জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের প্রথম বৈঠক

২ মাসে কাঠামো ৩ মাসের মধ্যে প্রতিবেদন

আপডেট : ১৫ অক্টোবর ২০২৪, ০৩:১৪ এএম

প্রশাসন সংস্কারে অগ্রাধিকারের বিষয়গুলো ঠিক করতে এক মাস সময় লাগবে। দুই মাস পর একটা কাঠামো বা রূপরেখা দাঁড়াবে। আর তিন মাসের মধ্যে প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ সংক্রান্ত সুপারিশ দেওয়ার চেষ্টা থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের প্রধান আবদুল মুয়ীদ চৌধুরী। গতকাল সোমবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে প্রশাসনের সংস্কারের বিষয়ে এ সংক্রান্ত কমিশনের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এ আশা ব্যক্ত করেন।

এদিকে নির্বাচন কমিশন নিয়োগের আইনকে অগ্রাধিকারে রেখে নির্বাচন সংস্কার কমিশন বিদ্যমান গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশসহ যাবতীয় আইনকানুন ও বিধি পর্যালোচনা করছে বলে জানিয়েছেন কমিশনপ্রধান বদিউল আলম মজুমদার। গতকাল আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে তিনি এ কথা বলেন।

অন্যদিকে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সংস্কার আনতে কী কী করা যায়, সে বিষয়ে আগ্রহীদের কাছ থেকে পরামর্শ চেয়েছে এ বিষয়ে গঠিত সংস্কার কমিশন। সুনির্দিষ্ট পরামর্শ জানতে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত সময় দিয়েছে তারা। এজন্য একটি ইমেইল ঠিকানাও জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। গতকাল কমিশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

৩ মাসের মধ্যে প্রতিবেদনের আশা : গতকাল প্রথম বৈঠকের পর জনপ্রশাসন সংকার কমিশনের প্রধান আবদুল মুয়ীদ চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, ‘প্রশাসনের সংস্কারের বিষয়ে প্রথম বৈঠক ছিল। পরিচিতি পর্ব হয়েছে। সার্বিক বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এখন আমরা এটাকে ধীরে ধীরে প্রক্রিয়াজাত করব এবং তারপর সামনে এগিয়ে নিয়ে যাব। আগামী তিন মাসের মধ্যে করার কথা, কাজেই দুই মাস পর গিয়ে তখন সত্যিকার অর্থে একটা রূপরেখা পাব। আমাদের মধ্যে আলোচনা করতে হবে, আমরা তো এটা আলোচনা করে করেই গিয়ে যাব।’

আপনাদের কাজের মধ্যে কোন কাজটির অগ্রাধিকার বেশি এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সরকার যেটা ঠিক করে দিয়েছে, সেটাই আমাদের অগ্রাধিকার। আমাদের অগ্রাধিকার কী হবে সেটাই নির্ধারণ করতে আমাদের এক মাস যাবে। আমি সেটা আজকে কীভাবে বলব?’

মুয়ীদ চৌধুরী আরও বলেন, ‘সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আলোচনা করব ও বিভিন্ন এলাকায় যাব। জনগণের কথা শুনব। স্থানীয় যারা চাকরি করেন তাদের কথা শোনা হবে। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। এসব আলোচনা করেই আমরা প্রকৃত কাজটি শুরু করব।’

চাকরিতে তদবির আমাদের বাস্তবতা, অনেক ক্ষেত্রে ঘুষের কথাও আসে। এ বিষয়ে আপনারা কী সংস্কার আনতে চাচ্ছেন জানতে চাইলে আবদুল মুয়ীদ চৌধুরী বলেন, ‘কী করতে পারব, সেটা এখন কীভাবে বলব? আমি কি ফুঁ দিলে এখন বাংলাদেশের সব মানুষ সৎ হয়ে যাবে? আমরা নিজেরাই তো আলাপ-আলোচনা করছি। সময় লাগবে।’

