জাহাজে আগুন

পুড়ে অঙ্গার হয়েছে ‘সোফিয়া’

আপডেট : ১৪ অক্টোবর ২০২৪, ০৮:২০ পিএম

পুড়ে অঙ্গার হয়ে গেছে এলপিজিবাহী লাইটার (ছোটো জাহাজ) সোফিয়া। গত শনিবার রাত একটায় আগুন লাগার ৩৬ ঘণ্টা পর আজ সোমবার (১৪ অক্টোবর) দুপুর ১টার দিকে আগুন পুরোপুরি নিভলো। তবে নেভার পর বিকাল ৫টার দিকে জাহাজের নাবিকরা জাহাজে প্রবেশ করে। এদিকে আজ বিকেলে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ গঠিত তদন্ত কমিটির সদস্যরা আগুনে পুড়ে যাওয়া জাহাজটি দেখতে গিয়েছিলেন তদন্তের অংশ হিসেবে।

লাইটার জাহাজ সোফিয়ার পাশে থাকা অপর লাইটার জাহাজ চাতকির ক্যাপ্টেন ফরমান উল্লাহ আনসারী দেশ রূপান্তরকে বলেন,‘ দুপুর একটার দিকে আগুন নিভে যাওয়ার পর আগুনের ধোঁয়া বের হয়ে যাওয়ার জন্য কয়েক ঘণ্টা সময় দেওয়া হয়েছে। এরপর বিকাল প্রায় ৫টার দিকে উদ্ধারকারী টাগবোট ‘তুফানে’ করে নাবিকরা সেই জাহাজে যায়।’ এদিকে ছবিতে দেখা যায়, জাহাজটির প্রায় সব অংশই পুড়ে গেছে।

মাদার ভেসেল ক্যাপ্টেন নিকোলাস থেকে ৩ হাজার ৩০০ এলপিজি লোড করার পর হোসপাইপ খোলার সময় নিকোলাসে আগুন লাগে। সেই আগুন রশির সাহায্যে লাইটার জাহাজ সোফিয়ায় চলে আসে। পরবর্তীতে রশি কেটে দিলে দুটো জাহাজ পৃথক হয়ে যায়। নিকোলাসে লাগা আগুন জাহাজের নিজস্ব অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা দিয়ে নেভালেও সোফিয়ার আগুন নেভানো যায়নি। সোফিয়ার ৩১ নাবিক সাগরে ঝাপ দেয়। পরে উদ্ধারকারী দল নাবিকদের উদ্ধার করে। এই গ্যাস ছিল এস আলমের মেয়ের জামাইয়ের কোম্পানি ইউনিট্যাক্স এলপিজি কোম্পানির।

আমদানিকারক সূত্রে জানা যায়, মাদার ভেসেলে থাকা ৪২ হাজার ৯২৫ মেট্রিক টন এলপিজির মধ্যে যমুনা এলপিজির ২০ হাজার মেট্রিকটন, ইউনিট্যাক্সের ১০ হাজার, বগুরার টিএমএসএসের ৬ হাজার, এনার্জিপ্যাকের ৩ হাজার ৩০০ ও বিএম এনার্জির ৩ হাজার ৬২৫ মেট্রিকটন এলপিজি রয়েছে।

এদিকে ক্যাপটেইন নিকোলাস ও এলপিজি সোফিয়ায় সংগঠিত অগ্নিকান্ডের কারণ অনুসন্ধানে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধে সুপারিশ প্রণয়নে নয় সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। চট্টগ্রাম বন্দর কতৃর্পক্ষের সদস্য (হারবার ও মেরিন) কমডোর এম ফজলার রহমানকে আহ্বায়ক করে গঠিত কমিটিতে বন্দরের উপ-সংরক্ষক ফরিদুল আলম, নৌ বাহিনী, কোস্ট গার্ড, ডিজিএফআই, এনএসআই, নৌ বাহিনী, ফায়ার সার্ভিসের প্রতিনিধি ও কন্ট্রোলার অব মেরিটাইম এডুকেশনের ক্যাপ্টেন সাঈদ আহমেদ রয়েছেন।

সাগরে এলপিজি গ্যাস স্থানান্তর খুব ঝুঁকিপূর্ণ। পানির ঢেউ কেমন, বাতাসের গতিবেগ, তাপমাত্রা সকল কিছু বিবেচনা করে শিপ টু শিপ পদ্ধতিতে গ্যাস ট্রান্সফার করা হয়ে থাকে। এছাড়া রাতের বেলা গ্যাস ট্রান্সফার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তাহলে গতকাল রাতে কিভাবে ট্রান্সফার করা হচ্ছিল।

এ বিষয়ে অপর এক লাইটার জাহাজের ক্যাপ্টেন জানান, দিনের আলোতে দুই জাহাজের হোস পাইপ (যা দিয়ে গ্যাস ট্রান্সফার হবে) সংযুক্তকরনণের পর রাত পর্যন্ত তা ট্রান্সফার করা যাবে। তবে রাতে নতুন করে হোসপাইপ লাগানো যাবে না।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত