গুলিতে আহত ছেলের পাশে বাবা-মা ৭০ দিন হাসপাতালে

আপডেট : ১৫ অক্টোবর ২০২৪, ০১:০৫ এএম

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে যোগ দিয়ে নারায়ণগঞ্জে পুলিশের গুলিতে আহত হয়েছিলেন শিক্ষার্থী জুবায়ের হোসাইন। পুলিশের বেধড়ক পিটুনিতে বাম পা প্যারালাইজড হয়ে গেছে। একই সঙ্গে গুলিতে পেটের খাদ্যনালিও ফুটো হয়ে গেছে। একাধিকবার অপারেশন হলেও ক্ষতস্থানে ইনফেকশন হয়েছে। ৭০ দিন ধরে চিকিৎসাধীন থাকা জুবায়ের রয়েছে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। একমাত্র সন্তানকে বাঁচাতে জীবনযুদ্ধে নেমেছেন বাবা-মা। ছেলেকে সুস্থ করে তুলতে ছেলের সঙ্গে ঘরছাড়া রয়েছেন তারাও। হাসপাতালই যেন তাদের বসতবাড়িতে পরিণত হয়েছে।

আহত জুবায়েরের মা মালিহা ইসলাম বলেন, ‘গত ৪ আগস্ট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ বাধে। এ সময় পুলিশ জুবায়েরকে বেধড়ক লাঠিপেটা করার পর গুলি করে। পরে শিক্ষার্থীরা জুবায়েরকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু ওর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে ঢাকা মেডিকেলে রেফার করে। বিকেলে জুবায়েরকে অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকায় নেওয়ার কথা শুনে তারাও ঢাকায় আসেন। জুবায়েরকে ঢাকা মেডিকেলে নেওয়া হলেও তাৎক্ষণিক কোনো চিকিৎসা হয়নি। পরদিন ৫ আগস্ট চিকিৎসকরা জানান, গুলিতে জুবায়েরের খাদ্যনালি ফুটো হয়ে যাওয়ায় অপারেশন করতে হবে।’

তিনি আরও জানান, পুলিশের বেধড়ক পিটুনিতে পাঁজরের হাড় গুঁড়ো হয়ে যাওয়ায় এখনো বসতে পারে না। বাম পাশ অবশ হয়ে গেছে। পরে পেটে ইনফেকশন হওয়ায় আবার অপারেশন করা হয় ২১ আগস্ট। এ ছাড়া হাতে গুলি লাগার স্থানেও ইনফেকশন দেখা দেয়। অবস্থা আরও খারাপ হওয়ায় গত ২২ আগস্ট সিএমএইচে পাঠানো হয়। সেখানে গত ১৫ সেপ্টেম্বর আরও দুটি অপারেশন হয়। হাতের ক্ষতস্থানেও প্লাস্টিক সার্জারি করা হয়। তবে গত সপ্তাহে পেটের ভেতরে আবার ইনফেকশন হয়ে শারীরিক অবস্থা খারাপ হওয়ায় চার দিন লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল। ক্ষতস্থান থেকে অনেক দূষিত রক্ত ও পুঁজ বের করা হয়েছে।

মালিহা বলেন, ‘আমার স্বামী গাড়ি চালাতেন কিন্তু গত ৪ আগস্ট থেকে আমাদের দিন কাটছে হাসপাতালে। সেদিন থেকেই ঘরছাড়া হয়েছি। চিকিৎসার খরচ জোগাতে গিয়ে অনেক টাকা ঋণ হয়ে গেছে। এখন হাসপাতালই যেন আমাগো বাড়িঘর। অনেক দিন হইছে বাইরের আলো দেখি না।’

জুবায়েরের বাবা জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, তিনি ঢাকায় একটি লোকাল গাড়ি চালিয়ে সংসার চালাতেন। তবে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন শুরু হওয়ার পর থেকে কাজ ছিল না। ঢাকা মেডিকেলে ছেলের চিকিৎসা করাতেই প্রায় আড়াই লাখ টাকা খরচ হয়েছে। ৭০ দিন ধরেই হাসপাতালে অবস্থান করছেন তারা।

তিনি আরও জানান, সিএমএইচে সরকারি খরচে চিকিৎসা চললেও প্রতিদিন তাদের ও সন্তানের খাবার বাবদ দেড় হাজার টাকার বেশি খরচ হচ্ছে। তাদের খাবার ছাড়াও সন্তানের জন্য প্রতিদিন ৭০০-৮০০ টাকার ফল কিনতে হচ্ছে। বর্তমানে খরচ জোগাতে তারা হিমশিম খাচ্ছেন। সরকারিভাবে তাদের এক লাখ টাকা সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সেটা কবে পাবেন তারা জানেন না। এ অবস্থায় তিনি চোখেমুখে অন্ধকার দেখছেন। জুবায়েরের চিকিৎসা সহযোগিতায় বিত্তবানদের এগিয়ে আসার জন্য অনুরোধ জানান তিনি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত