করে ভারতের পাহাড়ি সীমান্ত সঙ্গে পঞ্চগড়, নীলফামারী, লালমনিরহাট, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর ও রংপুর হিমালয়-কাঞ্চনজঙ্ঘার সন্নিকটে থাকায় এ অঞ্চলে শীতের আগমন ঘটে আগেই। হিমালয়ের প্রবহমান হিমেল হাওয়া আর ঘন কুয়াশার চাদরে ঢেকে যাওয়ায় দেখা মিলছে দোরগোড়ায় শীত। আবহাওয়াবিদদের মতে, আশি^ন মাসে মৌসুমি বায়ু কম সক্রিয় থাকায় এবং উত্তরীয় বায়ুর কিছুটা প্রভাব থাকায় শেষ রাতে শীত নেমে এলে ঠা-া অনুভূত হয়।
পঞ্চগড়ের শালবাহানহাট এলাকার মতি মিয়া ও বাংলাবান্ধা এলাকার হারুন আর রশিদ বলেন, ‘ভোর থেকেই ঘন কুয়াশা দেখছি। তবে শীত নেই। মনে হচ্ছে শীত এবার তাড়াতাড়ি নামবে। এ ছাড়া তিস্তা নদীর তীরেও ঘন কুয়াশায় ঢাকা ছিল।’
পরিবেশ ও জলবায়ুকর্মী মাহমুদুল ইসলাম মামুন বলেন, ‘উত্তরে শেষ আশ্বিনেই পৌষের কুয়াশা। এ যেন জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াল অশনিসংকেত! তবু মানুষের পরিমিতিবোধে নেই, সবুজায়ন সৃজনে আগ্রহ নেই। তাই সবাইকে পরিবেশ ও জলবায়ু নিয়ে ভাবতে হবে, সচেতন হতে হবে।’