নির্বাচনী বিধিবিধান পর্যালোচনা করা হচ্ছে : নির্বাচন সংস্কার কমিশনের প্রধান বদিউল আলম মজুমদার বলেছেন, ‘এখন আইনকানুন বিধিবিধান পর্যালোচনা করছি, যাতে আমাদের স্পষ্ট ধারণা হয়, যাতে সংস্কার করতে পারি।’ তিনি বলেন, ‘আমরা একটা ওয়েবসাইট তৈরি করছি। আমাদের ফেসবুক পেজ হবে, আমাদের ইমেইল হবে। সবার কাছ থেকে তথ্য, প্রস্তাব, সুপারিশ এগুলো আমরা চাইব।’

ওয়েবসাইটে কী বিষয়ে মতামত চাওয়া হবে, এমন প্রশ্নের জবাবে বদিউল আলম বলেন, ‘আমরা লাইন ধরে ধরে পর্যালোচনা করছি। সুনির্দিষ্ট কোনো কিছু নয়। যেদিন আমরা সুপারিশ সরকারের কাছে পাঠাব, সেদিন এই প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যাবে।’ তিনি বলেন, ‘সবচেয়ে বড় আইন হলো গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ। আরপিও আমরা গভীরভাবে পর্যায়ে পর্যালোচনা করছি। জাতীয় নির্বাচনের জন্য এটা মাদার অব ল। এরপর সীমানা পুনর্র্নির্ধারণ আইন আছে, ভোটার তালিকা আইন আছে, ইসি সচিবালয় আইন আছে, এ ধরনের অনেক আইন আছে। আমাদের স্থানীয় সরকার নির্বাচন আইন আছে। সেগুলো নিয়েও পর্যালোচনা করতে হবে। পর্যালোচনা করে সে বিষয়ে সুপারিশ করতে হবে। নির্বাচন পর্যবেক্ষক এমন অনেক কাজ বিস্তৃত, যেগুলো আমরা পর্যালোচনা করব।’

বিগত তিন নির্বাচনের অনিয়মের ক্ষেত্রে কী অগ্রাধিকার দেবেন? জানতে চাইলে তিনি আরও বলেন, ‘অবশ্যই যেসব অনিয়ম, ব্যত্যয় ঘটেছে, এগুলো আমরা চিহ্নিত করব। ভালো কিছু হলে সেগুলোও আমরা চিহ্নিত করব। নির্বাচনী প্রক্রিয়াটা তো একদিনের বিষয় নয়। এটা একটা সাইকেল। এই সাইকেল পর্যালোচনা করে ব্যত্যয় যা করেছে তার চিহ্নিত করে সুপারিশ করবে।’

অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করবেন কি না প্রশ্নের জবাবে নির্বাচন সংস্কার কমিশনের প্রধান বলেন, ‘আমাদের সুপারিশ থাকবে। তবে সে কথা বলার সময় এখনো আসেনি। আমরা কর্মকর্তা এবং কমিশনের বিষয়ও পর্যালোচনা করব।’

দুদক সংস্কারে পরামর্শ চায় কমিশন : দুদকের সংস্কারের বিষয়ে এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বিদ্যমান দুদককে কার্যকর, স্বাধীন ও নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় সংস্কার প্রস্তাবনার লক্ষ্যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কর্র্তৃক গঠিত দুদক সংস্কার কমিশন সবার অভিজ্ঞতালব্ধ সুনির্দিষ্ট পরামর্শ জানতে আগ্রহী। দুদক সংস্কারে করণীয় বিষয়ে পরামর্শ এই ঠিকানায় (ধপপ.ৎপ২০২৪@মসধরষ.পড়স) ৩০ অক্টোবরের মধ্যে জানাতে অনুরোধ করা হচ্ছে।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বিচারব্যবস্থা, পুলিশ, বিচার বিভাগ, দুদকসহ ছয়টি কমিশন গঠন করেছে। দুদক সংস্কার কমিশন গঠনের প্রজ্ঞাপন জারি হয় গত ৩ অক্টোবর। কমিশনকে ৯০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। এ কমিশনের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত